ঢাকা মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬

Motobad news
শিরোনাম
  • তথ্যমন্ত্রীর সাথে সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আজিজুল হক আক্কাস’র সৌজন্য সাক্ষাত  ঘুষ নেওয়া নৌ-পুলিশের ২ সদস্য বরখাস্ত ঝালকাঠিতে চিকিৎসককে ‘ভাই’ ডাকায় চিকিৎসা পেল না শিশু বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন রেজিস্ট্রার ড. আবদুল আলিম বছির পটুয়াখালীতে ছাত্রকে বলাৎকারের অভিযোগে মাদরাসা শিক্ষক আটক জনগণের আস্থা অর্জন করতে হলে সততা, জবাবদিহি ও কার্যকর সেবার বিকল্প নেই: তথ্যমন্ত্রী উজিরপুরে শাপলা বিলে পানিতে ডুবে পর্যটকের মৃত্যু গৌরনদীতে চুরির অভিযোগে যুবককে বেঁধে নির্যাতন বরিশালকে পরিচ্ছন্ন জ্বালানির শহর ঘোষণার দাবিতে মানববন্ধন বকেয়া পাওনা পরিশোধের দাবিতে অলিম্পিক সিমেন্ট শ্রমিকদের অবস্থান
  • বাস্তবে ৩-৪ জন থাকলেও টাকা ওঠে ১৫-২০ জনের নামে

    অধিকাংশ এতিমখানায় ভুয়া নাম দিয়ে রমরমা বাণিজ্য

    অধিকাংশ এতিমখানায় ভুয়া নাম দিয়ে রমরমা বাণিজ্য
    গুগল নিউজে (Google News) দৈনিক মতবাদে’র খবর পেতে ফলো করুন

    বরিশালের সদর উপজেলার কর্ণকাঠি আম্মানিয়া এতিমখানায় এতিম থাকেন মাত্র তিনজন। কিন্তু খাতায় নাম রয়েছে ১৬ জনের। এদের প্রত্যেকের খাওয়া-দাওয়া ও পড়াশোনার জন্য প্রতি ছয়মাসে ১ লাখ ৯২ হাজার টাকা সরকারি সাহায্য তোলা হয় সংশ্লিষ্ট সমাজসেবা অফিস থেকে। জানা গেছে, নাম সর্বস্ব এসব প্রতিষ্ঠানের নেপথ্যে রয়েছে প্রভাবশালী একটি গোষ্ঠী। যাদের কারণে এদের সবার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হয় না। এছাড়া সংবাদ সংগ্রহ করতে গেলেও বিভিন্ন ভাবে বাধার সম্মুখীন হতে হয়।

     

    জানা গেছে, বরিশাল জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের তালিকাভুক্ত এতিমখানা আছে ১০৭টি। এর প্রায় প্রত্যেকটিতেই চলছে অনিয়ম ও লুটপাট। সমাজসেবা অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের এসব বিষয়ে তদারকির কথা। কিন্তু তারা অনৈতিক সুবিধার বিনিময়ে চুপ থাকেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

    স্থানীয় অনেকে জানিয়েছেন, এ অবস্থা শুধু আম্মানিয়া এতিমখানায়ই নয়। বরিশাল নগরীসহ অন্যান্য উপজেলায়ও এ ধরনের অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানেই চলছে দুর্নীতি ও টাকা আত্মসাৎ। এতিমদের ভুয়া নাম ব্যবহার করে সরকারি লাখ লাখ টাকা আত্মসাৎ করছে অধিকাংশ এতিমখানা কর্তৃপক্ষ। নাম প্রকাশ না করে এক এতিম খানার ছাত্র জানায়, এখানে তাদের বাজার করা, মাছ কাটা ও রান্না করাসহ সব ধরনের কাজ করতে হয়। অথচ এখানে বাবুর্চি থাকার কথা।   

    খোঁজ নিয়ে জানাগেছে, কর্ণকাঠী আম্মানিয়া এতিমখানায় ১৬ জনের ভরণ পোষণের জন্য ক্যাপিটেশন বরাদ্দ দিয়েছে সমাজসেবা অধিদপ্তর। নিয়ম অনুযায়ী ১৬ জনের বরাদ্দ পেতে হলে সেখানে ৩২ জন এতিম থাকতে হবে। কিন্তু বাস্তবে গোটা প্রতিষ্ঠানে এতিম আছেন মাত্র তিনজন।  

    সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, দুই ছাত্রকে দিয়ে মাছ কাটা ও রান্নার কাজ করানো হচ্ছে। প্রতিষ্ঠানটি ১৯৮৫ সালে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার তিনবছর পর সমাজসেবা অধিদপ্তরের আওতায় ক্যাপিটেশনপ্রাপ্ত হয়। তবে চলতি অর্থবছরে জন্য এখনো এতিমদের তালিকা সমাজসেবা অধিদপ্তরে দেয়া হয়নি।  

    ক্যাপিটেশন অনুযায়ী প্রতি ৬ মাসে ১ লাখ ৯২ হাজার টাকা বরাদ্দ আসে কর্ণকাঠী আম্মানিয়া এতিমখানায়। তবে মাত্র তিনজনের ছাত্র থাকার পরেও সম্প্রতি ১৬ জনের বরাদ্দের টাকা পেয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। গত জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত এই টাকা উত্তোলন করা হয়েছে। আগামী নভেম্বরে আবার একই রকমের তালিকা দিয়ে ডিসেম্বর বা ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে বরাদ্দের টাকা তোলার কথা রয়েছে।

