ঘূর্ণিঝড় হামুন: সন্ধ্যার মধ্যে দুর্গা পূজার প্রতিমা বিসর্জন দেয়ার আহবান

বাংলাদেশের উপকূলের দিকে ক্রমশ ধেয়ে আসছে ঘূর্ণিঝড় ‘হামুন’। আবহাওয়া অধিদপ্তরের সর্বোশেষ পূর্বাভাসের তথ্যানুযায়ী ঘূর্ণিঝড় হামুন বর্তমান অবস্থান থেকে আরও উত্তর-উত্তরপূর্ব দিকে অগ্রসর হয়ে বুধবার (২৫ অক্টোবর) সকাল থেকে দুপুর নাগাদ ভোলার নিকট দিয়ে বরিশাল-চট্টগ্রাম উপকূল দিয়ে অতিক্রম করতে পারে।
এদিকে সন্ধ্যার মধ্যে দুর্গা পূজার প্রতিমা বিসর্জন দেয়ার জন্য স্ব স্ব জেলা প্রশাসককে নির্দেশনা দিয়েছেন বরিশালের বিভাগীয় কমিশনার শওকত আলী।
ঘূর্ণিঝড় হামুন কে কেন্দ্র করে সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে মঙ্গলবার (২৪ অক্টোবর) বিকেল ৩ টায় বিভাগীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সভায় এই নির্দেশনা দেন তিনি। এ সময় তিনি বলেন বিভাগের সকল সরকারি কর্মকর্তা কর্মচারীদের ছুটি বাতিল করা হয়েছে। সেইসঙ্গে মেডিকেল টিম গঠন ও কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে। যথেষ্ট অর্থ, চালসহ শুকনো খাবার, ত্রাণ সামগ্রিও প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
বরিশাল জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সভাকক্ষে সভায় জেলা প্রশাসক মোঃ শহিদুল ইসলাম জানান, জান-মালের ক্ষতি এড়াতে এরইমধ্যে জনগণকে সচেতন করার কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে। সেইসঙ্গে বরিশাল জেলার ৫৪১ টি আশ্রয় কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
এদিকে উপকূলীয় এলাকার সাগর ও নদী তীরবর্তী অঞ্চলে সর্তকর্তামূলক প্রচারণা চালাচ্ছে ঘূর্ণিঝড় প্রস্তুতি কর্মসূচি (সিপিপি) ও বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি (বিডিআরসিএস) এর সেচ্ছাসেবকরা।
যদিও ঘূর্ণিঝড় প্রস্তুতি কর্মসূচি (সিপিপি) বরিশালের আঞ্চলিক কার্যালয়ের উপ-পরিচালক মোঃ শাহাবুদ্দিন মিয়া জানিয়েছেন, দিনের বেলা হওয়ায় বর্তমানে বরিশাল বিভাগের ১ হাজার ৮৪৫ টি সাইক্লোন সেল্টারে কেউ আশ্রয় নেয়ার খবর নেই। তবে আবহাওয়ার অবনতি ঘটলে সন্ধ্যার মধ্যেই আশ্রয়কেন্দ্রে ঝূকিপূর্ণ এলাকার মানুষদের নিয়ে আসার জোড়ালো কার্যক্রম চালানো হবে।
তিনি বলেন, যে কোন ধরনের উদ্ধার কাজে বরিশাল বিভাগের ৫ জেলায় ৩২ হাজার ৫ শত জন সেচ্ছাসেবক প্রস্তুত রয়েছেন।
এছাড়া বিভাগে বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি (বিডিআরসিএস) এর দেড়হাজারের অধিক সেচ্ছাসেবক প্রস্তুত রয়েছে।
এদিকে বৃষ্টি না হলেও বরিশালের আকাশে মেঘ ও মৃদু বাতাস বইছে। নদ-নদীতে পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। বৈরি আবহাওয়ার কারণে সকাল সাড়ে ১০ টা থেকে অভ্যন্তরীণ রুটের লঞ্চ চলাচল বন্ধ রয়েছে। তবে আকস্মিক লঞ্চ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় যাত্রীরা পড়েছেন বিপাকে।
এইচকেআর