বরিশালে নারী সাংসদের ওপর ক্ষোভ ঝেড়ে সভা বয়কট ভাইস চেয়ারম্যানের

বরিশালের বাবুগঞ্জে উপজেলা উন্নয়ন সম্পর্কিত সমন্বয় সভা বয়কট করেছেন উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান ইকবাল আহমেদ আজাদ। সংরক্ষিত নারী আসনের মহিলা সংসদ সদস্য লুৎফুন্নেসা খানের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগর তুলে সভা বয়কট করে বেরিয়ে যান তিনি।
জানাগেছে, বৃহস্পতিবার দুপুরে বাবুগঞ্জ উপজেলা মাসিক উন্নয়ন সম্পর্কিত সভায় আকস্মিকভাবে উপস্থিত হন সংরক্ষিত নারী আসন ৪৮ এর সংসদ সদস্য লুৎফুন্নেসা খান। সভা চলাকালীন বাবুগঞ্জ উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ইকবাল আহমেদ আজাদ একাধিক অভিযোগের ক্ষোভ ঝেড়েছেন মহিলা এমপির উপর।
ভাইস চেয়ারম্যান ইকবাল আজাদ বলেন, মহিলা সংসদ সদস্য লুৎফুন্নেসা খান আগামী দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে বরিশাল-৩ আসন থেকে নির্বাচন করার লক্ষ্যে হটাৎ করেই এলাকায় অনাগোনা বৃদ্ধি করেছেন। এরই অংশ হিসেবে লুৎফুন্নেসা আকস্মিক সমন্বয় মিটিংএ উপস্থিত হন। ভাইস চেয়ারম্যান বলেন, বিগত ৪ বছরে কোন দিন বাবুগঞ্জ উপজেলা পরিষদকে কোন ধরনের উন্নয়ণকল্পে বরাদ্দ প্রদান করেননি। বাবুগঞ্জের কোন উন্নয়ণ কর্মকান্ডে উপজেলা পরিষদকে সম্পৃক্ত কিংবা কোন বৈঠকে মিলিত হননি।
ইকবাল আজাদ জানান, বিগত দিনে বাবুগঞ্জ পাইলট বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি হিসেবে সুনামের সাথে দায়িত্ব পালন করেন তিনি। কিন্তু চলতি বছরে বাবুগঞ্জ পাইলট বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত ম্যানেজিং কমিটির নির্বাচনে স্থানীয় সংসদ সদস্য গোলাম কিবরিয়া টিপু ডিও লেটার প্রদান করেন তাঁকে। কিন্তু একই নির্বাচনে সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য লুৎফুন্নেসা খানও বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক এর পুত্রকে ডিও লেটার প্রদান করে সরাসরি তার বিরুদ্ধে অবস্থান প্রদর্শন করেন।
আজাদ জানান, ছাত্র রাজনীতি থেকে শুরু করে আজ পর্যন্ত বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের রাজনীতিতে যুক্ত, বহু মামলা হামলার শিকার হয়েছেন। আজও শরীরে বোমার স্প্রিন্টারের জ¦ালা নিয়ে ঘুরে বেড়ান তিনি। সেখানে বিএনপি জামায়তকে মাথা উঁচু করে উঠতে সহযোগিতাকারীকে বয়কট না করলে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সাথে বেঈমানী করা হবে। তাই সভা বয়কট করেছেন তিনি।
তিনি বলেন, দক্ষিণাঞ্চলের রাজনৈতিক অভিভাবক আলহাজ¦ আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহর কর্মী হিসেবে আমি এ সভায় থাকতে পারিনা। বিগত দিনে সংরক্ষিত মহিলা আসনের এমপি লুৎফুন্নেসা খান এর কোন বরাদ্দ না পাওয়ার কথা স্বীকার করেন জাহাঙ্গীর নগর ইউপি চেয়ারম্যান কামরুল আহসান খান হিমু ও দেহেরগতি ইউপি চেয়ারম্যান মো. মশিউর রহমান এবং কেদারপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নূরে আলম বেপারী।
এ বিষয়ে বাবুগঞ্জ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান কাজী ইমদাদুল হক দুলাল বলেন, মাসিক সমন্বয় মিটিং এ ভাইস চেয়ারম্যান ইকবাল আজাদ যে বক্তব্য দিয়েছেন তা অশোভনীয়। তিনি এ ধরণের বক্তব্য পলিটিক্যাল ফোরামে দিতে পারতেন। তবে তিনি উপজেলা পরিষদে মহিলা এমপির কোন বরাদ্দ না পাওয়ার কথা স্বীকার করেন।
এ বিষয়ে সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য লুৎফুন্নেসা খান সাংবাদিকদের জানান, বিগতদিনে উপজেলা পরিষদের কোন চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান আমার সাথে যোগাযোগ করেননি, তাই বরাদ্দ দেওয়া হয়নি। ম্যানেজিং কমিটির নির্বাচনে বিএনপি পরিবারকে ডিও লেটার দেওয়ার ব্যাপারের এমপি লুৎফুন্নেসা বলেন, আমার ঢাকার বাসায় সুপারিসের জন্য যান, এসময় করোনার প্রকোপ থাকায় আমি তাদের সম্পর্কে খোঁজ নিতে পারিনি। তাই তাদের পক্ষে সুপারিশ করা হয়েছে। তাবে আমি পরবর্তীতে খোঁজ নিয়ে জেনেছি আমি যাদের সুপারিশ করেছি তারাই ঐ বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠা করেছে। এমপি বলেন, একজন সচিবের উপরে আমার পদমর্যাদা, সেখানে একজন ভাইস চেয়ারম্যান আমার সামনে এমনভাবে কথা বলতে পারেনা। তিনি নিয়ম বহিভর্‚ত আচরণ করেছেন।
এএজে