এমপিকে শোকজ করে বেকায়দায় বানারীপাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগ

বরিশাল-২ আসনের সংসদ সদস্যকে সাংগঠনিকভাবে শোকজ করে বেকায়দায় পড়েছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক। দলের হাইকমান্ডকে না জানিয়ে সংসদ সদস্যকে শোকজ করায় তাদের দুজনকে ভৎর্সনার পাশাপাশি পাল্টা শোকজ করেছে জেলা আওয়ামী লীগ।
আগামী সাত দিনের মধ্যে শোকজের জবাব দিতে বলা হয়েছে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও উপজেলা চেয়ারম্যান গোলাম ফারুক এবং সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদের সদস্য মাওলাদ হোসেন সানাকে।
মঙ্গলবার বরিশাল জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সংসদ সদস্য আলহাজ আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ’র সভাপতিত্বে সংগঠনের কার্যনির্বাহী কমিটির জরুরি সভায় তাদেরকে ভৎর্সনার পাশাপাশি শোকজের সিদ্ধান্ত হয়।
বরিশাল জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট তালুকদার মো. ইউনুস স্বাক্ষরিত নোটিশে তাদের শোকজের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। তাছাড়া শোকজ নোটিশ পাওয়ার কথা স্বীকার করেছেন বানারীপাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মাওলাদ হোসেন সানা।
এর আগে গত ৩ অক্টোবর স্বাক্ষরিত চার পাতার একটি নোটিশে উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য ও বরিশাল-২ আসনের সংসদ সদস্য শাহে আলমের বিরুদ্ধে সংগঠন বিরোধী ১৭টি অভিযোগ তুলে শোকজ করে উপজেলা আওয়ামী লীগ। নোটিশে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি গোলাম ফারুক ও সাধারণ সম্পাদক মাওলাদ হোসেন সানার স্বাক্ষর রয়েছে।
এ নিয়ে মঙ্গলবার বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়। বিষয়টি নজরে আসলে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ’র সভাপতিত্বে সংগঠনের জরুরি সভা অনুষ্ঠিত হয়। এসময় জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক তালুকদার মো. ইউনুসসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। ওই সভায় সংসদ সদস্যকে শোকজের বৈধতা জানতে চেয়ে উপজেলা আওয়ামী লীগকে পাল্টা শোকজের সিদ্ধান্ত হয়।
জেলা আওয়ামী লীগের দেয়া শোকজ নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে, ‘বরিশাল জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আলহাজ আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ ও সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট তালুকদার মো. ইউনুস এই মর্মে আপনাদের (উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক) জানাচ্ছি যে, ১৭/১০/২০২৩ ইং তারিখে পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদের মাধ্যমে জানতে পারি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ বানারীপাড়া উপজেলা শাখার সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক আপনারা বরিশাল-২ আসনের জাতীয় সংসদ সদস্য জনাব মো. শাহে আলমকে বিভিন্ন কারণ উপস্থাপন করে শোকজ করেছেন।
জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে অবহিত না করে কোন ক্ষমতা বলে আপনারা একজন সংসদ সদস্যকে শোকজ করেছেন, তা অত্র নোটিশ প্রাপ্তির সাত দিনের মধ্যে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক বরাবর এর ব্যাখ্যাসহ লিখিতভাবে জানাবেন।
অন্যথায় সংগঠনের শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে আপনাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’বানারীপাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে দেয়া শোকজ নোটিশের অনুলিপি কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদককে দেয়া হয়েছে।
এ প্রসঙ্গে বানারীপাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি গোলাম ফারুককে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি। তবে সাধারণ সম্পাদক মাওলাদ হোসেন সানা শোকজ নোটিশ পাওয়ার বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, ‘আমরা কোন সংসদ সদস্যকে শোকজ করিনি। আমরা উপজেলা আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী সদস্য শাহে আলমকে শোকজ করেছি। গঠনতন্ত্রে এই ক্ষমতা আমাদের দেয়া আছে।
এমপি শাহে আলম আওয়ামী লীগের সদস্য হলেও তিনি একজন সংসদ সদস্য, জেলা আওয়ামী লীগকে অবহিত না করে তাকে শোকজ কোন ক্ষমতা বলে করা হয়েছে, ‘এমন প্রশ্নের উত্তর এড়িয়ে গিয়ে সানা বলেন, ‘এটা আমাদের সাংগঠনিক ব্যাপার। এ বিষয়ে আমরা শোকজ নোটিশেই জবাব দিবো।
অপরদিকে, বরিশাল-২ (বানারীপাড়া-উজিরপুর) আসনের সংসদ সদস্য শাহে আলম বলেন, ‘শোকজের কোন নোটিশ আমি পাইনি। তবে পত্রিকার মাধ্যমে জেনেছি আমাকে শোকজ করা হয়েছে। এটাও জেনেছি আমাকে শোকজ করায় উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে জেলা আওয়ামী লীগ থেকে পাল্টা শোকজ করা হয়েছে।
সংসদ সদস্য শাহে আলম বলেন, ‘আমি উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য হলেও একজন সংসদ সদস্যও। আমার জানা মতে উপজেলা আওয়ামী লীগ চাইলেই একজন সংসদ সদস্যকে শোকজ করতে পারে না। সংসদ সদস্য আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ আমাদের এই অঞ্চলের রাজনৈতিক অভিভাবক।
তিনিই এ বিষয়ে জেলা আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দকে নিয়ে জরুরি সভা করে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে শোকজ করেছেন। আমি তাদের সিদ্ধান্তকে সম্মান জানাই।
এইচকেআর