রাজনৈতিক দ্বন্দ্বে বন্ধ বিএম কলেজ ক্যাফেটেরিয়া!

‘বরিশাল সিটি নির্বাচনের পর বিএম কলেজ ছাত্রলীগের এক পক্ষের ক্ষমতার পরিবর্তন ঘটে। আগের কোনঠাসা নেতা-কর্মীরা ক্যাম্পাসে নতুন করে আধিপত্য গড়ে তোলে। যার প্রভাব পড়ে ক্যাফেটেরিয়া নিয়ন্ত্রণ রাজনীতিতে।’প্রায় তিন মাস ধরে বন্ধ রয়েছে সরকারি ব্রজমোহন কলেজের (বিএম কলেজ) ক্যাফেটরিয়া। ফলে খাবার নিয়ে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন হলের শিক্ষার্থীরা।
ভুক্তভোগীরা জানান, ঐতিহ্যবাহী এই কলেজটিতে প্রায় ৩০ হাজার ছাত্র-ছাত্রী রয়েছে। একসময় এই ক্যাফেটরিয়া (ক্যান্টিন) শিক্ষার্থীদের পদচারণায় মুখরিত থাকতো। কিন্তু রাজনৈতিক দ্বন্দ্বে এটি প্রায় তিন মাস ধরে তালাবদ্ধ। তাই এর আশপাশের এলাকা পরিণত হয়েছে ময়লা-আবর্জনার স্তুপে।
সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছে, ক্যাম্পাসে ছাত্রলীগের দুটি গ্রুপ রয়েছে। তাদের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের জের ধরে বন্ধ করে রাখা হয়েছে বিএম কলেজের একমাত্র ক্যান্টিন। এর ফলে ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছে শিক্ষার্থীদের। তবে এ নিয়ে চিন্তা নেই কলেজ কর্তৃপক্ষের।
যদিও ব্রজমোহন ক্যাফেটরিয়া দ্রুত চালু করার আশ^াস দিয়েছেন কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ গোলাম কিবরিয়া।
কলেজ সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, ‘২০১৭ সালে অধ্যক্ষ শফিকুর রহমান সিকদার এবং শিক্ষক পরিষদের সাধারণ সম্পাদক আল আমিন সরোয়ারের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় কলেজ ক্যান্টিনটি ‘ক্যাফে জীবনানন্দ’ নামে নতুন করে চালু হয়। করোনা মহামারির আগে ক্যান্টিনটি ছিলো ছাত্র-ছাত্রীদের পদচারণা এবং সাংস্কৃতিক কার্যক্রমে মুখরিত।
তবে করোনা মহামারিতে ক্যাম্পাসের সাথে আবারও বন্ধ হয়ে যায় কলেজ ক্যাফেটেরিয়া। মহামারির পর কলেজ খুলে দেয়া হলেও ক্যাফেটেরিয়ার তালা আর খোলা হয়নি।
শিক্ষার্থীরা জানিয়েছেন, ‘তাদের দীর্ঘদিনের দাবির পর চলতি বছরের প্রথম দিকে ক্যাফেটেরিয়া চালু হয়েছিল। বিএম কলেজ ছাত্রলীগের এক নেতার অনুসারীরা এটি পরিচালনা করে আসছিলেন। তবে দুই মাস না যেতেই আবার বন্ধ করে দেয়া হয় ক্যাফেটেরিয়াটি।
বিএম কলেজ ছাত্রলীগের কয়েকটি সূত্র জানিয়েছে, ‘বরিশাল সিটি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিএম কলেজ ছাত্রলীগের রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণের পরিবর্তন ঘটে। ইতিপূর্বে কোনঠাসা ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা ক্যাম্পাসে নতুন করে আধিপত্য গড়ে তোলে। যার প্রভাব পড়ে ক্যাফেটেরিয়া নিয়ন্ত্রণ রাজনীতিতে। এর পরপরই ক্যাফেটেরিয়ার কার্যক্রম বন্ধ করে দেয় ক্যাম্পাসে একক আধিপত্য গড়ে তোলা ছাত্রলীগের অপর অংশটি।
তবে এ নিয়ে দ্বিমতও রয়েছে অনেকের। বিএম কলেজ এলাকার একাধিক সূত্র নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘ক্যাম্পাসের সামনে ব্যক্তিমালিকানা অসংখ্য খাবার দোকান রয়েছে। ক্যাফেটেরিয়া চালু থাকলে এসব হোটেল বা নাস্তার দোকানগুলোকে থাকতে হয় লোকসানে। এ কারণেই একটি পক্ষ তাদের কাছ থেকে আর্থিক সুবিধা নিয়ে কৌশলে ক্যাফেটেরিয়া বন্ধ রেখেছে।
এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে সাধারণ শিক্ষার্থীরা বলেন, ‘কলেজের ভিতরে ক্যাফেটেরিয়া থাকা সত্ত্বেও ছাত্রছাত্রীরা বাহির থেকে খাবার কিনে খায়। যদি বাহির থেকেই খাবার কিনে খাবে তাহলে ক্যাফেটেরিয়ার কি প্রয়োজন?
শিক্ষক পরিষদের সাধারণ সম্পাদক আল আমিন সরোয়ার বলেন, ‘ক্যান্টিন বন্ধ থাকায় সাধারণ শিক্ষার্থীদের অসুবিধা হচ্ছে। এটি দ্রুত সময়ে মধ্যে চালু করার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
সরকারি ব্রজমোহন কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ গোলাম কিবরিয়া জানান,
‘ক্যাফেটেরিয়া বন্ধের পেছনে রাজনৈতিক কোন কারণ আছে বলে আমার জানা নেই। তবে ক্যাফেটেরিয়া যারা চালায় তাদের ডেকেছি। তারা যদি চালু করতে পারে তাহলে করবে, না হলে অন্য কাউকে দায়িত্ব দেবো। কিন্তু ক্যাফেটেরিয়া বন্ধ রেখে শিক্ষার্থীদের ভোগান্তির সুযোগ দেয়া হবে না।
আরজেএন