ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৬ অগাস্ট ২০২৬

Motobad news
শিরোনাম

চলতি মৌসুমে ইলিশের রপ্তানি আয় ১৪১ কোটি টাকা

চলতি মৌসুমে ইলিশের রপ্তানি আয় ১৪১ কোটি টাকা
গুগল নিউজে (Google News) দৈনিক মতবাদে’র খবর পেতে ফলো করুন

ইলিশ ধরা, পরিবহন, মজুত ও বিক্রির ওপর বৃহস্পতিবার রাত থেকে নিষেধাজ্ঞা শুরু হয়েছে। ২৮ অক্টোবর পর্যন্ত ২২ দিনের এ কর্মসূচি সফল করতে জেলেদের ২৫ কেজি করে চাল সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি ইলিশ ধরা বন্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে সরকার। বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে সংবাদ সম্মেলনে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম জানান, মা ইলিশ আহরণ বন্ধ রাখতে নৌবাহিনী, কোস্টগার্ড, নৌপুলিশসহ মৎস্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা সার্বক্ষণিক কাজ করবেন। নিষেধাজ্ঞায় বাংলাদেশের সফলতার কারণে একযুগে ইলিশ আহরণ দ্বিগুণ হয়েছে।

মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযান বাস্তবায়নের ব্যাপারে মন্ত্রী জানান, ২০০৮-০৯ অর্থবছরে ইলিশ আহরণ ছিল ২ দশমিক ৯৮ লাখ টন। ২০২০-২১ অর্থবছরে তা বেড়ে ৫ দশমিক ৬৫ লাখ টনে উন্নীত হয়েছে। পৃথিবীতে মোট উৎপাদিত ইলিশের ৮০ শতাংশই বাংলাদেশের। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অনুমতি নিয়ে চলতি বছর এ পর্যন্ত ইলিশ রপ্তানি হয়েছে ১ হাজার ৩৫২ টন। এতে আয় হয়েছে ১৪১ কোটি ৬৪ লাখ টাকা। ইলিশ উৎপাদনে চ্যালেঞ্জ তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন, বৈরী আবহাওয়া, অবৈধ বালু উত্তোলন, নদীভাঙন ও দূষণসহ নানা কারণে মা ইলিশের প্রজনন ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

ইলিশ ধরায় নিষেধাজ্ঞার ফলে উপকূলে সাগর থেকে ফিরতে শুরু করেছেন জেলেরা। মৌসুমের শেষ দিন বাজারে ইলিশ কিনতে অনেকেই ভিড় করেন। অন্যদিকে জেলেদের কাছ থেকে জানা গেছে, এ বছর নিষেধাজ্ঞায় লাভ হবে না, কারণ মাছে ডিম পাওয়া যায়নি। প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর :

বরিশাল : বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলার জেলে কালু মাঝির দল ৮ দিন সাগরে অবস্থানের পর বৃহস্পতিবার সকালে পাথরঘাটা মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রে ফেরেন। কালু মাঝি জানান, শেষ সময়ে বেশি মাছ পাওয়ার আশায় সাগরে গিয়েছিলেন। তবে নিষেধাজ্ঞা শুরু হওয়ায় নিরাশ হয়ে ফিরতে হয়েছে। কালু মাঝির মতো উপকূলের হাজার হাজার জেলের একই অবস্থা। বৃহস্পতিবার দুপুরের পর থেকে শত শত ট্রলার সাগর থেকে মোকামে ফিরতে শুরু করেছে। পাথরঘাটার আড়তদার সমিতির সভাপতি জাহাঙ্গীর জমাদ্দার জানান, এ মোকামে প্রায় সাড়ে ৩ হাজার ট্রলার রয়েছে। বরিশাল মৎস্য সম্প্রসারণ কর্মকর্তা (ইলিশ) ড. বিমল চন্দ্র দাস সমকালকে জানান, মৌসুমের শেষ দিনেও ইলিশের বাজার ছিল চড়া। মাঝারি সাইজের ইলিশ বিক্রি হয়েছে হাজার টাকার ওপরে।

পটুয়াখালী : জেলা মৎস্য কর্মকর্তা এসএম আজহারুল ইসলাম জানান, নিষেধাজ্ঞাকালীন নিবন্ধিত ৬৩ হাজার ৮০০ জেলেকে ২৫ কেজি করে চাল দেওয়া হবে। নিষেধাজ্ঞা অমান্যকারীদের রয়েছে জেল ও অর্থদণ্ড। কুয়াকাটার আলীপুর মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি মো. আনসার উদ্দিন মোল্লা বলেন, জেলেরা সাগর থেকে উপকূলে ফিরেছেন। তবে এ বছর নিষেধাজ্ঞা ফলপ্রসূ হবে না। কারণ এখন পর্যন্ত মাছে ডিম পাওয়া যায়নি।

লক্ষ্মীপুর : নিষেধাজ্ঞাকালীন লক্ষ্মীপুরে বেকার হয়ে পড়েছেন ৫২ হাজার জেলে। অধিকাংশই মেঘনা নদীতে মাছ শিকার করে জীবিকা নির্বাহ করেন। এ সময়ে সরকারি সহায়তা বাড়ানোরসহ নগদ অর্থ সহায়তার দাবি জানিয়েছেন জেলেরা। লক্ষ্মীপুরের রামগতি থেকে চাঁদপুরের ষাটনাল এলাকা পর্যন্ত ১০০ কিলোমিটার পর্যন্ত ইলিশ ধরা নিষেধ। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, ব্যবসায়ী, জেলে ও আড়তদাররা জানান, নিষেধাজ্ঞা মেনে জেলেরা নদীতে যাবেন না বলে ঘোষণা দিয়েছেন।

বাগেরহাট : বৃহস্পতিবার ভোর থেকে দক্ষিণাঞ্চলের অন্যতম বৃহত্তম সামুদ্রিক মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র বাগেরহাট কেবি মাছ বাজার সরগরম হয়ে ওঠে। কারণ তিন সপ্তাহের বেশি বাজারে ইলিশ পাওয়া যাবে না। কেবি বাজারে এদিন স্বাভাবিক দিনের তুলনায় ১০০ থেকে ৩০০ টাকা বেশি দামে বিক্রি হয়েছে প্রতি কেজি ইলিশ। এক কেজি থেকে ১২০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ ১৫০০ থেকে ১৬০০ টাকা, ৮০০ থেকে ৯০০ গ্রামের দাম ১২০০ টাকা এবং ৬০০ থেকে ৭০০ গ্রাম ৯০০ টাকায় বিক্রি হয়।


এএজে
গুগল নিউজে (Google News) দৈনিক মতবাদে’র খবর পেতে ফলো করুন

সর্বশেষ