ঢাকা মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬

Motobad news
শিরোনাম
  • তথ্যমন্ত্রীর সাথে সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আজিজুল হক আক্কাস’র সৌজন্য সাক্ষাত  ঘুষ নেওয়া নৌ-পুলিশের ২ সদস্য বরখাস্ত ঝালকাঠিতে চিকিৎসককে ‘ভাই’ ডাকায় চিকিৎসা পেল না শিশু বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন রেজিস্ট্রার ড. আবদুল আলিম বছির পটুয়াখালীতে ছাত্রকে বলাৎকারের অভিযোগে মাদরাসা শিক্ষক আটক জনগণের আস্থা অর্জন করতে হলে সততা, জবাবদিহি ও কার্যকর সেবার বিকল্প নেই: তথ্যমন্ত্রী উজিরপুরে শাপলা বিলে পানিতে ডুবে পর্যটকের মৃত্যু গৌরনদীতে চুরির অভিযোগে যুবককে বেঁধে নির্যাতন বরিশালকে পরিচ্ছন্ন জ্বালানির শহর ঘোষণার দাবিতে মানববন্ধন বকেয়া পাওনা পরিশোধের দাবিতে অলিম্পিক সিমেন্ট শ্রমিকদের অবস্থান
  • নেপথ্যে নগরীর প্রভাবশালীরা, সাধারণ শিক্ষার্থীরা আতঙ্কে 

    কমিটি না থাকলেও ছাত্রলীগের নিয়ন্ত্রণে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়

    কমিটি না থাকলেও ছাত্রলীগের নিয়ন্ত্রণে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়
    গুগল নিউজে (Google News) দৈনিক মতবাদে’র খবর পেতে ফলো করুন

    উন্নত শিক্ষার জন্য কীর্তনখোলা নদীর তীরে কর্ণকাঠি এলাকায় ২০১১ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় প্রবিরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়। ক্যাম্পাসে পড়াশোনার পরিবেশ স্বাভাবিক রাখতে সেখানে ছাত্রলীগের কোনো কমিটি দেয়া হয়নি। কিন্তু কমিটি না থাকলেও শুরু থেকেই সেখানে ছাত্রলীগের নামে বিভিন্ন গ্রুপ সৃষ্টি হয়। বর্তমানে এই সংগঠনের ব্যানারে দুটি পক্ষ সক্রিয়। এরা স্থানীয় দুই প্রভাবশালীর অনুসারী। তাদের হাতে প্রতিনিয়তই হামলার শিকার হন সাধারণ শিক্ষার্থীরা। এর মধ্যে একটি গ্রুপের হাতে গত মাসে দুই শিক্ষার্থী বেধড়ক মারধরের শিকার হয়েছেন। এ ছাড়া হুমকি-ধামকি ও মানসিক নির্যাতনের ঘটনা ঘটছে প্রায়ই। এতে ক্যাম্পাসে ভীতির সৃষ্টি হয়েছে। কিন্তু বিশ^বিদ্যালয় প্রশাসন এ বিষয়ে নির্বিকার।

    লোকপ্রশাসন বিভাগের শিক্ষার্থী আজমির হাসান রিসাদ বলেন, ক্যাম্পাসে কোথাও শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নেই। সব সময় রাজনৈতিক ক্যাডারদের কারণে সাধারণ শিক্ষার্থীদের আতঙ্কে থাকতে হয়। কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েও কোনো প্রতিকার পাচ্ছেন না তাঁরা। 

    তবে দলীয় নেতা কর্মীরা বলছেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের কমিটি হলে এ অবস্থার পরিবর্তন হবে। সাংগঠনিক কাঠোমোর আরো দৃঢ় হবে। সকলে একই ছাতার তলে এসে রাজনীতি করার সুযোগ পাবে। এই প্রতিবেদনে ছাত্রলীগের ১০/১১জন নেতাকর্মীর সাথে কথা হয় প্রতিবেদকের। 

    নাম প্রকাশ না করার শর্তে তারা জানান, বিশ্ববিদ্যালয়টি শহর থেকে কাছাকাছি হওয়ায় এখানে নগর রাজনীতির প্রভাব বেশি। এখানে ছাত্রলীগ পরিচালনা করেন স্থানীয় প্রভাবশালী নেতারা। তাদের নামেই গড়ে উঠে বিভিন্ন উপদল। আর এদের মধ্যেই আধিপত্য বিস্তার নিয়ে ঘটে সংঘর্ষ ঘটনা।

    সংশ্লিষ্টরা জানান, প্রতিষ্ঠার পর থেকেই বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ছাত্রলীগের কমিটি নেই। কিন্তু ক্যাম্পাসে ছাত্রলীগ পরিচয়ে একাধিক গ্রুপ সক্রিয় রয়েছে। এর মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে একটি গ্রুপ নেতৃত্ব দিয়ে আসছিলেন মহিউদ্দিন আহমেদ সিফাত। অপর গ্রুপের নেতৃত্বে ছিলেন আলীম সালেহী।  

    মহিউদ্দীন আহমেদের ওপর হামলার ঘটনায় আলীম সালেহী ও তাঁর সমর্থকদের নামে মামলা হয়েছিল। ওই মামলায় আলীম সালেহীসহ তিনজন ঘটনার পর গ্রেপ্তার হলেও পরে তাঁরা জামিনে মুক্তি পান।

