বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে কয়েকটি ভবনে ফ্যান নেই এসি নষ্ট, ভোগান্তিতে শিক্ষার্থীরা

প্রচন্ড গরমে ফ্যান চলে না। পাঠদানের সময় আমরা যেমন অস্বস্তিবোধ করি তেমনি শিক্ষকরাও গরমে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেন। এতে মনযোগ ধরে রাখা কষ্টকর হয়ে যায়।
এছাড়াও ভবনটিতে ওয়াশরুম নেই। পাশেই ময়লা আবর্জনা ফেলানো হয়। একদিকে গরম অন্যদিকে দুর্গন্ধ। একটা বাজে অবস্থার মধ্যে পড়তে হয়। এভাবেই প্রতিবেদকের কাছে অসহায়ত্বের সুরে কথাগুলো বলছিলেন বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী সোহেল রানা।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ক্লাসরুম সংকট কাটাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব অর্থায়নে স্কুল ভবন নামে দুটি অতিরিক্ত ক্লাসরুম তৈরি করা হয়েছে। ভবনটির দুটি কক্ষ ১০১ এবং ১০২ নম্বর কক্ষের কোনো ফ্যানই চলেনা। নেই ওয়াশরুমও। ভবনের আশেপাশে কোনো গাছও নেই। তাই তীব্র গরমের মধ্যে ক্লাস করতে হয় শিক্ষার্থীদের। নেওয়া হয় পরীক্ষাও।
তীব্র গরমে অসহায় শিক্ষার্থীরা এই দুই কক্ষকে ছোট খাটো জাহান্নাম বলছেন। নতুন স্কুলভবনে বেশিরভাগ ক্লাস হয় বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থীদের। এছাড়াও বিভিন্ন বিভাগের সেমিস্টার ফাইনাল ও ভর্তি পরীক্ষাও অনুষ্ঠিত হয় এই ভবনে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য দুটি অডিটোরিয়াম রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের পঞ্চম তলায় জীবনানন্দ দাশ কনফারেন্স রুম ও একাডেমিক ভবন-২ এর ৫ম তলায় কীর্তনখোলা হল রুম । এসব হলরুমে এসি ও বাতি গত একবছর ধরে নষ্ট হলেও তা ঠিক করা হচ্ছে না। ফলে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে শিক্ষার্থীদের।
জানা যায়, দুটি অডিটোরিয়ামে মোট ১২টি এসির মধ্যে ৬ টি এসিই অকার্যকর। বাল্ব নষ্ট ৪৫ টি। কীর্তন খোলা হলে এসির রিমোট না থাকায় যা আছে তাও চালানো সম্ভব হচ্ছে না।
এদিকে জীবনানন্দ দাশ কনফারেন্স রুমে ৬টি এসির ২ টি চলে না এবং ১৪ টি বাল্ব নষ্ট হয়ে আছে। অন্যদিকে কীর্তনখোলা হলের ৬টি এসির মধ্যে ৪টি এসি চলে না, রিমোট না থাকায় বাকী দুটি এসিও চালানো সম্ভব হয় না। এই হলের ৪৮ টি বক্সটিউব লাইটের মধ্যে ৩১ টিই জ্বলে না।
জানা যায়, ক্লাসরুম সংকটের কারণে এসব হল রুমে বিভিন্ন বিভাগের পরীক্ষা নেওয়া হয়। এছাড়াও বিভিন্ন সেমিনারের আয়োজন করা হয়। এসি নষ্ট থাকার কারনে শিক্ষার্থীদের তীব্র গরমে ভোগান্তি পোহাতে হয়।
শিক্ষক ও বিভিন্ন অনুষ্ঠানে অতিথিদের জন্য আলাদা ফ্যানের ব্যবস্থা করা হলেও শিক্ষার্থীদের জন্য কোনো ধরনের ফ্যানের ব্যবস্থা করা হয় না।
স্টেট শাখা জানায়, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার শাখা থেকে সমস্যা উল্লেখ করে গত ৩০ আগস্ট প্রকৌশল শাখা বরাবর চিঠি দিলেও তা এখনো সমাধানের মুখ দেখেনি। এদিকে প্রকৌশল শাখা বলছে, তারা বিষয়টি সরেজমিনে দেখে উপাচার্য বরাবর অনুমোদনের জন্য দিয়েছে।
