ঢাকা বুধবার, ০৫ অগাস্ট ২০২৬

Motobad news
শিরোনাম

খাবারের জন্য বাসাবাড়িতে হানা বানরের

খাবারের জন্য বাসাবাড়িতে হানা বানরের
গুগল নিউজে (Google News) দৈনিক মতবাদে’র খবর পেতে ফলো করুন

খাদ্য সংকটের কারণে বেপরোয়া হয়ে উঠা বানরের অত্যাচারে অতিষ্ঠ এলাকাবাসী থেকে শুরু করে ব্যবসায়ীরা। এমনকি হাতে কোনও ব্যাগ থাকলে তাতেও থাবা মারছে। খোলা স্থানে কেউ কিছু খেতেও পারছে না। বাসাবাড়িতে প্রবেশ করে মালামাল তছনছ করছে। সবজি, ফলের বাগান, নারিকেল গাছও বানরের উপদ্রব থেকে রক্ষা পাচ্ছে না। কারও হাতে ব্যাগ দেখলেই তা ছিনিয়ে যাচ্ছে।

প্রতিনিয়ত ঝোপঝাড় ধ্বংস করায় বানরের আবাসস্থলেরও সংকট দেখা দেওয়ায় তারা এখন আবাসিক এলাকা ঘিরে আশ্রয় নেওয়ায় এই অত্যাচারের মাত্রা দিন দিন বাড়ছে।

উজিরপুর এলাকার স্থায়ী বাসিন্দা মাছুমুর রহমান বলেন, এক সময় উজিরপুর পৌরসভায় গভীর জঙ্গল ছিল। ঝোঁপঝাড়ে ভরা থাকায় নিরাপদ আবাসস্থল ছিল বানরের। ওই সময় ঝোঁপঝাড় থেকেই খাবারের বেশীরভাগ পূরণ হতো। এর সঙ্গে ছিল এমপি কোটার টিআর। সেই টিআর বিক্রি করে কলা ও রুটিসহ বিভিন্ন খাবার দেওয়া হতো। কিন্তু সময়ের ব্যবধানে দীর্ঘদিন ধরে সরকার থেকে সেই বরাদ্দ দেওয়া বন্ধ থাকায় এবং ঝোঁপঝাড় কেটে ফেলায় খাবারের সংকটে পড়েছে বানরের দল।

মাছুম বলেন, উজিরপুর পৌরসভা ঘোষণার পর সেখানকার ঝোঁপঝাড় অপসারণ করে সড়ক থেকে শুরু করে বহুতল ভবন গড়ে তোলা হয়। এছাড়া বেসরকারি ও সরকারি আবাসিক এলাকাও গড়ে উঠে। এতে করে বানরের নিরাপদ আবাসস্থলের সংকট দেখা দেয়। এরপর থেকে বানর উজিরপুরের বামরাইল, পূর্ব ধামসর, সোনারবাংলা, মাদারশী, দক্ষিণ শিকারপুর, তারাবাড়ি এবং পরামানন্দ সাহা এলাকাবাসীর বাসাবাড়ির আশেপাশে তাদের আবাসস্থল গড়ে তোলে।

মাছুম বলেন, এখানেই শেষ নয়। খাবার না পেয়ে বানর এখন বাসাবাড়িতে হামলা শুরু করেছে। তাদের জন্য ঘরের দরজা, জানালা সব সময় বন্ধ করে রাখতে বাধ্য হয় এলাকাবাসী। মাঝেমধ্যে কোনওভাবে জানালা বা দরজা খোলা থাকলে দলবেঁধে ওই ঘরে প্রবেশ করে সবকিছু তছনছ করে। বিশেষ করে রান্নাঘরে খাবারের সন্ধানে হাঁড়িপাতিল লণ্ডভণ্ড করে ফেলে। আলমারী ভেঙ্গে খাবার বের করে নেয়। এ সময় বাধা দিলে আক্রমণ করে। এ কারণে লোকজন লাঠি দিয়ে ভয় দেখিয়ে সরিয়ে দেয়। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে হামলা চালায় ক্ষুব্ধ বানরের দল।

উজিরপুরের ব্যবসায়ী সোহাগ, শাখাওয়াত হোসেন চৌধুরী, মিজানুর রহমানসহ একাধিক ব্যবসায়ী জানিয়েছেন, তাদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে প্রায়ই কলা, রুটি, বিস্কুটসহ বিভিন্ন খাবার ছিনিয়ে নেয়। বাধা দিলে দলবেঁধে হামলা চালায়। এছাড়া সবজি বাগান থেকে শুরু করে বিভিন্ন ধরনের ফলের বাগান রয়েছে উজিরপুরে। সেখানেও হানা দিয়ে ফল খেয়ে গাছ ভেঙ্গে চলে যায়। বিশেষ করে পেপের প্রতি আগ্রহ বেশি। এ কারনে পেপে বড় হাওয়ার আগেই তুলে ফেলতে হয়। এরপরও কাঁচা পেপেও তারা খেয়ে ফেলে। নারিকেল গাছ থেকে প্রতিনিয়ত ডাব খাচ্ছে। গাছের উপর বসেই দলবেঁধে খাচ্ছে।

ব্যবসায়ীরা জানান, সড়ক দিয়ে খাবার খেতে খেতে কেউ যেতে পারে না। বিশেষ করে শিশুদের হাতে খাবার থাকলে তাতে বেশী থাবা দেয়। এ সময় শিশুরা ভয় পায়। অনেক সময় কমবেশি আহত হয়। এখন বানরের অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে উপজেলাবাসী।

নুরুল ইসলাম বলেন, তার বাড়িতে একসঙ্গে ১০ থেকে ১২টি বানর হানা দেয়। খোলা জায়গায় মুরগিকে খাবার দেওয়া যায় না। সেখানেও বানর হাজির হয়ে সব খেয়ে ফেলে। আর প্রতিটি ঘরের রান্নাঘর তাদের পরিচিত। তাদের টার্গেটই থাকে কিচেনে ঢুকে পড়ার। এরপরও কোনওভাবে ফাঁকফোঁকর না পেলে তারা টিনের চাল ভেঙ্গে ভিতরে প্রবেশ করে ভাত ও তারকারির পাতিলসহ নিয়ে চলে যায়। এরপর তাদের পেছন পেছন গিয়ে খালি পাতিল নিয়ে আসতে হয়। অনেক সময় তাও পাওয়া যায় না।

এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারিহা তানজিন বলেন, বিষয়টি আমি অবহিত হয়ে সংশ্লিষ্ট দফতরে চিঠি লিখেছি। আশা করছি, দ্রুত সময়ের মধ্যে খাদ্য বরাদ্দ পাওয়া যাবে। খাদ্য বরাদ্দ পাওয়া গেলে বানর যাতে অভুক্ত না থাকে সে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হবে। তাতে করে সাময়িক যে সমস্যা হচ্ছে সেটি আর থাকবে না।


এএজে
গুগল নিউজে (Google News) দৈনিক মতবাদে’র খবর পেতে ফলো করুন

সর্বশেষ