ঢাকা মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬

Motobad news
শিরোনাম
  • তথ্যমন্ত্রীর সাথে সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আজিজুল হক আক্কাস’র সৌজন্য সাক্ষাত  ঘুষ নেওয়া নৌ-পুলিশের ২ সদস্য বরখাস্ত ঝালকাঠিতে চিকিৎসককে ‘ভাই’ ডাকায় চিকিৎসা পেল না শিশু বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন রেজিস্ট্রার ড. আবদুল আলিম বছির পটুয়াখালীতে ছাত্রকে বলাৎকারের অভিযোগে মাদরাসা শিক্ষক আটক জনগণের আস্থা অর্জন করতে হলে সততা, জবাবদিহি ও কার্যকর সেবার বিকল্প নেই: তথ্যমন্ত্রী উজিরপুরে শাপলা বিলে পানিতে ডুবে পর্যটকের মৃত্যু গৌরনদীতে চুরির অভিযোগে যুবককে বেঁধে নির্যাতন বরিশালকে পরিচ্ছন্ন জ্বালানির শহর ঘোষণার দাবিতে মানববন্ধন বকেয়া পাওনা পরিশোধের দাবিতে অলিম্পিক সিমেন্ট শ্রমিকদের অবস্থান
  • এ সপ্তাহেই সংকট কেটে যাবে- বলেছেন বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক

    হাসপাতালগুলোতে স্যালাইন সংকট কাটেনি সাধারণ স্যালাইনও মিলছে না ফার্মেসিতে 

    হাসপাতালগুলোতে স্যালাইন সংকট কাটেনি সাধারণ স্যালাইনও মিলছে না ফার্মেসিতে 
    গুগল নিউজে (Google News) দৈনিক মতবাদে’র খবর পেতে ফলো করুন

    বরিশালে অস্বাভাবিক হারে বাড়তে শুরু করেছে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী। প্রতিদিনই বিভাগের ছয়টি জেলার সরকারি হাসপাতালে গড়ে ২শ থেকে ৩শ রোগী ভর্তি হচ্ছে। রোগীর চাপে বাড়ার সাথে সাথে বাড়ছে আইভি স্যালাইনের চাহিদা। যা সরবরাহ করতে গিয়ে হিমশিম খেতে হচ্ছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে।

    স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে বরিশাল বিভাগের ৬টি জেলা এবং ৩২টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আইভি বা নরমাল স্যালাইন মজুদ আছে ৬৩ হাজার ৯১৭ পিস। নতুন করে সরবরাহ না থাকায় মজুদের সংখ্যা ক্রমশ কমে আসছে। সামনের দিনগুলোতে রোগীর চাপ বেড়ে গেলে বিনামূল্যে সরকারি স্যালাইন সরবরাহে বেগ পেতে হতে পারে বলে শঙ্কিত হাসপাতাল সংশ্লিষ্টরা।

    যদিও স্যালাইন মজুদ যা আছে, তা দিয়ে এখনো দীর্ঘদিন যাবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বরিশাল বিভাগীয় পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) ডা. শ্যামল কৃষ্ণ মন্ডল। তিনি বলেছেন, ‘স্যালাইন নিয়ে চিন্তিত হওয়ার কারণ নেই। এরই মধ্যে স্যালাইন এবং ডেঙ্গু পরীক্ষার কীট চেয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখায় চিঠি পৌঁছে গেছে।

    শুধু সরকারিভাবেই নয়, বেসরকারি কোম্পানিগুলোরও সাধারণ স্যালাইন সরবরাহ কমে গেছে বলে দাবি করেছেন ওষুধ ব্যবসায়ীরা। চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় স্যালাইনের কৃত্তিম সংকট দেখানো হচ্ছে বলে অভিযোগ তাদের। সেই সুযোগে ৮৭ টাকা মূল্যের এই স্যালাইন যে যার মতো দামে বিক্রি করছেন অসাধু বিক্রেতারা। যদিও এ বিষয়ে অভিযোগ করে ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য বিভাগের পরিচালক ডা. শ্যামল কৃষ্ণ মন্ডল।

    বরিশাল স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য মতে, ‘চলতি বছরের গত জুন মাসের শেষের দিকে বরিশাল বিভাগে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী বাড়তে শুরু করে। ওই সময় হাসপাতালগুলোতে দৈনিক ডেঙ্গু রোগী ভর্তি রোগীর সংখ্যা ৫০-৭০ জনের মধ্যে থাকলে ধীরে ধীরে তা বাড়তে থাকে। এমনকি বিভাগে একদিনে সর্বোচ্চ ৪০৮ জন রোগী ভর্তির রেকর্ড রয়েছে স্বাস্থ্য বিভাগে।

    মেডিসিন রোগ বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, ‘ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত রোগীদের রক্তের জলীয় অংশ কমে যায়। এতে রক্তের ঘনত্ব বেড়ে যাওয়ার পাশাপাশি রক্তচাপ কমে যায়। এক্ষেত্রে রক্তের তারল্য ঠিক রাখতে ও রক্তচাপ স্থিতিশীল রাখতে রোগীকে স্যালাইন দিতে হয়।