তবে কেয়ারটেকারের গাফিলতি আর অজ্ঞতাতেই এ সমস্যা তৈরি হয়েছে বলে জানায় সংশ্লিষ্ট দপ্তর। তারা বলেন, কেয়ারটেকার ঠিকমতো বিষয়গুলো দেখেন না।
এসির রিমোটও হারিয়ে ফেলেন। অনুষ্ঠান চলাকালীন সময়ে তাদের পাওয়া যায় না বলে অনেক অভিযোগ আসে তাদের কাছে। সময়মতো সমস্যাগুলো অবহিতও করে না। ফলে ছোট সমস্যা আরো বড় আকার ধারণ করে।
এছাড়াও প্রশাসনিক ভবন-১ এর ৬৫০৬ নম্বর কক্ষে তিনটি ফ্যান অচল হয়ে পড়ে আছে। সর্বশেষ একটি বিভাগের পরীক্ষা শেষ হয় গত ৪ সেপ্টেম্বর। এরপর ৭ সেপ্টেম্বর পরীক্ষা ছিলো অন্য আরেকটি বিভাগের। ফ্যান না থাকায় তীব্র গরমে এক রকম বাধ্য হয়েই পরীক্ষা দিতে হয়েছে শিক্ষার্থীদের।
এ প্রতিবেদনে কমপক্ষে ১০ শিক্ষার্থীর সাথে কথা হয় এই প্রতিবেদকের।
তারা জানান, কোনো প্রোগ্রাম করতে গেলে কেয়ারটেকারকে খুজে পাওয়া যায়। অনুষ্ঠান চলাকালীন সময়ও তাদের কেউ থাকেন না। কিছু বললেই বলে নষ্ট। ঠিক করতে হবে।
শিক্ষার্থীদের কাছে চাবিটা দেওয়াই তাদের প্রধান কাজ। এরপর আর পাওয়া যায় না। প্রশাসনের উচিত মাঝে মাঝে পরিদর্শন করা। নজরে রাখা। তাহলে এ সমস্যা গুলো এতো বড় আকার ধারণ করতে পারে না।
লোকপ্রশাসন বিভাগের শিক্ষার্থী ওসমান গনি বলেন, পরীক্ষার হলে গরমে অতিষ্ঠ ছিলাম। আর যেহেতু কোনো ফ্যান ছিলো না আবার অন্যদিকে এসি নষ্ট সেখানে অবস্থা খুবই ভয়াবহ ছিলো।
একদিকে গরমের জন্য লিখতে পারতেছি না। অন্যদিকে প্রচন্ড ঘেমে যাচ্ছিলাম। খাতা ভিজে যাচ্ছিলো। আর দুএকটা এসি চলে তাও না চলার মতো। যে কোনো অনুষ্ঠান বা পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবার মত পরিস্থিতি নেই ওখানে। বিশেষ করে গরমের সময়ে ।
এস্টেট অফিসার সাইদুজ্জামান বলেন, সমস্যাটা আমরা লিখিত আকারে রেজিস্ট্রারের মাধ্যমে জানাইছি। বিষয়টি এখন কর্তৃপক্ষের। দেড় বছর না দুই বছর ধরে এই সমস্যা সে কথা জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন,এর মাঝে ঠিক করছি আবার নষ্ট হইছে।
তবে আমার কাছে মনে হয় হয় এই যে প্রকৌশল শাখা এরা যথেষ্ট ঢিলে। এরা আবেদন করতে বলে কিন্তু ফলাফল কিছুই হয় না।
নির্বাহী প্রকৌশলী মামুন অর রশিদ বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে বিভিন্ন ভবনে সমস্যাগুলো দেখার জন্য একজন করে কেয়ারটেকার আছে। তিনি সমস্যার কথা চিঠি দিয়ে আমাদেও জানালে আমরা সরেজমিনে গিয়ে সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করবো। কর্তৃপক্ষ অনুমোদন দিলে আমরা কাজ শুরু করতে পারি। তবে অনুমোদন দেওয়ার পর কোনো কাজ হয়নি এমন নজির নেই।।
এ বিষয়ে বিশ^বিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক বদরুজ্জামান ভূঁইয়া বলেন, বিষয়টা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। গরমে ফ্যান না থাকলে শিক্ষার্থীদের বিড়ম্বনায় পড়তে হয়। বিষয়টি দ্রুত ব্যবস্থা নিয়ে সমাধান করা হবে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ছাদেকুল আরেফিনের সাথে মুঠফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করলেও তিনি রিসিভ করেননি।
আরজেএন