ঢাকা মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬

Motobad news
শিরোনাম
  • তথ্যমন্ত্রীর সাথে সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আজিজুল হক আক্কাস’র সৌজন্য সাক্ষাত  ঘুষ নেওয়া নৌ-পুলিশের ২ সদস্য বরখাস্ত ঝালকাঠিতে চিকিৎসককে ‘ভাই’ ডাকায় চিকিৎসা পেল না শিশু বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন রেজিস্ট্রার ড. আবদুল আলিম বছির পটুয়াখালীতে ছাত্রকে বলাৎকারের অভিযোগে মাদরাসা শিক্ষক আটক জনগণের আস্থা অর্জন করতে হলে সততা, জবাবদিহি ও কার্যকর সেবার বিকল্প নেই: তথ্যমন্ত্রী উজিরপুরে শাপলা বিলে পানিতে ডুবে পর্যটকের মৃত্যু গৌরনদীতে চুরির অভিযোগে যুবককে বেঁধে নির্যাতন বরিশালকে পরিচ্ছন্ন জ্বালানির শহর ঘোষণার দাবিতে মানববন্ধন বকেয়া পাওনা পরিশোধের দাবিতে অলিম্পিক সিমেন্ট শ্রমিকদের অবস্থান
  • হিজলায় এক কলেজে দুই অধ্যক্ষ !

    হিজলায় এক কলেজে দুই অধ্যক্ষ !
    গুগল নিউজে (Google News) দৈনিক মতবাদে’র খবর পেতে ফলো করুন

    এক কলেজে থাকবেন একজন অধ্যক্ষ। নিয়ম এমনটি হলেও ব্যতিক্রম ঘটেছে বরিশালের হিজলা উপজেলার জব্বার মেহমান কলেজে। যেখানে অধ্যক্ষের একটি চেয়ার নিয়ে লড়াই করছেন দু’জন শিক্ষক। বর্তমানে দুজনেই নিজেদের অধ্যক্ষ হিসেবে দাবি করছেন।

    অভিযোগ ওঠেছে, অধ্যক্ষ পদ নিয়ে বরিশাল শিক্ষাবোর্ড এবং কলেজ পরিচালনায় অ্যাডহক কমিটি চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না থাকায় কলেজটিতে দু’জনেই অধ্যক্ষের দায়িত্ব পালন করছেন। এ নিয়ে কলেজটির প্রশাসনিক কার্যক্রম যেমন ব্যাহত হচ্ছে তেমনি নষ্ট হচ্ছে শিক্ষার পরিবেশ। যা নিয়ে উদ্বিগ্ন শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকরা।
    কলেজ সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, কলেজটি পরিচালনায় অ্যাডহক কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে বরিশাল শিক্ষা বোর্ডের ইস্যু করা চিঠি অনুযায়ী অধ্যক্ষ পদে নিয়োগ পেয়েছেন মাজহারুল ইসলাম। তাকেই কলেজটির অধ্যক্ষ হিসেবে জানে শিক্ষা বোর্ড।

    তবে কমিটির অনিয়মে সাড়া না দেয়ায় স্থানীয় সংসদ সদস্য ও রাজনৈতিক সুপারিশে একই পদে আবু সাঈদ বেপারী নামের আরেকজনকে নিয়োগ দিয়েছে কলেজটির অ্যাডহক কমিটি। এমনকি কলেজটি পরিচালনায় তাকেই দেয়া হয়েছে শিক্ষা বোর্ডের ওয়েবসাইটের গোপন পাসওয়ার্ড।

    স্থানীয়দের দাবি, বর্তমানে কলেজ কমিটির আহবায়ক দেশের বাহিরে অবস্থান করায় তাদের নিয়োগকৃত আবু সাইদ বেপারীই কলেজটির হর্তাকর্তা হয়ে আছেন। অধ্যক্ষ হিসেবে তার একক সিধান্তেই চলছে কলেজটির সকল কার্যক্রম। ক্ষমতার অপব্যবহার করে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে পরীক্ষার ফিসহ বিভিন্ন খাত থেকে হাতিয়ে নিচ্ছেন বাড়তি টাকা। যা নিয়ে অশন্তষ সৃষ্টি হয়েছে কলেজটির অন্যান্য শিক্ষক এবং অভিভাবকদের মাঝে।

    এ বিষয় জানতে চাইলে বরিশাল শিক্ষা বোর্ডের ইস্যু করা চিঠি অনুযায়ী অধ্যক্ষের দায়িত্ব পাওয়া মাজহারুল ইসলাম বলেন, ‘আমি এই কলেজের প্রতিষ্ঠাকালীন সময় থেকেই আছি। ২০১৮ সালের দিকে কলেজ কমিটি ও শিক্ষা বোর্ডের ইস্যু করা চিঠিতে নিয়োগপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হিসেবে জব্বার মেহমান কলেজের অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন শুরু করি। কিন্তু বর্তমানে একটি মহল কলেজটি নিয়ে বাণিজ্য শুরু করেছে। সেখানে বাধা দিলে আমাকে কলেজ অধ্যক্ষ থেকে সারানোর নানা ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে। এর সঙ্গে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতা থেকে শুরু করে বোর্ডে কলেজ পরিদর্শকও জড়িত আছেন।’