    বিশেষজ্ঞদের মতে, একজন রোগীকে দিনে এক থেকে দুই লিটার স্যালাইন দিতে হয়। কোন কোন রোগীকে এর বেশিও দেয়ার প্রয়োজন হতে পারে। এ কারণে ডেঙ্গু বৃদ্ধির সাথে সাথে সরকারিভাবে সাধারণ স্যালাইনের মজুদ কমতে শুরু করেছে।

    বরিশাল বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের কার্যালয়ের তথ্য মতে, ‘চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে গত ৬ জুলাই পর্যন্ত বিভাগে মোট ৭৮২ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী ভর্তি হয় দুটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, ৫টি জেলা সদর হাসপাতাল এবং ৩২টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে। ওইসময় পর্যন্ত ডেঙ্গুতে মৃত্যুর সংখ্যা ছিল ১ জন।

    একই সময় ওই সংখ্যক সরকারি হাসপাতালগুলোতে স্যালাইনের মজুদ ছিলো ৭৩ হাজার ৪৯১টি। যার মধ্যে এক হাজার সিসি স্যালাইন ছিলো ৪৭ হাজার ১৩৮টি এবং পাঁচশত সিসি’র ২৬ হাজার ৩৫৩টি স্যালাইন ছিলো।

    ৭ জুলাই থেকে ২১ আগস্ট দুপুর পর্যন্ত বরিশাল বিভাগের সরকারি হাসপাতালগুলোতে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা এখন ১০ হাজার ৪৯১ জনে পৌঁছেছে। আর দেড় মাসে মৃত্যু হয়েছে ২৭ জনের। যা নিয়ে মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৮ জন।

    অপরদিকে, বিভাগের হাসপাতালগুলোতে সর্বশেষ ২১ জুলাই মোট ৬৭ হাজার ৯১৭টি স্যালাইন মজুদ রয়েছে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য বিভাগ। যার মধ্যে এক হাজার সিসি ৪২ হাজার ৭৯টি এবং পাঁচশত সিসি ২১ হাজার ৮৩৮টি।

    বিভিন্ন জেলা এবং উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, ‘নিয়ম অনুযায়ী সপ্তাহের ৫-৬ জন চাহিদাপত্র দিয়ে হাসপাতালগুলোর স্ট্রোর থেকে স্যালাইন সরবরাহ করা হয় ওয়ার্ড পর্যায়ে। এসব স্যালাইন শুধু ডেঙ্গু রোগীকেই নয়, ডায়রিয়াসহ সকল রোগীদের দেয়া হচ্ছে।

    জেলার দুটি সিভিল সার্জন কার্যালয়ের তথ্য মতে, স্যালাইনের মজুদ কমে গেলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখা থেকে পুনরায় সরবরাহ করে মজুদ বাড়ানো হয়। তবে ডেঙ্গুর প্রকোপ বৃদ্ধি বেড়ে যাওয়ায় স্যালাইনের চাহিদা বেড়ে যায়। কিন্তু এখনো স্যালাইন সরবরাহ হচ্ছে না। ফলে বর্তমানে যা মজুদ আছে তা দিয়ে ৭-১০ দিন পর্যন্ত যেতে পারে। আর রোগীর চাপ বেড়ে গেলে মজুদ স্যালাইন দিয়ে কতদিন চাপ সামাল দেয়া যায়, তা বলা কঠিন।

    এ প্রসঙ্গে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বরিশাল বিভাগীয় কার্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক ডা. শ্যামল কৃষ্ণ মন্ডল স্যালাইনের মজুদ কমে যাওয়ার বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, ‘ডেঙ্গু রোগীর চাপ বেড়ে যাওয়ায় স্যালাইনের চাহিদাও বেড়েছে। এ কারণে কিছুটা মজুদ কমলেও সেটা নিয়ে শঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। কেননা আমাদের এখনো যা মজুদ আছে তা দিয়ে অনেক দিন যাবে। কেননা বর্তমানে ডায়রিয়ার প্রকোপ নেই। ডায়রিয়ার প্রকোপ থাকলে স্যালাইনের প্রয়োজনিয়তা আরও বৃদ্ধি পেতো।

    তিনি বলেন, ‘গত সপ্তাহে স্যালাইন এবং ডেঙ্গু জ্বর পরীক্ষার কীট সরবরাহের জন্য স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখায় বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের দপ্তর থেকে চাহিদাপত্র প্রেরণ করা হয়েছে। আশা করছি এ সপ্তাহের মধ্যেই স্যালাইন এবং আরও কিছু পরিমাণ কীট পেয়ে যাবো। ডেঙ্গু পরিস্থিতিতে কোনভাবেই সরকারি স্বাস্থ্য সেবা বিঘিœত হওয়ার সুযোগ নেই বলেন স্বাস্থ্য বিভাগের এই কর্মকর্তা।


    আরজেএন
    গুগল নিউজে (Google News) দৈনিক মতবাদে’র খবর পেতে ফলো করুন

    সর্বশেষ