ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৬ অগাস্ট ২০২৬

Motobad news
শিরোনাম

বরিশালে গৃহবধূকে আগুনে পুড়িয়ে হত্যা, বিচার দাবিতে বিক্ষোভ সমাবেশ

বরিশালে গৃহবধূকে আগুনে পুড়িয়ে হত্যা, বিচার দাবিতে বিক্ষোভ সমাবেশ
গুগল নিউজে (Google News) দৈনিক মতবাদে’র খবর পেতে ফলো করুন

বরিশালে সমাজতান্ত্রিক মহিলা ফোরামের সদস্য মোর্শেদা জাহান সাথী হত্যার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষী ব্যক্তিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ)। আজ রোববার বেলা ১১টার দিকে নগরের সদর রোডে অশ্বিনী কুমার টাউন হল চত্বরে এ সমাবেশ হয়।

বাসদের জেলা শাখার সদস্য দুলাল মল্লিকের সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তব্য রাখেন, সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্ট, কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ইমাম হোসেন খোকন, মহিলা ফোরাম কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক দিলরুবা নুরী,  শ্রমিক ফ্রন্ট জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মানিক হাওলাদার,  মহিলা ফোরাম জেলা শাখার সহ-সভাপতি মাফিয়া বেগম, সদস্য শানু বেগম, বাংলাদেশ খ্রিস্টান অ্যাসোসিয়েশন জেলার সাধারণ সম্পাদক অ্যালভার্ট রিপন বল্লভ, নিহত সাথী'র ভাই নজরুল ইসলাম, সচেতন নাগরিক মোস্তাফিজুর রহমান,  শ্রমিক ফ্রন্ট জেলা শাখার সহ-সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম, ১৫নং ওয়ার্ড শাখার সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম, ১৩ নং ওয়ার্ড শাখার সভাপতি শহিদুল ইসলাম, ছাত্র ফ্রন্ট  মহানগর শাখার প্রচার প্রকাশনা বিষয়ক সম্পাদক বিজন সিকদার, গৃহবধূ রিনা বেগম, তাহসিন, রাহাত প্রমুখ। 


বক্তারা বলেন, ২০১১ সালে মোর্শেদা আক্তার সাথী রানাকে বিয়ের পর জানতে পারে তাঁর আগের একটি বিয়ে রয়েছে ও তিনি মাদক ব্যবসায়ী। তারপরও সংসার টিকিয়ে রাখতে তিনি সব কিছু সহ্য করেছিলেন। এরই মধ্যে স্বামী রানা মাদক মামলা থেকে মুক্তি পেতে এক লাখ টাকা ও ব্যবসার জন্য আরও এক লাখ টাকা যৌতুক দাবি করে আগস্ট মাস থেকে সাথীকে নির্যাতন শুরু করে। এ ঘটনার বিচার চেয়ে তিনি সেপ্টেম্বর মাসের প্রথম দিকে আদালতে মামলা দায়ের করেছিলেন।

এরপর গত ২৩ সেপ্টেম্বর (শুক্রবার) দিনগত রাতে ননদ লুনা ও ননদের ছেলেসহ তিনজন কেরোসিন দিয়ে আগুন ধরিয়ে দিলে সাথীর শরীরের ৩০ ভাগ পুড়ে যায়। সাথীর শরীরের আগুন দেওয়ার পর শ্বশুর বাড়ি লোকজন তাকে বরিশাল শের ই বাংলা চিকিৎসা মহাবিদ্যালয় (শেবাচিম) হাসপাতালে ফেলে রেখে পালিয়ে যান। পরে ঢাকার শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে সাত দিন চিকিৎসাধীন থেকে গত শুক্রবার (৩০ সেপ্টেম্বর) মারা যান তিনি।

বক্তারা আরও বলেন, মোর্শেদা আক্তার অত্যন্ত দরিদ্র ও পারিবারিক নির্যাতনের শিকার হলেও তিনি বিভিন্ন নারী নির্যাতনবিরোধী কর্মসূচিতে অংশ নিতেন। আদালতে পারিবারিক নির্যাতনের বিরুদ্ধে মামলা করায় তাঁর এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের শিকার হওয়ার ঘটনা আইনের শাসনের জন্য অত্যন্ত মর্মান্তিক ও ন্যাক্কারজনক। 

সাথীর দায়ের করা মামলায় রানা গ্রেফতার হলে আজ তাকে মারা যেতে হতো না বলে দাবি করেন। পাশাপাশি  নৃশংস হত্যাকাণ্ডের  তীব্র নিন্দা এবং অবিলম্বে এই ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার জোর দাবি জানান বক্তারা। 

সমাবেশ শেষে একটি মিছিল নগরীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে অশ্বিনী কুমার হল চত্বরে এসে শেষ হয়। 
পরে জেলা প্রশাসক ও পুলিশ কমিশনার বরাবর স্মারকলিপি দেয়া হয়। 

উল্লেখ্য, শরীরে আগুন দেওয়ার পর সাথীর ভাই নজরুল ইসলাম একটি হত্যা চেষ্টার অভিযোগে একটি মামলা দায়ের করেছিলেন।


এইচকেআর
গুগল নিউজে (Google News) দৈনিক মতবাদে’র খবর পেতে ফলো করুন

সর্বশেষ