টানা পাঁচদিন পর বরিশালের আড়তে এলো ৩ ট্রাক আলু, তিন ঘণ্টায় বিক্রি শেষ

টানা পাঁচদিন পর বরিশালের পাইকারী আড়তে আসতে শুরু করেছে আলুর ট্রাক। গতকাল শনিবার সকালে মাত্র ৩টি ট্রাক ও একটি ট্রলার যোগে আলু সরবরাহ করেন ব্যবসায়ীরা। যা বিক্রি হয়ে যায় মাত্র ২-৩ ঘণ্টার মধ্যে।
হাটখোলার মৎসলা ব্যবসায়ীরা বলছেন, ‘বরিশাল জেলা প্রশাসকের অনুরোধে বেশি দাম দিয়েই রাজশাহী ও মুন্সিগঞ্জ থেকে আলু সরবরাহ শুরু করেছেন তারা।
আলু আসার প্রথম দিনে প্রকারভেদে পাইকারী ৩৬ থেকে ৩৯ টাকায় বিক্রি করা হয়েছে আলু। এখন থেকে আলু সরবরাহ স্বাভাবিক থাকবে বলে জানিয়েছেন হাটখোলা পেঁয়াজ পট্টির মসলা ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক দুলাল মোল্লা।
এর আগে গত ২১ সেপ্টেম্বর থেকে লোকসানের অজুহাত দেখিয়ে বরিশাল নগরীর হাটখোলা মসলার আড়তে আলু সরবরাহ বন্ধ করে দেন আড়াৎদাররা। এর ফলে ওইদিন থেকেই আলু শূন্য হয়ে যায় পাইকারী বাজার। যার প্রভাবে আলুর মূল্য বেড়ে যায় খুচরা বাজারে।
হাটখোলার মসলা ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক ও মেসার্স মোল্লা ট্রেডার্সের মালিক দুলাল মোল্লা জানান, মুন্সিগঞ্জ ও রাজশাহীর হিমাগার থেকে বেশি দামে আলু কিনতে হয় তাদের। যা বরিশালে আড়ত পর্যন্ত পৌঁছুতে খরচ হয় ৩৫ থেকে ৩৬ টাকা পর্যন্ত। যে কারণে সরকার নির্ধারিত মূল্যের থেকে বেশি দামে আলু বিক্রি করতে হয়।
তিনি বলেন, ‘বেশি দামে আলু কিনে বেশি দামে বিক্রি করায় জেলা প্রশাসন এবং জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর অভিযান চালিয়ে ব্যবসায়ীদের জরিমানা করেছে। তাই লোকসান দিয়ে আলু বিক্রি বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেন ব্যবসায়ীরা। যে কারণে গত ২১ সেপ্টেম্বর থেকে আড়তে এক বস্তা আলুও ছিল না।
এই ব্যবসায়ী নেতা বলেন, ‘গত ২৪ সেপ্টেম্বর সকালে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে আমাদের ব্যবসায়ীদের সাথে আলু সংকট নিয়ে কথা বলেন জেলা প্রশাসক শহিদুল ইসলাম। তিনি আলু সরবরাহ স্বাভাবিক রাখার জন্য অনুরোধ জানিয়েছেন। তার অনুরোধ এবং বরিশালবাসীর ভোগান্তির কথা বিবেচনা করে আলু সরবরাহ শুরু করেছি।
গতকাল সোমবার সকালে রাজশাহী থেকে ৩টি ট্রাকে ২০ টন করে মোট ৬০ টন আলু এসেছি। এছাড়া মুন্সিগঞ্জ থেকে নদী পথে একটি ট্রলারে এসেছে ৫০০ বস্তায় মাত্র ২৬ হাজার কেজি আলু। যা আড়তে আনার পর মাত্র ২-৩ ঘণ্টায় বিক্রি হয়ে গেছে। রাজশাহীর আলু প্রতি কেজি ২৮-৩৯ টাকায় বিক্রি হয়েছে। এছাড়া মুন্সিগঞ্জের আলু বিক্রি হয়েছে ৩৬ টাকা দরে। খুচরা বাজারে আলুর দাম সর্বোচ্চ ৪০ থেকে ৪২ টাকা হতে পারে।
দুলাল মোল্লা জানান, ‘আলু অর্ডার কারলেই পাওয়া যায় না। এজন্য দু-একদিন সময় লাগে। প্রথম চালানে অল্প কিছু আলু এসেছে। তবে আগামী দুই-একদিনের মধ্যে আলু সরবরাহ আরও বাড়বে। তখন দামও বর্তমানের থেকে আরও কমে যাবে বলে আশাবাদী এই ব্যবসায়ী নেতা।
আরজেএন