    তিনি বলেন, ‘কলেজের টিউশন ফি কলেজ কমিটি প্রতি বছর নিয়ে যায়। কিন্তু গত বছর টিউশন ফি আমি কমিটিকে না দিয়ে কলেজের শিক্ষক ও কর্মচারীদের বকেয়া বেতন এবং বোনাস দিয়েছি। কলেজের কেরানির ২২ হাজার টাকা বকেয়া পরিশোধ করেছি। বকেয়া, বোনাস এবং বেতন পরিশোধের পর বেশি টাকা অবশিষ্ট থাকে না। অথচ কমিটির আহবায়ক আমার কাছে টিউশন ফির পুরো ১ লাখ ৫৩ হাজার টাকা চেয়ে বসে। তাদের এই দাবি আমি না মানায় কমিটি কলেজে তালা ঝুলিয়ে দেয়। পরে শিক্ষার্থীদের কথা মাথায় রেখে প্রশাসনের সহযোগিতায় আমি কলেজের তালা খুলিয়েছি। 

    কিন্তু অধ্যক্ষের দ্বায়িত্বে থাকাকালীন কীভাবে অন্য কারো কাছে কলেজ ওয়েবসাইটের পাসওয়ার্ড যায়? এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘ওই কমিটির লোক জন স্থানীয় রাজনৈতিক নেতা এবং কলেজ পরিদর্শকের কাছে আমার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ দাঁড় করায়। এ ঘটনায় আমি বোর্ড চেয়ারম্যানকে অবহিত করে একটি দরখাস্তও দিয়েছি। একপর্যায় কলেজ পরিদর্শকের সাথে আমার দেখা হলে তিনি স্থানীয় এমপি মহোদয়ের কাছে গিয়ে পরিদর্শককে ফোন করাতে বলেন। কিন্তু আমি তা পারিনি। আর ঘটনার তদন্ত শেষ না হতেই কলেজ কমিটি আবু সাঈদ বেপারীকে অধ্যক্ষের দায়িত্ব দেয়। আর কলেজ পরিদর্শক আমাকে না জানিয়ে কলেজের ওয়েবসাইটের পাসওয়ার্ড তাকে দিয়ে দেয়। এ বিষয়ে বোর্ড চেয়ারম্যানকে জানালে তিনি বিষয়টি দেখবেন বলে আশ্বস্থ করলেও এখন পর্যন্ত কোনে সুরহা পাইনি।

    এদিকে নিজেকে কলেজটির অধ্যক্ষ দাবি করে আবু সাঈদ বেপারী বলেন, ‘বর্তমানে কলেজের অ্যাডহক কমিটি আমাকে নিয়োগ দিয়েছে। এছাড়া বরিশাল শিক্ষা বোর্ড থেকেও আমি চিঠি পেয়েছি। আর স্থানীয় এমপি মহোদয়ের ডিও লেটারও আমার কাছে রয়েছে দাবী করেন আবু সাইদ। 

    অধ্যক্ষ মাযহারুল ইসলামের ওপর অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, ‘কলেজের টিউশন ফি টাকা এবং কমিটি সভাপতির স্বাক্ষর জাল করে চেক জালিয়াতি করে টাকা তুলে আত্মসাত করেছেন। সেই টাকাটা রিফান্ড করার জন্য ওনাকে বলা হয়েছে। কিন্তু তিনি সেটা করেন নি। তাছাড়া তিনি যে কলেজের অধ্যক্ষ তা প্রমাণ করার জন্য তার কাছে কোনো কাগজপত্র নেই। তাহলে সে কিভাবে কলেজের অধ্যক্ষ হয়?

    এ বিষয়ে কলেজ পরিচালনায় অ্যাডহক কমিটির সভাপতি মো. তানভির মেহমান দেশের বাহিরে থাকায় তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
    তবে বরিশাল মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের কলেজ পরিদর্শক লিয়াকত হোসেনের বক্তব্যের জন্য একাধীক বার তার মুঠোফোনে কলদিলেও তিনি রিসিভ করেননি।

    বরিশাল শিক্ষাবোর্ডের চেয়ারম্যান আব্বাস উদ্দিন খান বলেন, জব্বার মেহমান কলেজটি ননএমপিওভুক্ত। যেকারণে কলেজটির সকল সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে ম্যানেজিং কমিটি সর্বক্ষমতার অধিকারী। তবে তারা যে সিদ্ধান্তগুলো নিচ্ছে সেগুলো বিধিসম্মত কীনা সে বিষয়গুলো আমরা তদারকি করে দেখি।

    জব্বার মেহমান কলেজে অধ্যক্ষ পদে নিয়োগের বিষয়টি বিধি সম্মত হয়েছে বলে আমাদের কাছে মনে হয়েছে। কমিটি আগের অধ্যক্ষকে বাতিল করে নতুন অধ্যক্ষ দিয়েছে। তবে শিগ্রই কলেজটি এমপিওভুক্ত হবে। তাই এই সময় মাজাহারুলকে এভাবে বাদ না দিয়ে তার বিরুদ্ধে কোন অভিযোগ থাকলে সেটা আমরা তদন্ত করে দেখতে পারতাম। তারপরে নতুন অধক্ষ নিযোগ দিলে ভালো হতো।


    আরজেএন
    গুগল নিউজে (Google News) দৈনিক মতবাদে’র খবর পেতে ফলো করুন

    সর্বশেষ