শেবাচিম হাসপাতালে রোগীর থেকে বহুগুণ দর্শনার্থী ,নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হয়ে ‘পাস’ চালুর তিনদিনের মাথায় বন্ধ

কখনো আনসার নিয়োগ, আবার কখনো সতর্কতামূলক মাইকিং। এসব করেও নিয়ন্ত্রণে আনা যাচ্ছে না বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের দর্শনার্থীদের চাপ।
সবশেষ গত ২৫ সেপ্টেম্বর মেডিসিন ভবনের দর্শনার্থী নিয়ন্ত্রণে চালু করা হয় বিশেষ পাস। কিন্তু সেই কার্যক্রমও বন্ধ হয়ে গেছে তিন দিনের মাথায়। বুধবার বিকেল তিনটার পর এ কার্যক্রম বন্ধ করে দেয় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
যদিও পূর্ব ঘোষণা বা স্বাস্থ্য সেবা ব্যবস্থাপনা কমিটির সিদ্ধান্ত ছাড়াই চালু করা ‘দর্শনার্থী পাস’ কার্যক্রম নিয়ে শুরু থেকেই নানা বিতর্কের সৃষ্টি হয়। ১০০ টাকার বিনিময়ে দর্শনার্থী পাশ বিক্রিতে অনিয়মের অভিযোগ তোলে অনেকে। যার বাস্তব চিত্র ধরা পড়ে মতবাদের চোখে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, ‘দক্ষিণাঞ্চলের সর্ববৃহৎ শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল। যেখানে প্রতিদিন দুই হাজারের বেশি রোগী ভর্তি হয়ে চিকিৎসা গ্রহণ করছেন। এর ফলে বৃহত্তর এই হাসপাতালটির প্রধান সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে দর্শনার্থী।
সীমিত আয়তনের ওয়ার্ডগুলোতে প্রতিটি রোগীর সাথে দর্শনার্থী থাকছে ৩-৫ জন করে। এর ফলে রোগীর চিকিৎসা কার্যক্রম ব্যাহত হয় চরমভাবে। তাই চিকিৎসকদের দাবির প্রেক্ষিতে দর্শনার্থী নিয়ন্ত্রণে ব্যবস্থাপনা কমিটির সিদ্ধান্তে হাসপাতালে নিয়োগ করা হয় আনসার সদস্য। কিন্তু এরপরও কাজে দর্শনার্থী নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হয় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
তবে অভিযোগ রয়েছে, ‘আনসার সদস্যদের নানাভাবে সুযোগ সুবিধা দেয়ার পরও তাদের মূল দায়িত্ব দর্শনার্থী নিয়ন্ত্রণে বারবারই হোচট খাচ্ছে। এ নিয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সুনির্দিষ্ট জবাবদিহিতা না থাকায় দিন দিন দর্শনার্থী নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে।
এদিকে আনসার বাহিনী ছাড়াও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় প্রতিটি ওয়ার্ডে নিয়মিত মাইকিং করা হচ্ছে। বিশেষ করে মেডিসিন ভবনে দর্শনার্থী নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত মাইকিংয়ের চিত্র দেখা যায়। তবে তাতেও কাজের কাজ কিছুই হচ্ছে না।
আর তাই গত ২৫ সেপ্টেম্বর দর্শণার্থী নিয়ন্ত্রণের জন্য ১০০ টাকার বিনিময়ে ‘দর্শনার্থী পাস’ কার্যক্রম শুরু করে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। বুধবার দুপুর ২টা পর্যন্ত স্বাভাবিকভাবেই চলতে দেখা যায়। কিন্তু বিকেল ৩টার পর সেই কার্যক্রমও বন্ধ করে দেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন হাসপাতাল পরিচালক ডা. এইচএম সাইফুল ইসলাম।
সরেজমিনে দেখা গেছে, ‘হাসপাতালের জরুরি বিভাগে টেবিল-চেয়ার নিয়ে দর্শণার্থী পাস বিক্রি করছেন মেহেদী হাসান শাহজাদা নামের একজন আউটসোর্সিং কর্মী। তিনি নিজেকে জরুরি বিভাগের সুপারভাইজার দাবি করেন। তবে হাসপাতাল কর্মচারীরা বলছেন, মেহেদী হাসান শাহজাদা হাসপাতাল পরিচালক ডা. এইচএম সাইফুল ইসলামের সম্পর্কে মামাতো ভাই।
তিনি প্রতিটি পাস একশ’ টাকা করে বিক্রি করছেন। কার্ডের একাংশে হাসপাতালের সহকারী পরিচালক (প্রশাসন) এবং অপর পাশে মেডিসিন বিভাগের নার্সিং কর্মকর্তার স্বাক্ষর রয়েছে। তবে সহকারী পরিচালকের পূর্ব সই থাকলেও নার্সিং কর্মকর্তার সই দিয়ে দিচ্ছেন আইটসোর্সিং কর্মী শাহজাদা হাওলাদার। যা নিয়ে ক্ষুব্ধ হাসপাতালের সরকারি স্টাফরা।
এ বিষয়ে মেহেদী হাসান শাহজাদা হাসপাতাল পরিচালকের আত্মীয়তার সম্পর্ক অস্বীকার করে বলেন, ‘আমি তার প্রতিবেশি। আমাকে সহকারী পরিচালক এই দায়িত্ব দিয়েছেন। দর্শণার্থী নিয়ন্ত্রণের জন্য কার্ড বিক্রি করা হচ্ছে। একজন রোগীর জন্য সর্বোচ্চ ২টি করে কার্ড নির্ধারিত। প্রতিটি কার্ড একশত টাকা জমা দিয়ে নিতে হচ্ছে। আবার নাম কাটার পরে কার্ড জমা দিলে টাকা ফেরত দেয়া হচ্ছে। একটি কার্ড সর্বোচ্চ সাতদিন পর্যন্ত ব্যবহার করতে পারবে। তবে কার্ডের টাকা কোন ফান্ডে জমা রাখা হয় সেই তথ্য জানা নেই শাহজাদার।
এ বিষয়ে আলাপকালে শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডা. এইচএম সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘দর্শনার্থী নিয়ন্ত্রণের জন্য দর্শনার্থী পাস চালু করেছিলাম। তবে এতেও দর্শণার্থী নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হয়েছি। তাই কার্যক্রম শুরুর তিনদিনের মাথায় বুধবার বিকেল ৩টার দিকে এই কার্যক্রম বন্ধ করে দিয়েছি। এখন অন্য কোন উপায়ে দর্শণার্থী নিয়ন্ত্রণ করা যায় কী-না সে বিষয়টি ভেবে দেখছি।
আরজেএন