ঢাকা মঙ্গলবার, ০৪ অগাস্ট ২০২৬

Motobad news
প্রতিষ্ঠার ১১ বছর পর 

আপন ঠিকানায় বিএমপি পুলিশ

আপন ঠিকানায় বিএমপি পুলিশ
গুগল নিউজে (Google News) দৈনিক মতবাদে’র খবর পেতে ফলো করুন

প্রতিষ্ঠার এক যুগের অধিক সময় পরে আপন ঠিকানায় ফিরলো বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ (বিএমপি)। অর্থাৎ ভাড়াটিয়া ভবন ছেড়ে এবার নিজস্ব কার্যালয়ে স্থানাস্তর করা হয়েছে বিএমপির সদরদপ্তর।

বুধবার মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার কার্যালয়ের মালামাল স্থানান্তর করা হয়েছে বান্দরোডস্থ শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বিপরিতে নির্মিত ৬ তলা বিশিষ্ট অত্যাধুনিক ভবনে। আজ বৃহস্পতিবার থেকে নতুন ভবনে অফিস কার্যক্রম শুরু করবেন মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মো. সাইফুল ইসলাম। এছাড়া আগামী রোববারের মধ্যে সিটিএসবি এবং ডিবিসহ সংশ্লিষ্ট বিভাগের কার্যক্রমও শুরু হবে নিজস্ব ভবনে।

এমনটিই নিশ্চিত করেছেন বরিশাল মেট্রোপলিটন (বিএমপি) কমিশনার মো. সাইফুল ইসলাম। তিনি বলেছেন, নতুন ভবনটি এখনো হস্তান্তর করেনি গণপূর্ত বিভাগ। তবে এখন যে অবস্থায় আছে তাতে সেখানে অফিস কার্যক্রম পরিচালনা করা সম্ভব। তাই বর্তমানে আমতলার মোড়ে যেখানে মেট্রোপলিটন পুলিশের অস্থায়ী কার্যালয় ছিলো সেই ভবন মালিককে আমরা ভবন ছেড়ে দেয়ার বিষয়টি আগেভাগেই জানিয়ে দিয়েছি। তবে আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের জন্য কিছুটা সময় লাগবে বলে জানান তিনি।

তবে নিজস্ব কার্যালয়ে মেট্রোপলিটন পুলিশের কার্যক্রমকে আরও যেমন গতিশীল করবে তেমনি বছরে সরকারের ভাড়া বাবদ প্রায় কোটি টাকা রক্ষা পাবে বলে মন্তব্য করেছেন মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মো. সাইফুল ইসলাম।
বরিশাল গণপূর্ত বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ‘নগরীর বান্দ রোডে শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বিপরিতে এবং পানি উন্নয়ন বোর্ড কার্যালয়ের পাশে নির্মাণ করা হয়েছে ৬ তলা বিশিষ্ট অত্যাধুনিক নগর পুলিশ কমিশনার কার্যলয় ভবনটি। স্বরাস্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধিনে বাংলাদেশ সরকারের নিজস্ব অর্থ্যায়নে নির্মিত হয়েছে এই ভবনটি। নবনির্মিত আধুনিক প্রযুক্তি সম্পূর্ন মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার কার্যালয় ভবনটি নির্মাণে প্রথম পর্যায়ে ১০ কোটি এবং পরে আরও ১৩ কোটি টাকাসহ সর্বমোট ২৩ কোটি টাকা বরাদ্ধ দেয়া হয়।

বরিশাল গণপুর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. কামরুল হাছান বলেন, মেট্রোপলিটন পুলিশ সদরদপ্তর এবং রূপাতলী এলাকায় মেট্রোপলিটন পুলিশ লাইন্স নির্মাণ প্রকল্পটি সুষ্ঠ ও সুন্দরভাবে সম্পূর্ন করতে গণপুর্ত বিভাগ কাজ করছে। আগামী বছরের জুনে মেট্রোপলিটন পুলিশ লাইন্সের কাজ সম্পন্ন হবে এবং এটি সংশ্লিষ্টদের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

