ঢাকা বুধবার, ০৫ অগাস্ট ২০২৬

Motobad news
শিরোনাম
৮০ হাজার সুবিধাভোগীর জন্য ডিলার ৮৬ জন

টিসিবির সেবা বঞ্ছিত বরিশালের ৩টি ওয়ার্ডের মানুষ

টিসিবির সেবা বঞ্ছিত বরিশালের ৩টি ওয়ার্ডের মানুষ
গুগল নিউজে (Google News) দৈনিক মতবাদে’র খবর পেতে ফলো করুন

দেশজুড়ে নিত্যপণের ঊর্ধ্বমূখি মূলে হাসফাস করছে নিম্ন এবং মধ্যম আয়ের মানুষ। এসব মানুষের খাদ্যের অধিকার নিশ্চিত করতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি) এর মাধ্যমে ন্যায্যমূল্যে পণ্যসামগ্রী পৌঁছে দিচ্ছে সরকার। সারাদেশের ন্যায় বরিশাল নগরীতেও টিসিবির কার্যক্রম চলামান রয়েছে।

তবে সরকারের এই ন্যায্য মূল্যের পণ্য সামগ্রী থেকে বঞ্ছিত হচ্ছেন বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের তিনটি ওয়ার্ডের জনগণ। ওয়ার্ড পর্যায়ে ডিলার না থাকায় সিটি কর্পোরেশনের ২৬, ২৮ এবং ৩০ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দারা টিসিবির সুবিধা থেকে বঞ্ছিত হচ্ছেন।

যদিও টিসিবি সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ‘তিনটি ওয়ার্ডে ডিলার না থাকায় অন্য ওয়ার্ডের ডিলারদের মাধ্যমে ওই ওয়ার্ডগুলোতে টিসিবি পণ্য বিক্রি করা হচ্ছে। এতে করে কিছুটা সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে বলে স্বীকার করেছেন টিসিবি’র বরিশাল আঞ্চলিক কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক শতদল মন্ডল।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ‘বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের সঙ্গে সমন্বয় করে নগরীর ৩০টি ওয়ার্ডে টিসিবি’র মাধ্যমে ন্যায্যমূল্যে চাল, ডাল, চিনি এবং সয়াবিন তেল বিক্রি করছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। টিসিবির তথ্য অনুযায়ী সিটি কর্পোরেশনের ৩০টি ওয়ার্ডে বর্তমানে ৮০ হাজার ২১২ জন কার্ডধারী সুবিধাভোগীদের মাঝে টিসিবির পণ্য বিক্রি করা হচ্ছে। এ সংখ্যক সুবিধাভোগীদের মাঝে টিসিবির পণ্য পৌঁছে দিতে নিয়োগ করা হয়েছে ৯২ জন ডিলার। গড় হিসেবে প্রতিটি ওয়ার্ডে তিনজন করে ডিলার পণ্য বিক্রি করতে পারে। কিন্তু বাস্তবে তেমনটি হচ্ছে না। একটি ওয়ার্ডে সর্বোচ্চ ছয়জন করে ডিলার থাকলেও তিনটি ওয়ার্ডে একজনও ডিলার নেই।

ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশ বরিশাল আঞ্চলিক কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক শতদল মন্ডল বলেন, ‘টিসিবির পণ্য বিক্রির জন্য বরিশাল সিটি এলাকায় ৯০ হাজার মানুষকে কার্ড দেয়ার কথা ছিলো। কিন্তু সিটি কর্পোরেশন থেকে এখন পর্যন্ত ৮০ হাজার ২১২ জনের তালিকা আমরা পেয়েছি।

তিনি বলেন, ‘বরিশাল সিটি কর্পোরেশন এলাকায় ডিলার সংকট রয়েছে। বর্তমানে আমাদের তালিকাভুক্ত ডিলারের সংখ্যা ৯২ জন। তবে নিয়মিত ডিলার অর্থাৎ যারা নিয়মিত পণ্য তোলেন সেই তালিকায় আছে ৮৬ জন। বাকি যেসব ডিলার রয়েছেন তাদের মধ্যে কাউকে শোকজ, কারোর ডিলারশিপ স্থগিত এবং বাতিল করা হয়েছে।

