ঢাকা বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬

Motobad news
শিরোনাম
  • জিয়াউর রহমান হত্যায় পলাতক আসামি মেজর মোজাফফর আটক বানারীপাড়ায় জুলাই শহীদ দিবসে আলোচনা সভা ও শ্রদ্ধাঞ্জলি  বরিশালে ১১দলীয় ঐক্যের বিভাগীয় সমাবেশ জনসমুদ্রে পরিণত হবে: হেলাল বরিশালে পুলিশের চলমান বিশেষ অভিযানে গ্রেফতার ২১  বরিশালে জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণ ও শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা বাবুগঞ্জের ভূতেরদিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অ্যাডহক কমিটির সভাপতি হলেন ছাত্রদল নেতা মাহফুজুল আলম মিঠু  পাথরঘাটায় বলেশ্বর নদীতে ৯ যাত্রী নিয়ে বন বিভাগের ট্রলারডুবি, নিখোঁজ ১ শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের এক দফা দাবিতে বরিশালে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ পিরোজপুরে হত্যা মামলায় দুজনের যাবজ্জীবন পিরোজপুরে ঝর্ণা হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি হাই কোর্টে খালাস
  • ফেরিওয়ালা বাবার এক ছেলে বিসিএস ক্যাডার, আরেক ছেলে ফুটবলার

    ফেরিওয়ালা বাবার এক ছেলে বিসিএস ক্যাডার, আরেক ছেলে ফুটবলার
     মিরাজুল হকের সঙ্গে বিসিএস ক্যাডার ছেলে জাহাঙ্গীর আলম (বামে) ও ফুটবল নিয়ে খেলছেন আলমগীর মোল্লা (ডানে): 
    গুগল নিউজে (Google News) দৈনিক মতবাদে’র খবর পেতে ফলো করুন

    নানা প্রতিকূলতার বিরুদ্ধে মোকাবিলা করে নিজের ভাগ্য পরিবর্তন করেছেন ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার ফেরিওয়ালা মিরাজুল হকের দুই ছেলে। দীর্ঘদিন ধরে বাবা মিরাজের কষ্টের টাকায় ও নিজেদের অধ্যবসায়ে দুই ছেলে জাহাঙ্গীর আলম ও আলমগীর মোল্লাকে শিক্ষাজীবন চালিয়ে যেতে হয়েছে।

    তাদের বাবা মূলত ফেরি করেই সংসার চালান। সেই টাকা দিয়েই দুই ছেলেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে (ঢাবি) পড়িয়েছেন একসঙ্গে।
    ছোট থেকেই দুই ভাই খুব মেধাবী। অধ্যবসায়ের জোরে সব প্রতিকূলতাকে পেছনে ফেলে সাফল্য অর্জন করেছেন তারা। ফেরিওয়ালা বাবা যাদের গর্ব। জেলার কালীগঞ্জ মেইন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় ফেরি করে বিভিন্ন খাদ্যদ্রব্য বিক্রি করেন মিরাজ হক।

    ফেরিওয়ালা বাবা মিরাজের বড় ছেলে জাহাঙ্গীর সদ্যঘোষিত ৪১তম বিসিএসে শিক্ষা ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছেন। তার ছোট ছেলে আলমগীর ঢাবি ছাত্র ও জাতীয় ফুটবল দলের খেলোয়াড়। মিরাজের স্ত্রী জুলেখা বেগম কালীগঞ্জ শহরের অগ্রণী ব্যাংকের পরিচ্ছন্নতাকর্মী হিসেবে কাজ করেন।

    বড় ছেলে জাহাঙ্গীর ঢাবিতে সমাজকল্যাণ ও গবেষণা বিষয়ে মাস্টার্স শেষ করেছেন ও ছোট ছেলে আলমগীর একই বিশ্ববিদ্যালয়ে বিশ্ব ধর্ম ও সংস্কৃতি বিভাগের ছাত্র এবং জাতীয় ফুটবল দলের খেলোয়াড়।

    মিরাজুল হক অনেক আগে থেকেই কালীগঞ্জের মেইন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় যাত্রীবাহী বাস ও সিএনজি চালিত অটোরিকশায় বিভিন্ন জিনিসপত্র ফেরি করে বিক্রি করেন।

    মিরাজ হক বলেন, ‘স্বপ্ন ছিল ছেলেরা পড়াশোনা করে চাকরি করবে, এ জন্যই তো এই শ্রম। এভাবে কষ্ট করে চলি। বৃষ্টির দিনও ব্যবসা বন্ধ রাখিনি সন্তানদের কথা চিন্তা করে। আর এই পথ পাড়ি দিতে অনেক ঘাত-প্রতিঘাত মোকাবিলা করতে হয়েছে।  

    অভাবের সংসারে কোনোদিন কারও কাছে ছেলে-মেয়েদের জন্য হাত পাতেননি তিনি। সংগ্রাম করে ছেলেদের লেখাপড়া করিয়েছেন। হাজারো কষ্ট করেছেন, কিন্তু ছেলেদের ক্ষেত্রে অভাবের ঘানি তিনি বুঝতে দেননি।

    মিরাজুল হকের স্ত্রী জুলেখা বেগম জানান, ছেলে দুটির পড়ালেখা করাতে তাদের অনেক কষ্ট করতে হয়েছে। খেয়ে না খেয়ে জোগাতে হয়েছে তাদের পড়ালেখার খরচ। অবশেষে ছেলেদের এই সাফল্যে তিনি খুবই খুশি। সবার কাছে দোয়াও চেয়েছেন।


    এইচকেআর
    গুগল নিউজে (Google News) দৈনিক মতবাদে’র খবর পেতে ফলো করুন

    সর্বশেষ