জেলেদের গাফিলতিতেই তারা নিবন্ধনের আওতায় আসেননি

বরিশাল বিভাগে চার লাখ নিবন্ধিত জেলে থাকলেও বাস্তবে তাঁর সংখ্যা সাড়ে ৫ লাখের ওপরে। জেলেরা বলছেন, নিবন্ধনের আওতায় না আসায় বছরের পর বছর সরকারি সহায়তা থেকে বঞ্চিত তাঁরা। তবে মৎস্য অধিদফতরের দাবি, জেলেদের গাফিলতির কারণে নিবন্ধনের আওতায় আসতে পারেননি তাঁরা।
৬৪ বছরের জেলে সিদ্দিক প্যাদা। জীবনের ৫০টি বছর বরিশালের চরবাড়িয়া ইউনিয়নের পাশের কীর্তনখোলা নদীতে মাছ ধরে কাটিয়েছেন। বর্তমানে মা ইলিশ রক্ষার অভিযান চলায় একমাত্র সম্বল ট্রলারটিকে যত্ন করে দিন কাটছে তাঁর।
কিন্তু জেলে তালিকায় নাম না থাকায় কপালে সাহায্যও জোটেনি। এতে তিনি সংসার চালাতে হিমশিম খাচ্ছেন।
সিদ্দিক প্যাদা বলেন, প্রায় ৫০ বছর ধরে মাছ ধরি। কিন্তু সরকারের কোনো সহায়তা পাই না। কারণ, জেলে কার্ড নেই।
একই অবস্থা ফরিদ মীরসহ অন্য জেলেদেরও। তাদের অভিযোগ, জনপ্রতিনিধি ও মৎস্য কর্মকর্তাদের কাছে বারবার ধরনা দিয়েও জেলে কার্ডে নাম লেখাতে পারেননি তাঁরা।
এ বিষয়ে এক জেলে বলেন, এই ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞার মধ্যে সরকার অনেক সহায়তা করছে। কিন্তু যারা প্রকৃত জেলে তারা সাহায্য পান না। যারা জেলে নন, তারাই সরকারের সহায়তা পাচ্ছেন।
এদিকে মৎস্য সমিতি দিয়ে জেলে তালিকা যাচাই-বাছাই না করায় এমন বিপাকে পড়তে হচ্ছে দাবি করে বরিশাল মৎস্য ও আড়তদার সমিতির দফতর সম্পাদক ইয়ার হোসেন সিকদার বলেন, যদি জেলেদের তালিকাটি ঠিকভাবে করা হতো, তাহলে এখন জেলেদের না খেয়ে থাকতে হতো না।
বরিশাল মৎস্য অধিদফতরের সূত্রমতে, বরিশাল বিভাগে মোট নিবন্ধিত জেলের সংখ্যা প্রায় ৪ লাখ। তবে ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞায় ৩ লাখ ৬ হাজার ১২০ জেলের মধ্যে ২৫ কেজি করে মোট ৯ হাজার ১৮৪ মেট্রিক টন চাল বিতরণ করা হবে। এ ছাড়া ভোলায় ১ লাখ ৫৮ হাজার ৫৫৪, পটুয়াখালীতে ৭৯ হাজার ৬৬১, বরিশালে ৮৪ হাজার ৯৭৬, পিরোজপুরে ২৭ হাজার ৫৬৬, বরগুনায় ৪০ হাজার ২৭৭, ঝালকাঠিতে ৮ হাজার ৮৫৭ জন জেলে রয়েছে।
অপরদিকে ২০১৫ সালে জেলেদের নিবন্ধন শুরু হলে অনেকেই গাফিলতি করে নিবন্ধনের আওতায় আসেনি বলে উল্টো অভিযোগ করেছে মৎস্য অধিদফতর। তবে প্রতিবছরই নতুন জেলেদের নিবন্ধনের আওতায় আনা হচ্ছে বলে দাবি তাদের।
বরিশাল বিভাগীয় মৎস্য অধিদফতরের উপপরিচালক আনিছুর রহমান তালুকদার বলেন, ‘আমাদের প্রকল্পের লোকজন বাড়ি বাড়ি গিয়ে জেলেদের নিবন্ধন করেছে। কিন্তু সে সময়ে অনেক জেলেই নিবন্ধনের আওতায় আসতে চাননি। তবে নিবন্ধন একটি চলমান প্রক্রিয়া, এটি শেষ হতে একটু সময় লাগবে।’
বিভাগের ৬ জেলায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এখন পর্যন্ত মা ইলিশ রক্ষায় ১ হাজার ১২৬টি অভিযান চালিয়েছে। এ সময় ২ হাজার ৪৯১ কেজি ইলিশ জব্দ করা হয়। এ ছাড়া ৩৬০টি মামলায় ৩ লাখ ৯৩ হাজার টাকা জরিমানা এবং ৩০৪ জেলের বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে।
এইচকেআর