    এদিকে হামলায় আহত হওয়ার পর থেকে মহিউদ্দীন সিফাত ক্যাম্পাসের রাজনীতি থেকে ছিটকে পড়েন। তাঁর অবর্তমানে নেতৃত্বে ছিলেন তাঁর অনুসারী তাহমিদ জামান নাভিদ। ঐ সময় ছাত্রলীগের তিন কর্মীকে নির্যাতন করার অভিযোগ উঠে নাভিদ গ্রুপের বিরুদ্ধে। 
    নির্যাতনের শিকার তিন শিক্ষার্থী হলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগের রাজু মোল্লা, মিলন হোসাইন ও উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী সিফাত হাসান। তাঁরা তিনজনই বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগ নেতা আলীম সালেহীর অনুসারী। 

    নির্যাতনের স্বীকার রাজু মোল্লা বলেন, আধিপত্যের রাজনীতির কারণেই আমি হামলার স্বীকার হয়েছি। আমি পরিচ্ছন্ন রাজনীতি চাই।  
    কিন্তু নগর রাজনীতির পটপরিবর্তনের সাথে সাথেই নাভিদকে ক্যাম্পাস থেকে বিতাড়িত করে ক্যাম্পাসে আধিপত্য বিস্তার শুরু করেন রক্তিম-বাকী গ্রুপ। তার কিছুদিন পরই অস্ত্র পাওয়ার অভিযোগে হল থেকে সাময়িক বহিষ্কার করা হয় তাহমিদ জামান নাভিদ ও তার কয়েকজন অনুসারীকে। এরপর ক্যাম্পাসের রাজনীতি থেকে নাভিদ অনেকটাই নিস্ক্রিয় হয়ে পড়েন।

    কিন্তু এ ঘটনার পরই বিশ^বিদ্যালয়ে রাজনীতি নতুন দিকে মোড় নেয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে সক্রিয় হয়ে ওঠে রক্তিম-বাকি গ্রুপ। তারা হলে থাকা নাভিদের অনুসারীদের নির্যাতন শুরু করে। 

    নাভিদের অনুসারী হয়ে নির্যাতনের শিকার ফিন্যান্স এন্ড ব্যাংকিং বিভাগের শিক্ষার্থী হাসিবুর রহমান মুন্না। থাকেন বিশ্ববিদ্যালয়ের বঙ্গবন্ধু হলে। তিনি প্রতিপক্ষের নির্যাতনের বিভিন্ন বর্ণনা দিয়ে বলেন, তাদেরকে যেকোনো সময় হলে গিয়ে শারীরিক ও মানসিক ভাবে নির্যাতন করা হতো। হল থেকে বের করে কেন্দ্রীয় মাঠে নিয়ে তাকে মারধর করায় বামে চোখে রক্ত জমা হয়। আলভী নামে আরেক ছাত্রের কানে সমস্যা হয়। তিনি বলেন, এ ধরনের হামলা-নির্যাতন তারা আরো অনেকের ওপর চালিয়েছেন। 

    নির্যাতিতদের মধ্যে রয়েছেন, ফিন্যান্স এন্ড ব্যাংকিং বিভাগের ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী আলভীর ইসলাম ও একাউন্টিং এন্ড ইনফরমেশন সিস্টেম বিভাগের ২০১৮ -১৯ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী শরিফুল ইসলাম। জানা যায়, চলতি বছরে ৬ বার হামলা সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। আধিপত্য ধরে রাখার জন্যই এসব হামলা ও সংঘর্ষের ঘটনা  ঘটেছে। এসব ঘটনায় গত ৫ বছরে থানায় ১২টি মামলা হয় বলে জানা যায়। সর্বশেষ গত ৫ আগস্ট ছাত্রলীগের দুই পক্ষের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। আহত হয় দু’পক্ষের ১২ জন। ক্যাম্পাসে বঙ্গবন্ধু ও শেরেবাংলা হলের দখল নেয় শান্ত-তমাল-খালিদ গ্রুপ। এদের নেতৃত্বে ছিলেন মুবাশ্বির রিদম। তিনি গণিত বিভাগের ২০১৫-১৬ শিক্ষাবর্ষের ছাত্র। মুবাশ্বির রিদম রক্তিম-বাকী গ্রুপের অনুসারী।

    ছাত্রলীগের এক গ্রুপের নেতৃত্বে থাকা অমিত হাসান রক্তিম বলেন, আমরা আধিপত্যের রাজনীতি চাই না। আমরা অস্ত্রের ঝনঝনানি চাই না। এ থেকে কোনো উপায়ে নির্মুল করতে চাই। 

    এ বিষয়ে বরিশাল মহানগর আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি অ্যাডভোকেট আফজালুল করীম বলেন, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে অধিকাংশ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে নিজের স্বার্থ হাসিলের জন্য। রাজনীতির কোন বিষয়ে নিয়ে সংঘর্ষ হয়নি।

    এ ব্যাপারে মুঠফোনে বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার অধ্যাপক ড. বদরুজ্জামান ভূঁইয়ার কাছে জানতে চাইলে তিনি একটি সভায় ব্যস্ত আছেন, পরে কথা বলবেন বলে সংযোগ বিছিন্ন করে দেন। 


    গুগল নিউজে (Google News) দৈনিক মতবাদে’র খবর পেতে ফলো করুন

    সর্বশেষ