ঢাকা মঙ্গলবার, ০৪ অগাস্ট ২০২৬

Motobad news

দক্ষিণাঞ্চলের প্রথম ব্যান্ড ক্রিডেন্সের লিড ভোকাল টুটুল আর নেই

দক্ষিণাঞ্চলের প্রথম ব্যান্ড ক্রিডেন্সের লিড ভোকাল টুটুল আর নেই
গুগল নিউজে (Google News) দৈনিক মতবাদে’র খবর পেতে ফলো করুন

স্বাধীন বাংলায় বরিশাল বিভাগের প্রথম ব্যান্ড গ্রুপ ক্রিডেন্সের ভোকালিস্ট কুদরত এলাহী টুটুল (৬৭) ইন্তেকাল করেছেন। শনিবার (৩ ডিসেম্বর) সকাল সাড়ে ৮টায় তিনি ইন্তেকাল করেন। (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজেউন।)

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তাঁর ছেলে তৌসিফ এলাহী। তিনি বলেন, বাবা বাধ্যর্কজনিত বেশকিছু রোগে আক্রান্ত ছিলেন। আসরবাদ বগুড়া রোড চৈতন্য স্কুল প্রাঙ্গনে নামাজের জানাজা শেষে মুসলিম গোরস্থানে দাফন করা হয়।

কুদরত এলাহী টুটুল বরিশাল মহানগর আওয়ামী লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ও ১৭ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি ছিলেন। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী ও দুই ছেলে সন্তানসহ অসংখ্য গুনগ্রাহী রেখে গেছেন। 

তা‍ঁর মৃত্যুতে বরিশালের ব্যান্ড শিল্পীসহ সুশীল সমাজের মাঝে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

 ক্রিডেন্স ব্যান্ডের প্রতিষ্ঠাকালীন সদস্য জিল্লুর রহমান বলেন, ৫৫ বছর অধিক সময় ধরে একসাথে পথ চলা আমার ও টুটুলের। কত স্মৃতিই না আজ হাতরে বেড়াতে হচ্ছে। চলতি বছরের আমার দুই ভাই আমাকে ছেড়ে গেছে, এখন সবথেকে কাছের বন্ধুটিও ছেড়ে গেলো। সবাই ওর জন্য দোআ করবেন। 

তিনি বলেন, এসএসসি পরীক্ষা শেষে টুটুল ঢাকায় গিয়েছিলো পড়াশুনা  করার জন্য, তবে সে কিছুদিন পরে বরিশালে ফিরে আসে এবং আমাদের ব্যান্ডে ভোকালিস্ট হিসেবে যোগ দেয়।

তিনি বলেন, ১৯৭৪ সালে আমাদের ব্যান্ডের যাত্রা শুরু হয়। তখন ব্যান্ড বলা হতো না পপ গ্রুপ বলা হতো। আজম খান ও ফেরদৌস ওয়াহিদ পপ গ্রুপ ছিলো ঢাকায়, আর সেই সমসাময়িক সময়ে রিন্টু, রফিক, কাওসার, জন মাইকেল চৌধুরী পিন্টু ও আমি ক্রিডেন্স ব্যান্ডের প্রতিষ্ঠা করি।

এরপর টুটুল এসে যোগ দিলে আমাদের ব্যান্ড আরও চাঙ্গা হয়। তখনকার যুব সমাজের মাঝে টুটুল বেশ জনপ্রিয় ছিলো।

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট রাতে ব্যান্ডের সবাই আমরা শহীদ আব্দুর রব সেরনিয়াবাতের বাসভবনে থেকে ভয়ানক সেই রাতের সাক্ষী হয়েছিলাম। ভাগ্যক্রমে টুটুল পারিবারিক কারনে সেদিন ঢাকায় যেতে পারেনি কিন্তু সে আমার জীবনের সবথেকে ঘনিষ্টজন ছিলো। 

এ ব্যান্ডের সাথে নব্বই দশক থেকে পথ চলতে থাকা মিন্টু চৌধুরী, সুবীর প্যাট্রিক মধু ও সমরেশ রায় পলাশ বলেন, টুটুল ভাইসহ এ ব্যান্ডের প্রতিষ্ঠাকালীন সবাই বন্ধুসুলভ ছিলেন, সবাই একসাথে হলে আড্ডায় মেতে উঠতেন জীবনের এই বয়সে এসেও। তাদের কাছ কতকিছু শিখেছি। কিন্তু এভাবে চলে যাবেন ভাবতে পারিনি।
 


এইচকেআর
গুগল নিউজে (Google News) দৈনিক মতবাদে’র খবর পেতে ফলো করুন