দক্ষিণাঞ্চলে শীতের দাপট, ১০ শিশুর মৃত্যু

পৌষের প্রথম দিকেই দক্ষিণাঞ্চলে বাড়ছে শীতের প্রকোপ। এতে বরিশালসহ আশপাশের জেলাগুলোতে বাড়ছে নিউমোনিয়াসহ শীতজনিত রোগ-বালাই। বরিশাল শের-ই- বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এ মাসে ১০ শিশুর মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।
চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণ রোগের বিস্তারে হাসপাতালগুলোতে রোগীদের শয্যা সংকট দেখা দিয়েছে। বেশি আক্রান্ত হচ্ছে শিশু ও বয়স্করা।
মঙ্গলবার সকালে শের-ই- বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে গিয়ে দেখা যায়, নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া, শ্বাসকষ্ট ও জ্বর-সর্দিসহ বিভিন্ন রোগের আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসা নিচ্ছে শিশুরা। সেখানে তিল ধারণের ঠাঁই নেই। ৩৬ শয্যার ওয়ার্ডটিতে শয্যা না পেয়ে মেঝেতে বিছানা পেতে রাখা হয়েছে অনেককে। চিকিৎসা দিতে হিমশিম খাচ্ছেন নার্স ও চিকিৎসকরা।
বরিশালের চরবাড়িয়া এলাকার নাসরিত আক্তার বলেন, গত দুই দিন আগে তাঁর তিন মাসের ছেলে মুজাহিদকে জ¦র-সর্দি নিয়ে হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে ভর্তি করেছেন।
আকবর আলী নামে নলছিটির বাসিন্দা জানান, তার মেয়ে শিশু নিপা (৫) শ্বাসকষ্ট ও ঠান্ডা জনিত রোগে আক্রান্ত। কিন্ত হাসপাতালে শয্যা সংকট। তাই বাধ্য হয়ে অসুস্থ মেয়েকে নিয়ে মেঝেতে গাদাগাদি করে থাকতে হচ্ছে।
বরিশাল শের ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে জানা গেছে, গত ৫ ডিসেম্বর থেকে ২৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত শিশু ওয়ার্ডে ঠান্ডা জনিত রোগে মোট ১০ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া ভর্তি হয়েছে ১৪১ জন। যাদের মধ্যে ২৯ দিন থেকে ৪/৫ বছর বয়সী শিশুর সংখ্যাই বেশি।
ওয়ার্ডের সেবিকারা জানান, শিশু ওয়ার্ডে শয্যা সংখ্যা ৩৬ টি। কিন্তু রোগী ভর্তি আছে চার গুণেরও বেশি।
চিকিৎসকেরা বলছেন, শীত মৌসুম শুরুর পর শ্বাসতন্ত্রের প্রদাহজনিত রোগ বা অ্যাকিউট রেসপিরেটরি ইনফেকশন (এআরআই)) বা সর্দি-কাশি, গলাব্যথা, ব্রঙ্কাইটিস, ব্রঙ্কুইলাইটাস ও নিউমোনিয়াসহ বিভিন্ন রোগের ব্যাপক প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। তাই এবার রোগীর চাপ বেশি।
হাসপাতালের শিশু বিভাগে কর্মরত সিনিয়র স্টাফ নার্স জোসনা আক্তার জানান, প্রতিদিন ৩০-৪০ জন শিশু নিউমোনিয়া ও শ্বাসকষ্টসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়ে ভর্তি হচ্ছে হাসপাতালে।
এদিকে, ঠাণ্ডা থেকে শিশুদের সুরক্ষা দিলে এসব রোগ এড়ানো সম্ভব বলে মনে করছেন চিকিৎসকরা। তারা বলছেন, পরিবর্তনশীল আবহাওয়ার কারণে শীতল বাতাসে শিশুরা রোগাক্রান্ত হচ্ছে বেশি।
এ সময়ে এ রোগ মুক্ত থাকার জন্য গরম কাপড় ব্যবহার ও যতটা সম্ভব ঠাণ্ডা পরিবেশ এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিয়েছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। পাশাপাশি নিজেদের মতো গরম কাপড়সহ উষ্ণ পরিবেশে থাকার কথাও বলছেন তারা।
বরিশাল বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের উপ পরিচালক (প্রশাসন) শ্যামল কৃষ্ণ মণ্ডল বলেন, পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে বিভাগের সব হাসপাতাল ও ইউনিয়ন পর্যায়ের স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোকে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।
বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডা. এইচ এস সাইফুল ইসলাম বলেন, ১৯৬৮ সালে হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার পর আবকাঠামোগত কোনো উন্নয়ন হয়নি। তাই রোগীদের ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। আমরা রোগীদের সমস্যার কথা মাথায় রেখে কাজ করছি।
তিনি বলেন, ‘শিশুদের অভিভাবকরা প্রাথমিক চিকিৎসা দেয় বাসায় বা উপজেলা হাসপাতালে। যখন অবস্থার অবনতী হয়, শেষ পর্যায় আমাদের কাছে নিয়ে আসে। এ বিষয়ে অভিভাবকদের সচেতন হওয়ার পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা শিশুদের অক্সিজেন, ইনহেলারের মাধ্যমে চিকিৎসা দিয়ে থাকি। যা প্রত্যন্ত অঞ্চলে পাওয়া যায় না।
এইচকেআর