ঢাকা মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬

Motobad news
শিরোনাম
  • তথ্যমন্ত্রীর সাথে সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আজিজুল হক আক্কাস’র সৌজন্য সাক্ষাত  ঘুষ নেওয়া নৌ-পুলিশের ২ সদস্য বরখাস্ত ঝালকাঠিতে চিকিৎসককে ‘ভাই’ ডাকায় চিকিৎসা পেল না শিশু বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন রেজিস্ট্রার ড. আবদুল আলিম বছির পটুয়াখালীতে ছাত্রকে বলাৎকারের অভিযোগে মাদরাসা শিক্ষক আটক জনগণের আস্থা অর্জন করতে হলে সততা, জবাবদিহি ও কার্যকর সেবার বিকল্প নেই: তথ্যমন্ত্রী উজিরপুরে শাপলা বিলে পানিতে ডুবে পর্যটকের মৃত্যু গৌরনদীতে চুরির অভিযোগে যুবককে বেঁধে নির্যাতন বরিশালকে পরিচ্ছন্ন জ্বালানির শহর ঘোষণার দাবিতে মানববন্ধন বকেয়া পাওনা পরিশোধের দাবিতে অলিম্পিক সিমেন্ট শ্রমিকদের অবস্থান
  • বরিশালে জাপা আহবায়কের পিস্তল নিয়ে ধস্তাধস্তি

    পাল্টাপাল্টি অভিযোগে দু’পক্ষের সংবাদ সম্মেলন

    পাল্টাপাল্টি অভিযোগে দু’পক্ষের সংবাদ সম্মেলন
    গুগল নিউজে (Google News) দৈনিক মতবাদে’র খবর পেতে ফলো করুন

    বরিশালে জাতীয় পার্টি (জাপা) ও শ্রমিক লীগ নেতার পিস্তল নিয়ে ধস্তাধস্তির ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তাপ ছড়াচ্ছে রাজনীতির অঙ্গনে। এ ঘটনায় পাল্টাপাল্টি অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন করছে উভয় পক্ষ।

     

    গতকাল সোমবার সকালে বরিশাল প্রেসক্লাবের তৃতীয় তলার হল রুমে জেলা জাতীয় পার্টির আহ্বায়ক ও ২ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর অ্যাডভোকেট এ কে এম মুরতজা আবেদীনের পক্ষে সংবাদ সম্মেলন করেন জেলা ও মহানগর জাতীয় পার্টি।

    এ সময় তারা বরিশাল শ্রমিক লীগের সাধারণ সম্পাদক রইজ আহম্মেদ মান্না ও তার সহযোগিদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। সংবাদ সম্মেলনে জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য এ কে এম মোস্তফা, বশির আহম্মেদ ঝুনুসহ জেলা ও মহানগর জাতীয় পার্টির সাবেক ও বর্তমান নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

    এদিকে বিকেল সাড়ে ৪টায় প্রেসক্লাবের একই হলরুমে শ্রমিক লীগের মহানগরের সাধারণ সম্পাদক রইজ আহমেদ মান্নাকে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যাচেষ্টার প্রতিবাদে এ সংবাদ সম্মেলন করেন জাতীয় শ্রমিক লীগের মহানগরের নেতারা।

    সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে জাতীয় শ্রমিক লীগ মহানগরের সাংগঠনিক সম্পাদক বেল্লাল হোসেন শিশির বলেন, রোববার পোর্টরোড ভূমি অফিসের সম্মুখে ৮০ থেকে ৯০ দশকের দুর্র্ধষ সন্ত্রাসী, এক সময়ের ক্রস ফায়ারের তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী, বহু মামলার আসামি মুরতজা আবেদীন পরিকল্পিতভাবে আমাদের সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক রইজ আহম্মেদ মান্নাকে জনসমক্ষে গুলি করে হত্যাচেষ্টার সময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত জনতা প্রতিহত করে এবং মুরতজা আবেদীনকে পিস্তলসহ পুলিশে সোপর্দ করে।

    ঘটনাটি অন্য খাতে প্রবাহিত করার জন্য মুরতজা আবেদীন প্রশাসন, সংবাদ মাধ্যমসহ অন্যান্য মহলে বিভিন্ন বিভ্রান্তিকর মিথ্যা তথ্য দিয়ে বরিশালবাসীসহ সব রাজনৈতিক মহলে ধোঁয়াশা তৈরি করার অপচেষ্টায় লিপ্ত রয়েছেন।  

    তাঁর অভিযোগ, মুরতজা আবেদীন গত ১২ জুন অনুষ্ঠিত সিটি কপোরেশন নির্বাচন চলাকালীন রইজ আহম্মেদ মান্নাসহ তার মা বোন এবং তিন ভাই প্রত্যেকের বিরুদ্ধে মিথ্যা হয়রানিমূলক মামলা দায়ের করান। এরপর ষড়যন্ত্রমূলক ভাবে একটি মিথ্যা তথ্য সম্বলিত অডিও রেকর্ড প্রচার করেন।