তবে মেট্রোপলিটন পুলিশ সদরদপ্তর নির্মাণ প্রকল্পের কাজ এরিমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। তবে এখনো ভবনটি আমরা হস্তান্তর করতে পারিনি। ডিসেম্বরের মাঝামাঝি সময়ের মধ্যে হস্তান্তর করা সম্ভব হবে জানিয়ে গণপুর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী বলেন, ‘হস্তান্তরের আগেই কার্যালয়টি ব্যবহারের জন্য বিএমপি কমিশনার মহোদয় আমাদের সাথে কথা বলেছি। এমনকি আজ (৩০ নভেম্বর) থেকে তিনি নতুন ভবনে অফিস করবেন বলে আমাকে জানিয়েছে। ভবনটির এখন যে পরিস্থিতিতে তাতে সেখানে অফিস কার্যক্রম পরিচালনা সম্ভব।

এ প্রসঙ্গে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘বর্তমানে আমতলার মোড়ে যে ভবনটিতে আমাদের সদরদপ্তর সেই ভবন মালিককে প্রতি মাসে ভাড়া বাবদ ৮ লাখ টাকা দিতে হচ্ছে। তাকে করে বছরে প্রায় কোটি টাকা ভাড়া দিতে হচ্ছে সরকারকে। তাছাড়া নতুন ভবনের নির্মাণ কাজ শেষ হয়েছে। এখন সেখানে নগর পুলিশের কার্যক্রম পরিচালনা করা সম্ভব। আমরা চাইলে আরও কিছুদিন পরে যেতে পারতাম। কিন্তু তাতে সরকারি অর্থের অপচয় হতো। সেই দিক বিবেচনা করে নতুন ভবনে অফিস কার্যক্রম শুরু করছি।

তিনি বলেন, ‘বুধবার ভাড়া ভবনের সকল মালামাল নতুন নিজস্ব ভবনে স্থানান্তর করা হয়েছে। বিশেষ করে আমার দপ্তরের সকল মালামাল স্থান্তর হয়েছে। আমি বৃহস্পতিবার থেকেই নতুন ভবনে অফিস করবো। আর আগামী রোববার থেকে নতুন ভবনে মেট্রোপলিটন পুলিশের সকল বিভাগের কার্যক্রম শুরু হবে। আর নিজস্ব কার্যালয়ে কার্যক্রম শুরু করতে পারলে পুলিশ সদস্যদের নীতি-নৈতিকতা ও পেশাদারীত্ব আরো বেড়ে যাবে। সেই সাথে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সকল প্রকার সুযোগ সুবিধাও বৃদ্ধিপাবে বলে আশাব্যক্ত করেন তিনি।

বিএমপি কমিশনার সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘পূর্বে থেকেই সিটিএসবির কার্যক্রম আমার দপ্তরের সাথে সংযুক্ত ছিলো। এখন নতুন ভবনে সিটিএসবি’র পাশাপাশি নগর গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) অফিসও নিয়ে এসেছি। নতুন ভবনে ওঠার পরে পর্যায়ক্রমে অন্যান্য বিভাগগুলোকেও এখানে নিয়ে আসা হবে। তবে আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনে কিছুটা সময় লাগবে। আগে আমরা ভবনে উঠে গেছি। এখানে বসেই উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হবে। আশা রয়েছে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহোদয়কে দিয়ে মেট্রোপলিটন পুলিশের নতুন ভবন উদ্বোধন করানোর।

প্রসঙ্গত, বরিশাল মহানগরের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ২০০৯ সালে বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের ৩০টি ওয়ার্ড, সদর উপজেলার সবকটি ইউনিয়ন এবং বাবুগঞ্জ উপজেলার কয়েকটি ইউনিয়ন নিয়ে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের কার্যক্রম শুরু হয়। বর্তমানে মেট্রোপলিটন পুলিশের অধিনে কোতয়ালী মডেল, এয়ারপোর্ট, কাউনিয়া এবং বন্দর থানা রয়েছে। এছাড়াও পুলিশি সেবার মান বৃদ্ধির লক্ষ্যে ২০১৮ সালে নতুন ৪টি থানা করার প্রস্তাবনা পুলিশ সদরদপ্তরে পাঠানো হয়েছে। প্রস্তাবিত থানাগুলো হলো- রূপাতলী, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়, চরমোনাই এবং কাশিপুর থানা।


এইচকেআর
গুগল নিউজে (Google News) দৈনিক মতবাদে’র খবর পেতে ফলো করুন