শতদল মন্ডল বলেন, ‘বর্তমানে ৮৬ জন তালিকা থাকলেও ২৬, ২৮ ও ৩০ নম্বর ওয়ার্ডে একজনও ডিলার নেই। বাকি ২৭টি ওয়ার্ডে ২ থেকে চারজন করে ডিলার রয়েছে। ওই তিনটি ওয়ার্ডে ডিলারের কোন তালিকা বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে আমাদের কাছে প্রেরণ করেনি। হতে পারে ওই তিনটি ওয়ার্ড থেকে ডিলারশিপের জন্য কেউ আবেদনই করেনি, আবার এমনও হতে পারে আবেদন করেছে কিন্তা তাদের ডিলারশিপ এখন পর্যন্ত চ‚ড়ান্ত হয়নি।

টিসিবির এই কর্মকর্তা বলেন, ‘তিনটি ওয়ার্ডে মোট ৮ হাজার ২০৪টি কার্য বিতরণ করা হয়েছে। এর মধ্যে ২৬ নম্বরে ২ হাজার ৯২২টি, ২৮ নম্বরে ২ হাজার ২৯৯টি এবং ৩০ নম্বর ওয়ার্ডে ২ হাজার ৯৮৩টি। নিয়ম অনুযায়ী যেই ওয়ার্ড থেকে কার্ড প্রদান করা হবে সেই ওয়ার্ড থেকেই বাসিন্দারা পণ্য পাবেন। কিন্তু তিনটি ওয়ার্ডে ডিলার না থাকায় কিছুটা সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে। আমরা অন্য ওয়ার্ডের ডিলারদের সাথে সমন্বয় করে ওয়ার্ড তিনটি পণ্য পৌঁছে দেয়ার ব্যবস্থা করছি।

টিসিবি আঞ্চলিক কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক আরও বলেন, ‘আমাদের ডিলারের সংখ্যা প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম। বর্তমানে যে সংখ্যক ডিলার রয়েছেন গত দুই মাস পূর্বের তার সংখ্যা ছিলো বতর্মানের থেকে অর্ধেক। তার ওপর কোন কোন ওয়ার্ডে জনসংখ্যা বেশি। যেমন ৫ নম্বর ওয়ার্ডে জনসংখ্যা যেমন বেশি, তেমনি সুবিধাভোগীর সংখ্যাও বেশি। এখানে মোট ৫ হাজার ৫১৩ জন সুবিধাভোগী রয়েছে। এখানে ইতিপূর্বে দুজন ডিলার ছিলো। চলতি বরাদ্দে অন্য ওয়ার্ড থেকে আরও চারজন সংযুক্ত করা হয়েছে ওয়ার্ডটিতে। এভাবে অন্যান্য ওয়ার্ডগুলোতেও মাঝে মধ্যে ডিলার সমন্বয় করতে হচ্ছে। সবমিলিয়ে সিটি এলাকার জন্য আরও ডিলার প্রয়োজন বলে মনে করেন এই কর্মকর্তা।

যদিও ২৬, ২৮ ও ৩০ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দারা বলেন, ‘সিটি কর্পোরেশন থেকে টিসিবি’র কার্ড দেয়া হয়েছে সত্যি, কিন্তু এই কার্ড দিয়ে সঠিকভাবে টিসিবির সেবা পাচ্ছেন না তারা। টিসিবির সেবা পেতে অন্য ওয়ার্ডে গিয়ে ধর্ণাদিতে হচ্ছে। কখনো কখনো দীর্ঘসময় দাঁড়িয়ে থেকেও পণ্য না নিয়ে ফিরে আসতে হচ্ছে। তাই দেশের বাণিজ্যিক ক্ষেত্রে চলমান এই সংকটে ৩টি ওয়ার্ডে নিয়মিত ডিলার নিয়োগের দাবি জানিয়েছেন ওয়ার্ডবাসী।
 


এএজে
গুগল নিউজে (Google News) দৈনিক মতবাদে’র খবর পেতে ফলো করুন

সর্বশেষ