বরিশালে আন্তঃজেলা চোরচক্রের মূল হোতাসহ আটক ২

বরিশালে আন্তঃজেলা চোর চক্রের মূল হোতা মো. খালিদ হাসান ইমন (৩৪) ও তাঁর সহযোগী মো. রুবেল মৃধা (২৫) কে আটক করেছে এয়ারপোর্ট থানা পুলিশ।
এসময় তাদের কাছ থেকে বিপুল পরিমান চোরাই মালামাল ও ঘর ভাঙার সরঞ্জামাদি উদ্ধার করা হয়।
মঙ্গলবার (১৫ নভেম্বর) দুপুর ২ টায় অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার উত্তর মো. জাকির হোসেন মজুমদার।
আটক মো. খালিদ হাসান ইমন পিরোজপুর জেলার মঠবাড়িয়া উপজেলার বেতমোর গ্রামের বাসিন্দা মো. খলিলুর রহমানের ছেলে ও মো. রুবেল হোসেন মৃধা ঝালকাঠি জেলার নলছিটি থানার কয়ারচর গ্রামের জলিল মৃধার ছেলে।
অভিযানে জব্দ করা হয় নগদ ৫০ হাজার টাকা, দুটি স্বর্ণের আংটি, স্বর্ণের কানের ঝুমকা এক জোড়া, স্বর্ণের কানের দুল ৪ জোড়া, কানের রিং এক জোড়া, ১৪টি হাতঘড়ি, মোটরসাইকেল একটি, ৩টি এলইডি টেলিভিশন, বিভিন্ন বাহিনীর ট্রাকস্যুট ও বুট জুতা, অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল সেট ৮টি, বাটন মোবাইল সেট ৫টি, ডিএসএলআর ক্যামেরা ৫টি, লেন্স একটি, স্বর্ণ পরিমাপ করার ডিজিটাল নিক্তি একটি, কাটার স্ক্রু ড্রাইভারসহ চোরাই কাজে ব্যবহৃত যন্ত্র, চাবির বাক্স ১টি, মোবাইল কাভার ১৫টি, মিউজিক বক্স একটি, মোবাইল সিমের বক্স একটি, মোবাইলের খালি বক্স ৫টি ও পুলিশ সোল্ডার লাইট একটি।
সংবাদ সম্মেলনে উপ-পুলিশ কমিশনার উত্তর মো. জাকির হোসেন মজুমদার বলেন, আটকৃত খালিদ হাসান ইমন দীর্ঘদিন বরিশালের বিভিন্ন এলাকায় চুরি করে আসছিল। গত অক্টোবর মাস থেকে নভেম্বর পর্যন্ত নগরীর ফিসারী রোড এলাকায় ৭/৮ টি বাসায় চুরি করে বিপুল পরিমান স্বর্ণালংকার হাতিয়ে নেয়।
এছাড়াও তাঁর বিরুদ্ধে বরিশাল সহ চট্রগ্রামের বিভিন্ন থানায় প্রায় ১০ টি মামলা চলমান রয়েছে। এর মধ্যে চট্রগ্রামেই তাঁর বিরুদ্ধে ৯ টি মামলা রয়েছে। সেখানে একটি মামলায় ৩ বছরের সাজা হয় তাঁর। ২ বছর সাজা খেটে জামিনে বের হয়ে বরিশালে এসে বিভিন্ন এলাকায় চুরি ডাকাতি করছে। বর্তমানে এয়ারপোর্ট থানায়ও একটি মামলা চলমান রয়েছে। এছাড়াও তাঁর সহযোগী রুবেল হোসেন মৃধার নামেও বরিশালের বিভিন্ন থানায় একাধিক চুরির মামলা রয়েছে।
তিনি বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সোমবার নগরীর ২৫ নং ওয়ার্ড এলাকার মাওলানা ভাসানী সড়কের সোহরাব খান হাউজিং এর বাসিন্দা আলমগীর হোসেন আবিরের বাসা থেকে আন্তঃজেলা চোর চক্রের মূল হোতা মো. খালিদ হাসান ইমন ও তাঁর সহযোগী রুবেল মৃধাকে আটক করা হয়। এ ঘটনায় আটক আসামিদের বিরুদ্ধে এয়ারপোর্ট থানায় মামলার প্রস্তুতি চলছে বলেন উপ-পুলিশ কমিশনার উত্তর মো. জাকির হোসেন মজুমদার।
সংবাদ সম্নেলনে আরো উপস্থিত ছিলেন, এয়ারপোর্ট থানার ওসি হেলাল উদ্দিন, ওসি (তদন্ত) মো. আমানুল্লাহ আল-বারী সহ এয়ারপোর্ট থানার অন্যান্য পুলিশ সদস্যরা।
এইচকেআর