ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৬ অগাস্ট ২০২৬

Motobad news
শিরোনাম

মাল্টা চাষে সফল প্রবাসী তারিকুল

মাল্টা চাষে সফল প্রবাসী তারিকুল
গুগল নিউজে (Google News) দৈনিক মতবাদে’র খবর পেতে ফলো করুন

মাল্টা চাষে সফল হয়েছেন বাবুগঞ্জ উপজেলার দেহেরগতি ইউনিয়নের দক্ষিণ রাকুদিয়া গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. মকবুল হোসেন হাওলাদারের ছেলে সিঙ্গাপুর প্রবাসী  তারিকুল ইসলাম মাসুম। মাসুম ২০১০সালের প্রথম দিকে কর্মের তাগিদে সিঙ্গাপুর যান। সেখানে দীর্ঘ ৮বছর কর্মরত থেকে ২০১৮সালে দেশে ফিরে আসেন। দেশে ফিরে তিনি বসে থাকেননি, ইউটিউবে মাল্টা চাষ ও তাঁর ফলন সম্পর্কে ধারণা পেয়ে নিজেই উদ্বুদ্ধ হয়ে শুরু করেন সখের  মাল্টা চাষে। পরিকল্পনা অনুযায়ী নিজস্ব ১৪ শতক জমিতে মাটি ভরাট করে স্বরুপকাঠী থেকে (বারি-১) মাল্টা চাড়া সংগ্রহ করেন।  

২০১৯ সালের প্রথম দিকে প্রস্তুতকৃত জমিতে সংগ্রহীত বারি-১ জাতের মাল্টা চারা রোপন করেন। সখের বসে করা মাল্টা বাগান থেকে গত ৩ বছর যাবৎ ৩০ - ৪০  মন মাল্টা বিক্রি করে আসছেন। তা‍ঁর মাল্টা বাজারে বিক্রি না করে এলাকার সাধারণ জনগনের কাছে বিক্রি করছেন। প্রচন্ড সুস্বাদু হওয়ায় তাঁর উৎপাদিত মাল্টার অর্ধেকের বেশি কৃষি অফিসের কর্মকর্তারা ক্রয় করে নিয়ে যায় বলে জানান তরিকুল ইসলাম মাসুম। প্রতিবছর এই বাগান থেকে প্রতি কেজি ১শত টাকা দরে দেড় লাখ থেকে ২ লাখ টাকা মাল্টা বিক্রি করে থাকেন। পাশাপাশি বাগানে রয়েছে থাই জাম্বুরা ও চাইনিজ কমলা। 

সরেজমিন ঘুরে মাসুমের সফলতার চিত্র দেখা গেছে। এবছর তিনি কেজি প্রতি ১ শত টাকা দরে ৪ মনেরও বেশী মাল্টা বিক্রি করেছেন। ৩২টি মাল্টা গাছ থেকে আরো ৩০ মন মাল্টা সংগ্রহ করতে পারবেন বলে তিনি আশাবাদী। 

তারিকুল ইসলাম মাসুম বলেন,  সার, কিটনাশক ও পরিচর্যাসহ প্রতি বছর তাঁর মোট ২৫ হাজার টাকা খরচ হয়। 

চলতি বছর যদি তিনি ৩০ মন মাল্টা বিক্রি করতে পারেন তবে সব মিটিয়ে ১লাখ টাকার বেশি লাভ করতে পারবেন। মাসুম বলেন, তাঁর বাগান ও ফলন দেখে এলাকার অনেকেই মাল্টা চাষে উদ্বুদ্ধ হয়েছেন এবং পরামর্শ নিচ্ছেন।

সখের বসে বাগান করতে গিয়ে মাসুম এখন বানিজ্যেক ভাবে চিন্তা করছেন। তিনি মাল্টা বাগান সম্প্রসারণের জন্য পার্শবর্তি আরো ৩৫ শতক জমি মাটি ভরাট করে চাষের আওতায় আনার পরিকল্পনা করছেন। বসে না থেকে মৎস্য চাষসহ উৎপাদানমুখি অন্য পরিকল্পনাও তাঁর রয়েছে যা পর্যায়ক্রমে শুরু করবেন বলে জানান মাসুম। 

শুধু মাল্টা নয় মাল্টার সাথে সাথে তাঁর ১২মাসি থাই পেয়ারা ও কাটিমন আমের বাগানও রয়েছে। এলাকার যুবক সম্প্রদায়ের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, অযথা আড্ডা এবং ঘোরা ফেরা না করে সকলেরই কিছু একটা করা উচিৎ। এতে বেকারত্ব সমস্যারও অনেকটা সমাধান হতে পারে।

কৃষি সম্প্রসারণ অফিসার শাহ মো. আরিফুল ইসলাম বলেন, মাল্টা বাগানটি আমি পরিদর্শন করেছি। বাগানটির ফল অনেক সুস্বাদু। আমরা ওখান থেকে পরিবারের জন্য মাল্টা সংগ্রহ করে থাকি।

মাসুমের মাল্টা বাগানের সফলতা নিয়ে কথা বলেছেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নাসির উদ্দিন। তিনি বলেন, মাসুমের আগ্রহ ও প্রচেষ্টা এবং আমাদের তথ্য প্রযুক্তি এ সব বিছুর সমন্বয়ে মাসুম শতভাগ সফলতা অর্জন করেছেন। তাছাড়া আমাদের দপ্তর থেকে মাসুমের মাল্টা বাগানের খোঁজ খবর নেয়া হচ্ছে । মাসুমের সফলতা দেখে অন্যান্যদের মাল্টা চাষে এগিয়ে আসা উচিৎ বলে মন্তব্য করেন কৃষি কর্মকর্তা।  
 


আরিফ হোসেন/এইচকেআর
গুগল নিউজে (Google News) দৈনিক মতবাদে’র খবর পেতে ফলো করুন

সর্বশেষ