ঢাকা সোমবার, ০৩ অগাস্ট ২০২৬

Motobad news

আর্জেন্টিনার পতাকা টানানোয় চতুর্থ শ্রেণীর ছাত্রকে নির্যাতন

আর্জেন্টিনার পতাকা টানানোয় চতুর্থ শ্রেণীর ছাত্রকে নির্যাতন
গুগল নিউজে (Google News) দৈনিক মতবাদে’র খবর পেতে ফলো করুন

বাসার ছাদে আর্জেন্টিনার পতাকা টানানোয় চতুর্থ শ্রেণীর স্কুলছাত্রকে আটকে নির্যাতনের অভিযোগ পাওয়া গেছে বাড়িওয়ালার বিরুদ্ধে। মারাত্মক জখম ওই শিশু শিক্ষার্থী হাসপাতালে তিনদিন চিকিৎসা নেওয়ার পরে নিজের বাসায় ফিরতে পারছে না ভয়ে। 

ঘটনাটি ঘটেছে বরিশাল নগরীর রূপাতলী হাউজিংয়ের তিন নম্বর রোডের ব্লক এ ১/১৩ হোল্ডিংয়ের মা মঞ্জিলে। এ ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। 

জানা গেছে, গত ৮ ডিসেম্বর (বৃহস্পতিবার) দুপুরে মা মঞ্জিলের বাড়িওয়ালা ফিরোজ মোল্লার ছেলে ও নিচতলার ভাড়াটিয়া শেখ শাহ জামানের একমাত্র পুত্র শেখ সিয়াম, সুজন মিলে চারতলা ভবনের ছাদে আর্জেন্টিনার পতাকা টানাতে যান। খবর পেয়ে বাড়িওয়ালা ফিরোজ মোল্লা ছাদে গিয়ে তাঁর ছেলেকে বাসায় পাঠিয়ে দিয়ে ভাড়াটিয়া শেখ সিয়ামকে ছাদে আটকে লাঠি দিয়ে বেদম মারধর করে। সিয়াম শহীদ আব্দুর রেব সেরনিয়াবাত সরকারি বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণীর ছাত্র। 

আহতের পিতা শেখ শাহ জামান বলেন, কি কারনে আমার ছেলেকে মারধর করলো সেটাই জানতে চাই। আমি থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছি। আমি চাই আমার ছেলেকে মারধর করার বিচার করা হোক। 

আহতের মাতা কলি বেগম বলেন, আমিতো চলাচল করতে পারি না। আমার ছেলে বাড়িওয়ালার ছেলের সাথে ছাদে গেলে বাড়িওয়ালাকে অনুরোধ করি যেন দুজনকে নিচে পাঠিয়ে দেয়। সে ছাদে গিয়ে তাঁর ছেলেকে বাসায় পাঠিয়ে দিয়ে আমার ছেলেকে পিটিয়ে বেহুশ করে ফেলে। ওর পিঠ রক্তাক্ত হয়ে যায়। উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করার পর তিনদিন চিকিৎসা শেষে ও এখন এই বাসায় আসতে চায় না। সে ভয়ে তাঁর মামার বাড়িতে গেছে। 

সোমবার (১২ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় ঝালকাঠির জেলার নানা বাড়িতে কথা হয় আহত শিশু শেখ সিয়ামের সাথে। তাঁর শরীরে এখনো মারধরের চিহ্ন স্পষ্ট। সিয়াম জানায়, ছাদে আর্জেন্টিনার পতাকা টানানোয় বাড়িওয়ালা আমাকে আটকে টানা ২০ মিনিট ধরে লাঠি দিয়ে মারধর করেছে। আমি হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়ে মামা বাড়িতে এসেছি। ওই বাসায় যেতে আমার ভয় লাগে। 

ফিরোজ মোল্লার স্ত্রী জানিয়েছেন, ছাদে গিয়ে পরে যেতে পারে এজন্য দুজনকেই শাসন করেছে। আমার ছেলেকেও মেরেছে তাঁর ছেলেকেও মেরেছে। মারধরে আপনার (বাড়িওয়ালার) ছেলেকে হাসপাতালে ভর্তি করাতে হয়েছে কিনা জানতে চাইলে প্রসঙ্গ এড়িয়ে যান। তবে স্বীকার করেন, মারধরে মাত্রা বেশি হয়েছে। 

স্থানীয়রা জানিয়েছেন, ফিরোজ মোল্লা এলাকায় বেপরোয়া আচরণ করেন। ৮ ডিসেম্বর সিয়ামকে মারধর করে বিকেলে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় আরেক ছেলেকে মারধর করতে গেলে তাঁরা ৯৯৯ নম্বরে কল করলে পুলিশ গ্রেফতার করে ফিরোজ মোল্লাকে কারাগারে পাঠিয়েছেন।  

কোতয়ালী মডেল থানার উপ-পুলিশ পরিদর্শক (এসআই) জোবায়ের বলেন, শিশুকে মারধরের  একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। অভিযোগটি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
 


এইচকেআর
গুগল নিউজে (Google News) দৈনিক মতবাদে’র খবর পেতে ফলো করুন