    মূলত ধারাবাহিকভাবে বরিশাল পৌরসভা থেকে শুরু করে সিটি কপোরেশনের বর্তমান পরিষদসহ সর্বমোট পাঁচবারের কাউন্সিলর থাকার পরে গত ১২ জুন নির্বাচনে সম্পূর্ণ নতুন মুখ রইজ আহম্মেদ মান্নার বড় ভাই মুন্নার কাছে পরাজয়ের বেদনা তাকে বিকৃত মস্তিষ্কের মানুষে পরিণত করেছে বলেও উল্লেখ করা হয় সংবাদ সম্মেলনে।  

    তিনি আরও বলেন, ঘটনার দিন কি কারণে মুরতজা আবেদীনের বুক পকেটে মোবাইল ফোন ছিল? কি কারণেই বা মোবাইল ফোনের ভিডিও অন করা ছিল? কি কারণে তিনি রইজ আহম্মেদ মান্নাকে উত্ত্যক্ত করেছিলেন? এবং বারে বারে ‘আমাকে মারবি তাহলে মার’ বলে আহ্বান জানাচ্ছিলেন? সুতরাং এসব ঘটনা মুরতজা সাহেবের প্রত্যাশিত সাজানো নাটক ছিল যা উনি ঘটনাস্থলে অভিনয় করে গেছেন।  

    এ সময় তিনি সাংবাদিকদের বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশন করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, আমাদের সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক রইজ আহম্মেদ মান্নাকে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যাচেষ্টার তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা জানাই। একই সঙ্গে ঘটনার নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে প্রকৃত অপরাধীর বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করতে প্রশাসনের প্রতি অনুরোধ করেন তিনি।  

    যদিও এসব অভিযোগ শুরু থেকেই অস্বীকার করে বরিশাল জেলা জাতীয় পার্টিও আহবায়ক অ্যাডভোকেট একেএম মুরতজা আবেদীন দাবি করেন, তার লাইসেন্স করা পিস্তল ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন মান্না ও তার সহযোগিরা। সেই সঙ্গে তিনিও তার করা ভিডিও আশপাশের সিসি ক্যামেরার ভিডিও পর্যালোচনা করার দাবি জানিয়ে হামলাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।  

    সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন, মহানগর শ্রমিক লীগের সভাপতি পরিমল চন্দ্র দাস, মহানগর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি গাজী নঈমুল হোসেন লিটু, সদস্য অ্যাডভোটেক রফিকুল ইসলাম খোকন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাসান মাহুমদ বাবু, অ্যাডভোকেট গোলাম সরোয়ার রাজিব প্রমুখ।  

    অন্যদিকে বরিশাল মরতুজা আবেদিনের ওপর শ্রমিক লীগ নেতার সন্ত্রাসী হামলা ও লাইসেন্স করা পিস্তল ছিনিয়ে নেয়ার অভিযোগ করে এ ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা জানিয়েছেন জাতীয় পার্টি মহাসচিব সংসদ সদস্য মুজিবুল হক চুন্নু। গতকাল তাঁর পাঠানো এক প্রতিবাদ লিপিতে সন্ত্রাসী হামলায় নেতৃত্ব দেয়া বরিশাল মহানগর শ্রমিক লীগের সাধারণ সম্পাদক রইজ আহমেদ মান্নাকে আইনের মুখোমুখি করার দাবি জানান তিনি।

    প্রসঙ্গত, সিটি করপোরেশনের ২ নম্বর ওয়ার্ডে ২৫ বছর ধরে জনপ্রতিনিধি অ্যাডভোকেট মুরতজা আবেদীন। গত সিটি নির্বাচনে তার এ ওয়ার্ডে নির্বাচনে প্রার্থী হয়েছিলেন তৎকালীন মহানগর ছাত্রলীগের আহ্বায়ক রইজ আহমেদ মান্না। তবে দলীয় নৌকা প্রতীকের প্রার্থীর সমর্থকদের মারধর, হুমকি-ধামকি দেওয়ার ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলায় কারাগারে থাকতে হয় তাকে। একই সঙ্গে হারাতে হয় মহানগর ছাত্রলীগের পদটিও।  

    এদিকে নির্বাচন কমিশন তার প্রার্থিতা বাতিল করলে মান্নার ভাই মুন্না হাওলাদার সেই নির্বাচনে প্রার্থী হন এবং মুরতজা আবেদীনকে হারিয়ে বিজয়ী হন। আর ওই নির্বাচন থেকেই উভয় পক্ষের মধ্যে বিরোধের বহিঃপ্রকাশ ঘটে।  

     


    আরজেএন
    গুগল নিউজে (Google News) দৈনিক মতবাদে’র খবর পেতে ফলো করুন

    সর্বশেষ