    কর্ণকাঠী আম্মানিয়া এতিমখানার হাসান নামে এক ছাত্রের দাবি, আমরা তিনজন ছাড়া বাকি সবাই ছুটি নিয়ে বাড়িতে গেছে।  
    অন্যদিকে এসব বিষয় নিয়ে সংবাদ প্রচার না করতে প্রতিবেদককে অনুরোধ জানান  এতিমখানার দায়িত্বে থাকা শাকিল হোসেন জিয়া। তিনি বলেন, বরাদ্দের ব্যাপারে আমি কিছু বলতে পারব না। এসব বিষয়ে সভাপতি জসীম উদ্দিন সব জানেন।

    তবে প্রতিষ্ঠানটির সাধারণ সম্পাদক মামুন সরদার গণি বলেন, নিত্যপণ্যের লাগামহীন দামেও  সমাজসেবা অফিস থেকে আগে যে টাকা পাইছি, এখনো তাই পাই। সেই টাকা দিয়ে এতিমদের খাওয়ানো হয়। গত দুই বছর অনেক এতিমের নাম কেটে দেয়া হয়েছে। এখন যে কয়জন আছে, সে অনুযায়ী ক্যাপিটেশন পাচ্ছি। তবে কতজন আছে সে প্রশ্ন তিনি এড়িয়ে গিয়ে মিটিংয়ের কথা বলে ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন তিনি।

    শুধু কর্ণকাঠী আম্মানিয়া এতিমখানাই নয়, সারুখালী হোসাইনিয়া শিশু সদনেরও একই অবস্থা। ক্যাপিটেশনে ২৬ জনের বরাদ্দ পেলেও মাদ্রাসায় এতিম রয়েছে ১২ জন। মাদরাসা পরিচালনার দায়িত্বে থাকা আব্দুল হালিমও বিষয়টি অকপটে স্বীকার করে বলেন, ভাই অনেক মাদরাসায়ই এভাবে চলছে।

    তবে প্রতিষ্ঠানটির সভাপতি জাকির হোসেন বলেন, আমি ঢাকায় বসবাস করছি। এলাকায় তেমন যাওয়া আসা হয়না। মাদরাসার খবর ভালো বলতে পারবেন হুজুর আব্দুল হালিম।
    এছাড়া পূর্ব চাঁদপুরা আহমদিয়া আ. মজিদ আলহাজ খোরশেদ আলী শরীফ এতিমখানার খাতায় নাম রয়েছে ৩০ জনের। কিন্তু বাস্তবে এতিম রয়েছেন ৯ জন। একই ভাবে চরকাউয়া আহমদিয়া এতিমখানায় ১৮ জনের স্থলে এতিম আছেন ৭ জন।  

    এতিম কারা হবেন:  সমাজ কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের বেসরকারি এতিমখানায় ক্যাপিটেশন গ্রান্ট বরাদ্দ ও বন্টন ২০১৫ নীতিমালায় ১৯৪৪ সালের এতিমখানা ও বিধবা সদন আইনের ধারা-২ এ (৩) অনুযায়ী ‘এতিম’ বলতে ১৮ বছরের কম বয়স্ক বালক-বালিকা হতে হবে। একই সঙ্গে ‘যিনি পিতৃহীন, অথবা পিতা-মাতা বা আইনগত অভিভাবক কর্তৃক যিনি পরিত্যক্ত হয়েছেন' তিনি এতিম হিসেবে স্বীকৃত হবেন।
    ক্যাপিটেশন কী? সমাজসেবা অধিদফতরের নিবন্ধিত বেসরকারি ভাবে প্রতিষ্ঠিত এতিমখানায় ভর্তিকৃত এতিম শিশুদের আর্থিক সহায়তা দিতে সরকার কর্তৃক নির্ধারিত হারে মাথা পিছু যে অনুদান দেয়, তা ক্যাপিটেশন গ্র্যান্ট হিসেবে গণ্য হবে।

    এতিমখানার শিশু ভর্তি পদ্ধতি:
    ক্যাপিটেশন গ্র্যান্টের জন্য আবেদনকারী এতিমখানায় এতিম শিশু ভর্তির জন্য নির্ধারিত ভর্তির আবেদন ফরম থাকতে হবে। ভর্তির জন্য প্রাপ্ত আবেদন যাচাই-বাছাই করে সংশ্লিষ্ট উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যানকে উপদেষ্টা করে নি¤œবর্ণিত ভর্তি কমিটি থাকবে। ওই ভর্তি কমিটির সর্বসম্মত সিদ্ধান্তক্রমে এতিমখানায় ভর্তি করা হবে।
    এ বিষয়ে বরিশাল জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক একেএম আখতারুজ্জামান তালুকদার মামুন বলেন, জেলায় এতিমদের তুলনায় এতিমখানা বেশি। সে ক্ষেত্রে যে সব এতিমখানায় প্রয়োজনীয় সংখ্যক এতিম নেই, সে সকল এতিমখানার বিল না দিতে আমার কার্যালয় থেকে মন্ত্রণালয়ে চিঠি দেওয়া আছে।  
    তিনি আরও বলেন, কর্ণকাঠি আম্মানিয়া এতিমখানাটি আমি পরিদর্শন করব, সেখানে কোনো এতিম না পাওয়া গেলে পরবর্তী বিল বাতিল করা হবে। এছাড়া এতিম না থাকার পরেও কীভাবে চলতি ছয় মাসের বিল দেওয়া হল, এ বিষয়ে ব্যাখ্যা চাওয়া হবে।

     


    আরজেএন
    গুগল নিউজে (Google News) দৈনিক মতবাদে’র খবর পেতে ফলো করুন

    সর্বশেষ