বরিশালে ২৩ দশমিক ১ মিলিমিটার বৃষ্টি, সড়কে জলাবদ্ধতা, ভোগান্তি-দুর্ভোগ

বরিশালে গত ২৪ ঘণ্টায় ২৩ দশমিক ১ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। গত কয়েক দিন ধরে থেমে থেমে বৃষ্টি হওয়ায় ভোগান্তিতে পড়েছেন নগরবাসী। বৃষ্টিতে নগরীর বিভিন্ন সড়ক তলিয়ে যায়। অনেক এলাকার সড়কে পানি ছিল হাটু পর্যন্ত। কোথাও বৃষ্টির পানির সঙ্গে নর্দমার পানি মিশে ছড়াচ্ছে দুর্গন্ধ। জমে থাকা পানিতে বাড়ছে মশার উপদ্রব।
আবহাওয়া অফিসের তথ্য মতে শনিবার থেকে রোববার সন্ধ্যা পর্যন্ত বরিশালে ২৩ দশমিক ১ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। আর এতেই নগরীর বেশ কয়েকটি সড়ক পানিতে তলিয়ে যায়।
গতকাল বেলা ১২টার পর মুষুলধারে বৃষ্টি শুরু হয়। সঙ্গে দমকা থেকে ঝড়ো বাতাসও বয়ে যায়। ভারী বৃষ্টির কারণে সড়কে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। ভোগান্তি ও দুর্ভোগ বাড়ে নগরবাসীর।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, দুপুরের পর শুরু হওয়ার বৃষ্টিতে নগরীর গোরস্তান রোড, নবগ্রাম রোড, স্টোডিয়াম কলোনির সড়ক, সাগরদি খ্রীষ্টান কলোনির সড়ক, রূপাতলী হাউজিং রাস্তা, মাওলানাা ভাসানি সড়ক, সোরহাব হাউজিং, পলাশপুর, ধানগবেষনা সড়কসহ বিভিন্ন স্থানের সড়ক পানিতে তলিয়ে যায়।
বেসরকারি একটি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা সমির উদ্দিন বলেন, সকালে সদর রোড থেকে অফিসের একটি কাজে কাশিপুর গেছিলাম। কিন্তু দুপুরের বৃষ্টিতে সেখানে পানিতে আটকা পড়ি। পরে কোনোভাবে একটি সিএনজিতে উঠি। কোনোভাবে অফিসে যাই।
সোরহাব হাউজিংয়ের বাসিন্দা ইলিয়াস হোসেন বলেন, গত কয়েকদিনের থেমে থেমে বৃষ্টি হওয়ায় সড়কে হাটু সমান পানি জমে গেছে। পানি নামার কোন জায়গা নেই। এ কারণে জমে থাকা পানিতে মশার উপদ্রব্য বেড়ে গেছে। প্রয়োজন ছাড়া বাসা থেকে বের হচ্ছি না। ডেঙ্গু মশার আতঙ্কে দিনের বেলা কয়েল জালিয়ে রাখি।
জানতে চাইলে আবহাওয়া অধিদফতরের আবহাওয়াবিদ মাসুদ রানা রুবেল বলেন, মৌসুমের শেষের দিকে এমনিতেই বৃষ্টিপাত হয়। সে ক্ষেত্রে বঙ্গোপসাগরে মৌসুমি বায়ু সক্রিয় রয়েছে। এর প্রভাবে সারাদেশের ন্যায় বরিশালে বৃষ্টিপাত হচ্ছে।
তিনি বলেন, গত ২৪ ঘন্টায় বরিশালে ২৩ দশমিক ১ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। দক্ষিণ-পশ্চিম দিক থেকে ১০-১২ কিলোমিটার গতিতে বাতাস বয়ে গেছে।
রোববার ৩৬ দশমিক ৬ ডিগ্রি দিনের সবোর্চ্চ তাপমাত্রা রের্কড করা হয়েছে। আগামী দ্-ুএকদিন বজ্রসহ বৃষ্টিপাত হওয়ার সম্ভবনা রয়েছে। তবে দিনের তাপমাত্রা কমলেও রাতের তাপমাত্রা অপরবর্তিত থাকবে। বৃষ্টি কম হলে ভ্যাপসা গরম পড়তে পারে বলেন আবহাওয়াবিদ মাসুদ রানা রুবেল।
এদিকে, নগর পরিকল্পনাবিদরা বলছেন, বৃষ্টি হলেই রাস্তায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়, ভোগান্তি বাড়ে সাধারণ মানুষের। এ অবস্থা থেকে রক্ষা পেতে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে সিটি করপোরেশনের।
এ ব্যাপারে বরিশাল সিটি করপোরেশনের গনসংযোগ কর্মকর্তা স্বপন কুমার দাস বলেন, আমরা বেশ কয়েকটি এলাকার জলবদ্ধতার স্থায়ী সমাধান করেছি। এছাড়া বেশ কয়েকটি এলাকায় প্রকল্পের কাজ চলমান রয়েছে। প্রকল্পগুলো বাস্তবায়ন হলে আশাকরি জলাবদ্ধতা কমে আসবে।
আরজেএন