ঢাকা মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬

Motobad news
শিরোনাম
  • তথ্যমন্ত্রীর সাথে সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আজিজুল হক আক্কাস’র সৌজন্য সাক্ষাত  ঘুষ নেওয়া নৌ-পুলিশের ২ সদস্য বরখাস্ত ঝালকাঠিতে চিকিৎসককে ‘ভাই’ ডাকায় চিকিৎসা পেল না শিশু বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন রেজিস্ট্রার ড. আবদুল আলিম বছির পটুয়াখালীতে ছাত্রকে বলাৎকারের অভিযোগে মাদরাসা শিক্ষক আটক জনগণের আস্থা অর্জন করতে হলে সততা, জবাবদিহি ও কার্যকর সেবার বিকল্প নেই: তথ্যমন্ত্রী উজিরপুরে শাপলা বিলে পানিতে ডুবে পর্যটকের মৃত্যু গৌরনদীতে চুরির অভিযোগে যুবককে বেঁধে নির্যাতন বরিশালকে পরিচ্ছন্ন জ্বালানির শহর ঘোষণার দাবিতে মানববন্ধন বকেয়া পাওনা পরিশোধের দাবিতে অলিম্পিক সিমেন্ট শ্রমিকদের অবস্থান
  • ‘কর্তৃপক্ষ আমাদের কথা একবারও চিন্তা করলো না-ভুক্তভোগী!’

    শেবাচিমে পুরনো ভবন সংস্কার কাজ শুরু, বালুর স্তুপের পাশে থাকতে হচ্ছে রোগী ও স্বজনদের

    শেবাচিমে পুরনো ভবন সংস্কার কাজ শুরু, বালুর স্তুপের পাশে থাকতে হচ্ছে রোগী ও স্বজনদের
    গুগল নিউজে (Google News) দৈনিক মতবাদে’র খবর পেতে ফলো করুন

    নতুন অর্থবছরের শুরুতেই বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পুরানো ভবনে সংস্কার কাজ শুরু করেছে গণপূর্ত বিভাগ। হাসপাতালের নিচতলা থেকে পাঁচতলা পর্যন্ত প্রতিটি ওয়ার্ড এবং কক্ষে টাইলসসহ প্রয়োজনীয় উন্নয়ন করা হচ্ছে। কিন্তু রোগী ও তাদের স্বজনদের জন্য পর্যাপ্ত জায়গা না রেখে কাজ করায় দুর্ভোগে পড়তে হয়েছে ভুক্তভোগীদের।

     রোগীর বেশ কয়েকজন স্বজন জানান, শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালটিতে দক্ষিণাঞ্চলসহ আশপাশের বহু রোগী চিকিৎসার জন্য আসেন। তাই রোগীর সঙ্গে আসা স্বজনদেরও এখানে নানা কারণে থাকতে হয়। কিন্তু এমনিতেই হাসপাতালে রোগীর চাপে জায়গা সংকট। এর মধ্যে বারান্দায় নির্মাণ কাজের জন্য নিয়ে আসা বালুর স্তুপ করে রাখা হয়েছে। এখন বালুর মধ্যেই থাকতে হচ্ছে বাধ্য হয়ে। 

    সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, রোগীদের থাকার জন্য পর্যাপ্ত জায়গা না রেখে বারান্দায় বালুর স্তুপ করে রেখেছে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান। তার পাশেই অবস্থান করতে হচ্ছে রোগীর অসহায়  স্বজনরা। তারা বলেন, বালুর স্তুপের পাশে থাকা যায় না। সারাদিন বালু উড়তে থাকে। খাবারের মাধ্যমে বালু পেটে যায়। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ আমাদের কথা একবারের জন্যও চিন্তা করলো না।

    গতকাল শুক্রবার এমন চিত্রই দেখা গেছে হাসপাতালের দ্বিতীয় তলায় শিশু এবং স্ক্যানু ওয়ার্ডের সামনে। যেখানে বালুর বিশাল স্তুপের পাশেই অবস্থান নিয়ে আছেন নবজাতকদের অসুস্থ মায়েরা। এ থেকে রোগীর শরীরে রোগ-জীবাণু ছড়িয়ে পড়ার শঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

