ঢাকা সোমবার, ০৩ অগাস্ট ২০২৬

Motobad news
মহিলা ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রীর শেবাচিম হাসপাতাল পরিদর্শন

বরিশালে পাঁচ জয়িতাকে সংবর্ধনা 

বরিশালে পাঁচ জয়িতাকে সংবর্ধনা 
গুগল নিউজে (Google News) দৈনিক মতবাদে’র খবর পেতে ফলো করুন

বরিশাল বিভাগের পাঁচজর শ্রেষ্ঠ জয়িতাকে সন্মাননা প্রদান করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার বরিশাল জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে মহিলা ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ফজিলাতুন নেসা ইন্দিরা প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বরিশাল বিভাগের নির্বাচিত পাঁচজন শ্রেষ্ঠ জয়িতার হাতে সম্মাননা স্মারক, নগদ অর্থ ও সনদ তুলে দেন।

সম্মাননা প্রাপ্ত জয়িতারা হলেন-অর্থনৈতিকভাবে সাফল্য অর্জনকারী নারী ক্যাটাগরীতে বরিশাল জেলার জবেদা বেগম, শিক্ষা ও চাকুরি ক্ষেত্রে সাফল্য অর্জনকারী বরিশাল জেলার ড. রহিমা নাসরিন, সফল জননী ক্যাটাগরীতে বরিশাল জেলার মাজেদা বেগম, নির্যাতনের বিভীষিকা মুছে ফেলে নতুন উদ্যোমে জীবন শুরু করা বরিশাল জেলার মরিয়ম বেগম এবং সমাজ উন্নয়নে অসামান্য অবদান রাখায় বরিশাল জেলার রেহানা বেগম।

শ্রেষ্ঠ জয়িতাদের সন্মাননা প্রদান , নারী ও শিশু নির্যাতন এবং বাল্য বিবাহ প্রতিরোধে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে মহিলা ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ফজিলাতুন নেসা ইন্দিরা বলেন, একসময়ের ক্ষুধার্ত, বুভুক্ষু ও অনুন্নত বাংলাদেশ আজ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আজ উন্নয়নশীল দেশ। উন্নয়নের সকল সূচকে দেশ এগিয়ে যাচ্ছে। এই জয়িতারা ২০৪১ সালের স্মার্ট, উন্নত ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গঠনে জয়িতারা অগ্রণী ভূমিকা রাখবে।

প্রতিমন্ত্রী ইন্দিরা বলেন, নারীর অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নকে বেগবান করার লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০১১ সালে জয়িতা কার্যক্রমের সুচনা করেন। জয়িতার কার্যক্রম বিভাগ, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে ছড়িয়ে  পড়েছে এবং নারীবান্ধব একটি বিপণন নেটওয়ার্ক গড়ে উঠেছে। জয়িতাকে কেন্দ্র করে তৃণমূল পর্যায়ে নারী উদ্যোক্তাদের মাঝে আত্মবিশ্বাস,উতসাহ ও উদ্দীপনার সৃষ্টি হয়েছে। 

তিনি বলেন, জাতির পিতা সংবিধানে নারী অধিকার ও সমতা নিশ্চিত করেছেন। স্বাধীনতা অর্জনের পর জাতির পিতা নারীর ক্ষমতায়ন ও কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেন। এরই ধারাবাহীকতায় বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশে নারীর উন্নয়নে প্রকল্প, কর্মপরিকল্পনা ও উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছেন। যার ফলে জেন্ডার সমতা অর্জনের মাধ্যমে বাংলাদেশ নারী উন্নয়ন ও নারীর ক্ষমতায়নে বিশ্বে রোল মডেল সৃষ্টি করেছে। সরকারের নারীবান্ধব উন্নয়ন ও নীতি কৌশল বাস্তবায়নের ফলে গত একযুগে সরকারি, বেসরকারি, আত্মকর্মসংস্থানসহ সকল ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য হারে নারীর অংশগ্রহণ বৃদ্ধি পেয়েছে।

প্রতিমন্ত্রী ইন্দিরা আরো বলেন, নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতা বন্ধ করতে স্থানীয় প্রশাসন, আইন শৃঙ্খলা বাহিনী, জনপ্রতিনিধি ও কমিউনিটি নেতৃবৃন্দকে একসাথে কাজ করতে হবে। নারী ও শিশু নির্যাতন রোধে দুটি নতুন কমটি গঠন ও সকল কমিটি পুনর্গঠন করা হয়েছে।

বরিশাল বিভাগীয় কমিশনার মো. আমিন উল আহসানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. হাসানুজ্জামান কল্লোল, মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ফরিদা পারভীন, বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মো. সাইফুল ইসলাম ও বরিশাল জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এ্যাডভোকেট তালুকদার মো. ইউনুস।

আরো উপস্থিত ছিলেন জাতীয় মহিলা সংস্থার নির্বাহী পরিচালক আবেদা আক্তার ও জেলা প্রশাসক বরিশাল মো. জাহাঙ্গীর হোসেনসহ মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়, বরিশাল বিভাগ ও জেলা  পর্যায়ের কর্মকর্তাবৃন্দ। অনুভূতি ব্যক্ত করেন শিক্ষা ও চাকুরি ক্ষেত্রে সাফল্য অর্জনকারী ড. রহিমা নাসরিন। পুরস্কার পর্ব শেষে ছিল মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।

বরিশাল ডিএনএ ল্যাব ও ওসিসি পরিদর্শন
এদিকে, মহিলা ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ফজিলাতুন নেসা ইন্দিরা সকালে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় প্রতিষ্ঠিত ডিএনএ ল্যাব ও ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টার (ওসিস পরিদর্শন করেন। পরিদর্শন শেষে প্রতিমন্ত্রী ফজিলাতুন নেসা ইন্দিরা মেডিকেল কলেজের মিলনায়তনে ডিএনএ ল্যাব ও ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টার বিষয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও সংশ্লিষ্টদের সাথে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।

মতবিনিময় সভায় মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. হাসানুজ্জামান কল্লোল, মহাপরিচালক ফরিদা পারভীন, বিভাগীয়  কমিশনার মো. আমিন উল আহসান, হাসপাতালের পরিচালক ডা. এইচ এম সাইফুল ইসলাম ও অধ্যক্ষ ডা. মো. মনিরুজ্জামান উপস্থিত ছিলেন।
 


এইচকেআর
গুগল নিউজে (Google News) দৈনিক মতবাদে’র খবর পেতে ফলো করুন