সোনারগাঁও টেক্সটাইল শ্রমিকদের কার্যালয় উচ্ছেদের প্রতিবাদে বিক্ষোভ সমাবেশ

সোনারগাঁও টেক্সটাইল শ্রমিক-কর্মচারী ইউনিয়ন কার্যালয় উচ্ছেদে মালিক ও ক্ষমতাসীনদের যৌথ চক্রন্তের প্রতিবাদে বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। একই সাথে টেক্সটাইলে ২০১৮ সালের বেতনস্কেল এবং ৮ ঘন্টা কর্মঘন্টা চালু করার দাবিতে জানানো হয়।
শুক্রবার সকাল ১১টায় বরিশাল নগরীর সদর রোডেস্থ অশ্বিনী কুমার হলের সামনে এই বিক্ষোভ সমাবেশ কর্মসূচির আয়োজন করে সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্ট। এতে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের বরিশাল জেলা শাখার সহ-সভাপতি দুলাল মল্লিক।
অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন- সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্ট বরিশাল জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মানিক হাওলাদার,যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম, দপ্তর সম্পাদক শহিদুল ইসলাম, ১৩ নম্বর ওয়ার্ড শাখার সভাপতি শহিদুল ইসলাম, সোনারগাঁও টেক্সটাইল শ্রমিকদের পক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট আবু আল রায়হান।
সংহতি জানিয়ে বক্তব্য রাখেন- স্কপ বরিশাল জেলা সমন্বয়ক অ্যাডভোকেট এ কে আজাদ, জাতীয় ঐক্য পরিষদ বরিশাল জেলার সভাপতি এস এম জাকির, বাংলাদেশ নৌযান ফেডারেশন বরিশাল বিভাগীয় সভাপতি আবুল হাশেম, বরিশাল দর্জি শ্রমিক ইউনিয়নের আহ্বায়ক তুষার, সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট বরিশাল মহানগর শাখার প্রচার প্রকাশনা বিষয়ক সম্পাদক ও সরকারি বিএম কলেজ শাখার সাধারণ সম্পাদক বিজন সিকদার, সোনারগাঁও টেক্সটাইল শ্রমিক কর্মচারী প্রস্তাবিত ইউনিয়নের সহ-সাধারণ সম্পাদক মাসুম গাজী, প্রচার সম্পাদক মো. হাসান হাওলাদার, মহিলা বিষয়ক সম্পাদক খুকুমডু, সদস্য ইমরান হোসেন প্রমুখ।
বক্তারা বলেন, টেক্সটাইল শ্রমিকদের জন্য ২০১৮ সালে যে ন্যুনতম মজুরি ঘোষণা করা হয়েছিল তা এখনো পর্যন্ত সোনারগাঁও টেক্সটাইলে বাস্তবায়ন হয়নি। বেতনস্কেলের তোয়াক্কা না করে একদিকে নামমাত্র বেতনে শ্রমিকদের ১২ ঘন্টা বাধ্যতামূলক কাজ করতে হচ্ছে, আরেকদিকে শ্রমিকরা ইউনিয়ন করতে চায় বলে মালিকপক্ষ শ্রমিকদের উপর অবর্ণনীয় নির্যাতন চালাচ্ছে। কারখানার বাইরে এই নির্যাতন ও হয়রানি করার জন্য তারা ক্ষমতাসীন দলের স্থানীয় নেতাদের ব্যবহার করছে। মুক্তিযোদ্ধা সড়কে সোনারগাঁও টেক্সটাইল শ্রমিক-কর্মচারী ইউনিয়নের কার্যালয় ভাড়া না দেয়ার জন্য ক্ষমতাসীন দলের ওয়ার্ড পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ স্থানীয় বাড়ির মালিকদের হুমকি দিয়েছেন বলে জানা গেছে। সর্বশেষ যে কার্যালয় সোনারগাঁও টেক্সটাইল শ্রমিক-কর্মচারী ইউনিয়ন হিসেবে ব্যবহার করত সেখানে বাড়ির মালিক মো. হান্নানের সাথে ইউনিয়নের ২ বছর মেয়াদী চুক্তি ছিল। কিন্তু মো. হান্নানের ছেলে মো. মিজান অফিসে তালা লাগিয়ে দিয়েছেন যা সম্পূর্ণ বেআইনী।
বক্তারা আরও বলেন, শ্রমিক তার অধিকার আদায়ে ইউনিয়ন করবে এটা আইনসংগত ও ন্যায্য। মালিকরা তাদের হীন স্বার্থে ইউনিয়নের বিরোধিতা করে শ্রমিকদের হয়রানি করছেন। কিন্তু তার সাথে যেভাবে ক্ষমতাসীন দলের নেতারা যুক্ত হয়েছেন সেটা অত্যন্ত নিন্দনীয় ও ন্যাক্কারজনক। মালিকের অর্থবিত্তের কারণে যদি তাদের ঘনিষ্ঠ হওয়ার জন্য কোন দল গণমানুষের বিরুদ্ধে যায় সেই দল গণশত্রু হিসেবেই পরিচিত হবে।
বক্তারা বলেন, সোনারগাঁও টেক্সটাইলের শ্রমিকদের সাথে বরিশালের সব শ্রমিকরা থাকবে এবং তাদের বেতনস্কেল-কর্মঘন্টার দাবিসহ ইউনিয়নের অধিকার আদায় করেই ছাড়বে।
বক্তারা বলেন, কারখানার মধ্যে মালিকপক্ষ শ্রমিকদের ইউনিয়নের সদস্যপদ থেকে পদত্যাগ করার জন্য চাপ দিচ্ছে ও জোরপূর্বক বেআইনীভাবে সাদা কাগজে সই নিচ্ছে। বক্তারা শ্রমিকদের উপর নির্যাতন বন্ধ করে অবিলম্বে মজুরি বোর্ড ঘোষিত ন্যুনতম মজুরি বাস্তবায়নের দাবি জানান অন্যত্থায় কঠোর আন্দোলনের জন্য মালিকপক্ষকে প্রস্তুত থাকার হুঁশিয়ারি দেন। সমাবেশ পরবর্তী নগরীতে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে।
এইচকেআর