বাকেরগঞ্জে ধর্ষণে অন্তঃসত্ত্বা ছাত্রীর মৃত্যু

বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলায় দূর্গাপাশা ইউনিয়নে ধর্ষণের শিকার ফাতেমা আক্তার মিম নামে এক মাদ্রাসার ছাত্রী অন্তঃসত্ত্বা হয়ে মৃত্যুবরণ করেছেন। রোববার সকাল ১০ টায় শেবাচিম হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
এর আগে ৯ দিন ঐ হাসপাতালের আইসিইউ বিভাগে চিকিৎসাধীন ছিলেন ফাতেমা আক্তার মিম। মৃত মাদ্রাসার ছাত্রী ঐ ইউনিয়নের ইছাপুরা গ্রামের ওমর ফারুক হাওলাদারের মেয়ে ও স্থানীয় দর্জি বাড়ি দাখিল মাদ্রাসার দশম শ্রেণীর ছাত্রী। অভিযুক্ত শাকিল গাজী উপজেলার ফরিদপুর ইউনিয়নের ভাতশালা গ্রামের মৃত রাজ্জাক গাজী ছেলে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বাকেরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মোস্তফা।
ছাত্রীর বাবা ওমর ফারুক বলেন, মাদরাসায় আসা যাওয়ার পথে মেয়ে শাকিল গাজীর সাথে প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ে মেয়ে ফাতেমা। ছোট ছেলে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে তাঁকে চিকিৎসার জন্য বরিশাল শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ নিয়ে যাই। এই সুযোগে বাসায় একা পেয়ে আমার মেয়েকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে শারীরিক সম্পর্ক করে শাকিল গাজী।
এতে আমার মেয়ে অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পরে। বিষয়টি আমার মেয়ে শাকিলকে জানালে তার বড় ভাইয়ের স্ত্রীকে নিয়ে পাশ্ববর্তী থানা বাউফলের কালি সুরি বাজারে একটি ক্লিনিকে নিয়ে যায়। ক্লিনিকে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে জানতে পারে মেয়ে তিন মাসের অন্তঃসত্ত্বা। এরপর থেকে শাকিল গাজী ও তার বড় ভাইয়ের স্ত্রী ও বোন ইয়াসমিন মিলে গর্ভজাত শিশু অপসারণের চেষ্টা করে ।
মৃত্যুর শিক্ষার্থীর মা জানান, মেয়ের শারীরিক পরিবর্তন দেখে বেশ কয়েকদিন ধরে তার সন্দেহ হয়। অভাবের সংসার তাই ডাক্তারে কাছে নিয়ে যেতে পারি নাই।
এরপর মেয়ের কাছে জানতে চাইলে সে ঘটনা খুলে বলে। পরে শাকিল গাজীর কাছে জানতে চাইলে সেও স্বীকার করে।
এনিয়ে এলাকার মুরুব্বী অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্য নুর মোল্লার নিকট জানালে তিনি শাকিলের বড় ভাই জাফর গাজী ও নিকট আত্মীয় ইউপি সদস্য নজরুল ইসলামকে চিকিৎসার জন্য বললে তারা আজ না কাল বলে ঘুরাঘুরি করতে থাকেন।
এদিকে মেয়েকে নিয়ে গর্ভজাত শিশু অপসারণ করতে বিভিন্ন ওষুধ পানি খাওয়ানোর ফলে মেয়ে অসুস্থ হয়ে পড়লে গত ৩০ সেপ্টেম্বর শনিবার সন্ধ্যায় কালিসুরি বাজারে একটি প্রাইভেট ক্লিনিকে নিয়ে যাই।
সেখান থেকে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে বরিশাল নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দিলে ফাতেমাকে শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করি। পরে চিকিৎসকদের পরামর্শে তাকে আইসিইউ বিভাগে রাখা হয়। ৯ দিন চিকিৎসাধীন অবস্থায় রোববার সকালে ফাতেমার মৃত্যুর হয়।
তিণি আরো বলেন, ফরিদপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এসএম শফিক ও শাকিলে নিকট আত্মীয় ইউপি সদস্য নজরুল এবিষয়ে শালিস মিমাংসা করবে বলে আশ্বাস দেয়ায় থানায় কোন অভিযোগ দেয় নাই।
ফরিদপুর ইউপি চেয়ারম্যান শফিকুল ইসলাম বলেন, ধর্ষিতার বাবা আমার কাছে এসেছিল, কথা শুনে তার মেয়েকে চিকিৎসার জন্য পাঠিয়েছি। বর্তমানে ঢাকায় আছি, মৃত্যুর খবর মোবাইল ফোনে তার বাবা আমাকে জানিয়েছেন আমিও ধর্ষকের বিচার চাই।
এ বিষয়ে বাকেরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মোস্তফা জানান, খবর শুনে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়ে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এখন পর্যন্ত কোন অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
এইচকেআর