    দেখা গেছে, ‘হাসপাতালের পূর্ব পার্শ্বে দ্বিতীয় তলায় শিশু এবং নবজাতক ওয়ার্ডের বারান্দায় অবস্থান নিয়ে আছেন শিশু রোগীদের স্বজনরা। তারা সেখানে পাটি বা বেডশীট বিছিয়ে বিছানা পেতেছেন। তার পাশেই বালুর বিশাল একটি স্তুপ।
    ভুক্তভোগী নারী সানজিদা বেগম বলেন, ‘গত পাঁচদিন আগে আমার পুত্র সন্তান প্রসব হয়েছে। তবে সন্তানের অসুস্থতার কারণে তাকে স্ক্যানুতে ভর্তি রেখে চিকিৎসা করাতে হচ্ছে। তিনি বলেন, পাঁচদিন আগে এখানে আসার সময়ই দেখতে পাই ওয়ার্ডের সামনে বালুর বিশাল স্তুপ। কিন্তু বালুগুলো সরানোরও কোনো উদ্যোগ নেই। তাই বিকল্প কোন ব্যবস্থা না থাকায় বাধ্য হয়ে সেখানেই থাকতে হচ্ছে। খাওয়া-ঘুম সবই করতে হচ্ছে এখানে। খেতে বসলে বালু উড়ে এসে প্লেটে পড়ছে।

    চিকিৎসাধীন অপর এক নবজাতকের বাবা সাইফুল বলেন, ‘স্ক্যুাণু এবং নবজাতক ওয়ার্ডে একজনের বেশি দর্শক প্রবেশ নিষেধ। তাই বাচ্চার মা এবং স্বজনদের ওয়ার্ডের পাশে বারান্দায় অবস্থান করার জায়গা নির্ধারণ করে দিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। যেখানে মাইক লাগানো আছে। বাচ্চার স্বজনদের প্রয়োজন হলে মাইকের মাধ্যমে ডাকা হয়। কিন্তু বারান্দার যা অবস্থা, তাতে সেখানে কোনভাবেই বাচ্চার মাকে নিয়ে অবস্থান করা সম্ভব না।  

    এ প্রসঙ্গে গণপূর্ত বিভাগ বরিশাল মেডিকেল উপ-বিভাগের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী কামাল হোসেন বলেন, ‘শেবাচিম হাসপাতালে বাৎসরিক সংস্কার কার্যক্রমের অংশ হিসেবে ৮টি প্যাকেজে কাজ চলছে। এর মধ্যে বরান্দা এবং বিভিন্ন কক্ষে টাইলস স্থাপনসহ বিভিন্ন কাজ চলছে। এ কারণে দ্বিতীয় তলায় বালুর স্তুপ করে রাখা হয়েছে।

    তিনি বলেন, ‘আমরা হাসপাতাল পরিচালককে বলেছিলাম ওয়ার্ডগুলো খালি করে দেয়ার জন্য। কিন্তু হাসপাতালের বর্তমান পরিস্থিতিতে কোনভাবেই ওয়ার্ড খালি করে কাজ করা সম্ভব নয়। যে কারণে বাধ্য হয়ে রোগীদের রেখেই কাজ করাতে হচ্ছে। আর এটা করতে গিয়েই দ্বিতীয় তলায় বালু স্তুপ করে রাখতে হচ্ছে।

    গণপূর্ত বিভাগের এই কর্মকর্তা বলেন, ‘এই মুহূর্তে কিছু করার নেই। তবে আমরা চেষ্টা করছি যতদ্রুত সম্ভব কাজ শেষ করার। ঠিকাদারকে সেভাবেই নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। তাছাড়া যাতে ভোগান্তি না হয়, সে জন্য আমরা বিকেল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত কাজ করাচ্ছি।

    তবে রোগীর স্বজনরা বলছেন, ‘সংস্কার কাজ চলছে গোটা হাসপাতালজুড়ে। অথচ বালু স্তুপ করে রাখা হয়েছে শুধুমাত্র নবজাতক ও স্ক্যাণু বিভাগের সামনে। যেখানে স্বজনদের বাধ্যতামূলক অবস্থান করতে হচ্ছে। ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান চাইলে নীচতলায় বালু স্তুপ করে কাজ চালিয়ে যেতে পারে বলে মনে করছেন ভুক্তভোগীরা।
     


    আরজেএন
    গুগল নিউজে (Google News) দৈনিক মতবাদে’র খবর পেতে ফলো করুন

    সর্বশেষ