বরিশালে ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান ভাঙচুর, লুটপাটের অভিযোগ

বরিশাল নগরীর সাগরদি এলাকায় জমি বিরোধে এক ব্যবসায়ির দুটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ভাঙচুর, নগদ অর্থ লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে। গত রোববার ও সোমবার সকালে নগরীর সাগরদি চান্দুর মার্কেট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় ফারুক আহমেদ ও তার ছেলে ফয়সাল আহমেদের নেতৃত্বে হামলা, ভাংচুর ও লুটপাটে অংশ নেন ফিরোজ খান, আবু সালেহ ও খোকন খান নামের তিনজন। এ ঘটনায় কোতয়ালি মডেল থানায় অভিযোগ দিয়েছেন ভুক্তভোগী মাসুদ হাওলাদার।
অভিযোগে জানা যায়, রূপাতলী জেএল নং ৫৬, খতিয়ান নং ১১২৭, এস.এ. সৃজিত খতিয়ান নং ৩২৪৮, এস. এ ৫৭৬ দাগ নং এ ৫ শতকের জমির মালিক আক্কেল আলী হাওলাদার।
তার মৃত্যুর পর ঐ জমি ফারুক আহমেদ ও আবু সালেহ গং দখল করে রাখে। ওয়ারিস সূত্রে প্রতিপক্ষের দখলে থাকা জমিতে গত ৭ মাস পূর্বে দুটি ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলে ব্যবসা পরিচালনা করে আসছেন আক্কেল আলী হাওলাদারের ছেলে মাসুদ হাওলাদার। গত ২৯ অক্টোবর ও ৩০ অকেটাবর সোমবার সকালে ফারুক আহমেদ ও তার ছেলে ফয়সাল আহমেদের নেতৃত্বে ফিরোজ খান, আবু সালেহ ও খোকন খান ধারালো অস্ত্র নিয়ে মাসুদ হালদারের ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানে হামলা চালায়।
এসময় তারা দোকান ভাঙচুর চালিয়ে নগদ অর্থ লুটপাট করে নিয়ে যায় বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগি মাসুদ হাওলাদার। তিনি বলেন, হামলাকারিরা দোকানে থাকা ১ থেকে দেড় লাখ টাকার মালামাল ও নগদ ২০-২৫ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেয় ওরা।
তিনি আরো বলেন, মৃত্যুর আগে বাবা আক্কেল আলী হাওলাদারের কাছ থেকে ফারুক আহমেদ ও আবু সালেহ গং আমাদের ৫ শতক জমি কিনে রেখেছেন দাবি করে। কিন্তু আজ পর্যন্ত তারা কোন কাগজ কিংবা দলিল দেখাতে পারেনি। ক্ষমতার জোর দেখিয়ে অবৈধ ভাবে আমাদের জমি দখলে রেখেছিল তারা।
সেখানে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলায় তা ভেঙ্গে ফেলেছে ফারুক ও আবু সালেহ গংরা। এ বিষয়ে স্থানীয় কাউন্সিলরের কাছেও অভিযোগ দেয়া হয়েছে। কিন্তু প্রতিপক্ষ ফারুক ও আবু সালেহ বাহিনী কোনকর্ণপাত করে না। উল্টো ৯৯৯ নম্বরে ফোন দিয়ে পুলিশ এনে আমাকে হয়রানি করছে তারা। তাই বাধ্য হয়ে পুলিশের সহযোগিতা নিতে ফারুক আহমেদ, আবু সালেহ গংদের বিরুদ্ধে কোতয়ালি মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছি।
তবে এ অভিযোগ অস্বিকার করে ফারুক আহমেদ বলেন, কোন দোকান ভাঙচুর করা হয়নি, জমি কিনেছি কিনা তা থানা পুলিশ এবং আদালতের কাছে বলবো।
এ ব্যাপারে কোতয়ালি মডেল থানার উপ পরিদর্শক (এসআই) আরাফাত রহমান হাসান জানান, লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। অবরোধে দায়িত্বপালন করায় ঘটনাস্থলে যাওয়া হয়নি। অবরোধ শেষ হলে ঘটনাস্থলে গিয়ে বিষয়টি তদন্ত করবো।
এইচকেআর