প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে দেশে খাদ্যসংকট হবে না: খাদ্যমন্ত্রী

খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার বলেছেন, প্রাকৃতিক কোন দুর্যোগ না হলে বাংলাদেশে খাদ্য সংকট হবে না। সারা পৃথিবীতে খাদ্য সংকট হতে পারে এমন সতর্কবার্তা বিভিন্ন সংস্থা হতে দেওয়া হচ্ছে। বাংলাদেশের মাটি সোনার চেয়ে খাঁটি। এদেশের উর্বর মাটিতে বছরব্যাপী শস্য উৎপাদন হয়।
সোমবার (২৪ অক্টোবর) বরিশালে নির্মাণাধীন ৪৮ হাজার মেট্রিক টন শস্য ধারণ ক্ষমতা সম্পন্ন রাইস সাইলোর (খাদ্যগুদাম) নির্মাণকাজের অগ্রগতি পরিদর্শন শেষে সার্কিট হাউজের সম্মেলনকক্ষে খাদ্য নিরাপত্তাবিষয়ক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, প্রতিনিয়ত দেশের মানুষ বাড়ছে কিন্তু জমি কমছে। কৃষি বিজ্ঞানীদের উদ্ভাবিত উচ্চফলনশীল জাতের ধান চাষ করে কৃষক ফলন বাড়িয়েছেন। দেশে চার কোটি মেট্রিক টন ধান উৎপাদন হয় যদিও এর থেকে এখন বেশ কিছু খাদ্যশস্য ননহিউম্যান কনজামশনে চলে যায়, যা হিসাবে ধরা হয়না। চকচকে সিল্কি চাল খাওয়া থেকে জনসাধারণকে বিরত থাকার আহবান জানিয়ে খাদ্যমন্ত্রী বলেন, ধান থেকে চাল তৈরি করতে মিলাররা বার বার মেশিনে দেন, এতে চালের পুষ্টিকর অংশ চলে যায়, থাকে কার্বোহাইড্রেট । বারবার চাল মেশিনে পালিশ করতে বিদ্যুতের খরচও যোগ হয়। চালের দাম বেড়ে যায় যা পরবর্তীতে ভোক্তার পকেট থেকে পরিশোধ করতে হয়। সাইলো নির্মাণসংশ্লিষ্ট যৌথ ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানকে চুক্তি মোতাবেক নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ও যথাযথ মান বজায় রেখে কাজ সম্পন্ন করার নির্দেশ দেন। বাংলাদেশের জনগণের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকল্পে এগিয়ে আসার জন্য বিশ্বব্যাংককেও ধন্যবাদ জানান মন্ত্রী।
বরিশাল বিভাগীয় কমিশনার মো. আমিন উল আহসান এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন, বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের মেয়র সেরনিয়াবত সাদিক আব্দুল্লাহ, খাদ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. ইসমাইল হোসেন, খাদ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. শাখাওয়াত হোসেন, জেলা প্রশাসক জসীম উদ্দীন হায়দার ।
মতবিনিময় সভায় জানানো হয়, সাইলোর নির্মাণে চুক্তিমূল্য ৩৩০ দশমিক ৮৬ কোটি টাকা এবং নির্মাণকাল দুই বছর। সাইলোর কাজের বাস্তব অগ্রগতি ৫২ শতাংশ সমাপ্ত হয়েছে। ২০২৩ সালের জুন মাসের মধ্যে প্রকল্পের কাজ শেষ হবে বলে জানা যায়।
এইচকেআর