ঢাকা বুধবার, ০৫ অগাস্ট ২০২৬

Motobad news
শিরোনাম

ড্রাগনের পর চায়না কমলা চাষে সফল বাবুগঞ্জে প্রবাসী পারভেজ 

ড্রাগনের পর চায়না কমলা চাষে সফল বাবুগঞ্জে প্রবাসী পারভেজ 
গুগল নিউজে (Google News) দৈনিক মতবাদে’র খবর পেতে ফলো করুন

বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার দেহেরগতি ইউনিয়নের ইদিলকাঠী গ্রামের রফিকুল ইসলামের পূত্র পারভেজ মাহমুদ। নিজের ৬৩ শতাংশ জমিতে প্রায় ২৪শত টি ড্রাগন গাছের চারা রোপন করে সফল হয়েছেন।

এবার ড্রাগনের পাশাপাশি ছোট আকারের সুস্বাদু চায়না কমলা চাষে সফলতা পেয়েছেন। 

সন্ধ্যা নদীর পাড়ে ইদিলকাঠী গ্রামে ৪৫ শতক জমিতে ৪০৫ টি চায়না কমলা গাছ লাগিয়ে সফল হয়েছেন তিনি। পাশাপাশি একই জমিতে সাথী ফসল হিসাবে ১৩২ টি পেয়ারা চারা রোপন করেন। পেয়ারায় তেমন সফলতা না পেলেও চায়না কমলার ফলন বেশ সন্তোষজনক হয়েছে। সৎ উপার্জনের উদ্দিশ্যে ইউটিউব ঘেঁটে তিনি চায়না কমলা চাষ শুরু করেন। 

২০২০ সালে তিনি চায়না কমলা চারা সংগ্রহ করে রোপন করেন। এবছর তার প্রতিটি গাছে প্রচুর ফল ধরেছে। ইতিমধ্যে তিনি ১৫০ টাকা কেজি দরে ৩ মন কমলা বিক্রি করেছেন। এ অঞ্চলে এই প্রথম কোনো প্রকার রাসায়নিক ঔষধ ছাড়া নিজের তৈরিকৃত জৈব সার ও জৈব বালাই নাশক প্রয়োগ করে চায়নাকমলা চাষ করে সফলতা পাওয়ায় উপজেলা কৃষি অফিসের প্রশংসা কুড়িয়েছেন।

তার নদী পারের কমলা বাগানটি দেখতে প্রতিদিন বিভিন্ন এলাকার লোকজন ভীড় জমাচ্ছেন। একটি কমলা গাছ দশ বছর ফল দিতে সক্ষম। আগামী দশ বছর এই বাগান থেকে তিনি উপার্জনের আশা করছেন। এই বাগান থেকে কোটি টাকা আয়ের স্বপ্ন দেখছেন তিনি। 

এবছর বাগানটি থেকে গড়ে ৫০০-৬০০ কেজি কমলা বিক্রি করবেন বলে আশাবাদী তিনি। ১৫০-২০০ টাকা কেজি হিসাবে এখান থেকে সে ১ লাখ টাকার বেশি উপার্জন করবে। আগামীতে আরো ফলন বৃদ্ধি পাবে বলে জানান তিনি। 

সরেজমিনে দেখা যায়, মিষ্টি স্বাদের চায়না কমলা চাষ করে ব্যাপক সফলতা পেয়েছেন উপজেলার দেহেরগতি ইউনিয়নের পারভেজ মাহমুদ। প্রতিটি গাছে রয়েছে থোকায় থোকায় কাঁচা, পাকা চায়না কমলা। বিদেশী ফলের বাগান করে ফলতা পাওয়ায় এলাকায় আলোড়ন সৃষ্টি  হয়েছে। তার বাগানে দুইজন দিনমজুর প্রতিদিন কাজ করে থাকেন।

পারভেজ মাহমুদ জানান, ২০০০ সনে ঢাকার সরকারি  বাংলা কলেজ থেকে হিসাব বিজ্ঞানে অনার্স ও মাষ্টার্স শেষ করে ২০০৮ সাল পর্যন্ত দেশেই একটি কোম্পানিতে  হিসাব রক্ষক হিসাবে কাজ করেন। পরে সংযুক্ত আরব আমিরাতে চলে যায় । ২০১৯ সালে সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে দেশে ফিরে আসেন।

 ২০২১ সালে বিদেশে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে দেশে থেকেই তিনি ড্রাগন ও চায়না কমলা বাগানের সূচনা করেন। 

এখন তিনি নিজের ৬৩ শতক জমির উপরে বাণিজ্যিক ভাবে গড়ে তোলেন ড্রাগন খামার ও ৪৫ শতক জমির উপর চায়না কমলা বাগান। 

দেশের যুব সমাজের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, লাখ লাখ টাকা খরচ করে বিদেশ না গিয়ে দেশেই কর্মসংস্থান তৈরি করে নেওয়া উচিত। 

দেহেরগতি ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মশিউর রহমান বলেন, পারভেজ মাহমুদ কে দেখে বেকারদের শিক্ষা নেওয়া উচিত। 

উপজেলা সম্প্রসারণ কর্মকর্তা শাহ মো. আরিফুল ইসলাম বলেন,  এ অঞ্চলে চায়না কমলা বানিজ্যিকভাবে উৎপাদন হয় না। বাবুগঞ্জে প্রথম বানিজ্যিক ভাবে চায়না কমলা বাগান করেছেন পারভেজ মাহমুদ।  আমরা তাঁর বাগানের খোঁজ খবর রাখছি। চাহিদা অনুযায়ী কৃষি অফিস থেকে পরামর্শ দিয়ে আসছি।
 


আরিফ হোসেন/ ‍এইচকেআর 
গুগল নিউজে (Google News) দৈনিক মতবাদে’র খবর পেতে ফলো করুন

সর্বশেষ