বরিশাল-পটুয়াখালী-ঝালকাঠি মহাসড়কে উচ্ছেদ অভিযান শুরু কাল

বরিশাল জেলাধিন অভ্যন্তরীণ জাতীয় এবং আঞ্চলিক মহাসড়কের পাশে গড়ে ওঠা অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে শুরু হচ্ছে টানা অভিযান। আগামী সোমবার থেকে বরিশাল জেলা প্রশাসন ও সড়ক জনপদ বিভাগ যৌথভাবে এই অভিযান শুরু করবেন। অভিযানের প্রথম দিনে বরিশাল-পটুয়াখালী এবং বরিশাল-ঝালকাঠি আঞ্চলিক মহাসড়কে অভিযান পরিচালনা করবেন তারা।
আভিযানিক কার্যক্রম জোড়ালো করতে এরি মধ্যে আটজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ দেয়া হয়েছে। তাছাড়া জাতীয় এবং আঞ্চলিক মহাসড়কের পাশে অবৈধভাবে গড়ে ওঠা স্থাপনা সোমবারের মধ্যে সরিয়ে নেয়ার জন্য মাইকিং শুরু হয়েছে। পাশাপাশি সড়ক জনপদের জমি চিহ্নিত করে লাল রং এবং নিশানা টানিয়ে দেয়া হয়েছে।
বরিশাল সড়ক ও জনপদ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মাসুদ মাহমুদ সুমন এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, ‘সড়ক জনপদ অধিদপ্তরের নির্দেশনা অনুযায়ী নিরাপদ সড়ক বাস্তবায়ণে এই উচ্ছেদ অভিযান পরিচালিত হবে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, ‘ঢাকা-বরিশাল জাতীয় মহাসড়কের ভুরঘাটা থেকে বরিশাল নগরীর আমতলার মোড়, বরিশাল-কুয়াকাটা আঞ্চলিক মহাসড়কের আমতলার মোড় থেকে বাকেরগঞ্জ এবং বরিশাল-ঝালকাঠি আঞ্চলিক মহাসড়কের দুই পাশে অবৈধভাবে গড়ে উঠেছে অসংখ্য স্থাপনা। সড়কের দুই পাশে ব্যক্তি মালিকানাধিন ভবন, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান নির্মাণ করে ভাড়া দিয়ে বাণিজ্য করছে স্থানীয়রা।
বিশেষ করে বরিশাল-কুয়াকাটা ও বরিশাল-ঝালকাঠি আঞ্চলিক সড়কের পাশে দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ করে তা ভাড়া দিয়ে অবৈধভাবে অর্থ উপার্জন করছে একটি প্রভাবশালী মহল। দীর্ঘদিন এ অবস্থা চলে আসলেও অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে কোন পদক্ষেপ নেয়নি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
তবে পদ্মাসেতু উদ্বোধনের পরে দক্ষিণাঞ্চলে যানবাহনের চাপ কয়েকগুণ বেড়ে গেছে। নতুন নতুন কোম্পানির বিলাশবহুল পরিবহন যাত্রী সার্ভিস দিচ্ছে ঢাকা-কুয়াকাটা এবং ঢাকা-ঝালকাঠি রুটে। তারও পের কচা নদীর ওপর বঙ্গমাতা ফজিলাতুন্নেছা মুজিব সেতুর উদ্বোধনের ফলে বরিশাল-খুলনা রুটেও যানবাহনের চাপ বেড়ে গেছে অনেকাংশে।
এদিকে, যানবাহনের চাপ কয়েকগুণ বাড়লেও দক্ষিণাঞ্চলের সড়ক প্রসস্ত হয়নি। যার ফলে সরু সড়কে পরিবহন চলাচল করতে গিয়ে প্রায় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটছে। প্রাণহানীর ঘটনাও ঘটেছে অনেকের। আর এর পেছনে সড়কের পাশে অবৈধ স্থাপনাকে দায়ি করছেন পরিবহন শ্রমিকেরা। তারা দাবি তুলেছেন সড়কের পাশ থেকে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের।
এর ধারাবাহিকতায় বরিশাল-ঢাকা জাতীয় মহাসড়ক এবং বরিশাল-পটুয়াখালী-বরিশাল-ঝালকাঠি আঞ্চলিক মহাসড়কের পাশে থাকা অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ অভিযান শুরু করছে সড়ক জনপদ বিভাগ ও জেলা প্রশাসন। এরি মধ্যে বরিশাল নগরীর অংশে মহাসড়কের পাশে গড়ে ওঠা অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ কার্যক্রম শুরু করেছে দুটি দপ্তর। গত শুক্রবার সকাল থেকে শনিবার দিনভর আমতলার মোড় থেকে কালিজিরা এবং শহীদ আব্দুর রব সেরনিয়াবাত সেতু এলাকা পর্যন্ত মাইকিং করে অবৈধ স্থাপনা সরিয়ে নেয়ার নির্দেশ দিয়েছে সড়ক বিভাগ। তাছাড়া লাল রংয়ের ক্রোস চিহ্ন দিয়ে সড়ক বিভাগের জমির সীমানা চিহ্নিত করে দিয়েছেন তারা।
স্থানীয় একাধিক সূত্র জানিয়েছে, ‘সড়ক বিভাগের জমি দখল করে অবৈধভাগে গড়ে তোলা বহুতল ভবন উচ্ছেদ অভিযান থেকে রক্ষা করতে দৌড়াঝাপ এবং লবিং শুরু করেছে অবৈধ দখলদাররা। তারা ধর্ণা দিচ্ছে সড়ক বিভাগে কর্মরত বিভিন্ন জনের কাছে। তবে তাদের লবিং-তদবিরের গুরুত্ব পাচ্ছে না সংশ্লিষ্টদের কাছে।
এ প্রসঙ্গে সড়ক জনপদ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মাসুদ মাহমুদ সুমন অভিযানের নামার বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, ‘সড়ক প্রসস্ত করণের মধ্যে দিয়ে নিরাপদ সড়ক গড়ে তোলা এবং সরকারি জমি দখলমুক্ত করতে মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে এই অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। এতে সহযোগিতা করবে জেলা প্রশাসন।’
তিনি জানান, ‘অভিযান পরিচালনার জেলা প্রশাসনের কাছে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট চেয়ে আবেদন করা হয়েছে। এরি মধ্যে অভিযান পরিচালনার জন্য ৮ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ করা হয়েছে। তাদের নেতৃত্বেই অভিযান পরিচালিত হবে। আমরা সড়ক জনপদের জমির সীমানা নির্ধারণ এবং চিহ্নিত করে দিবো। জেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমান আদালত তার ওপর অভিযান পরিচালনা করবে।
তিনি বলেন, ‘বর্তমানে অবৈধ দখলদারদের সতর্ক করে মাইকিং চলছে। এরবার সোমবার থেকে মাঠ পর্যায়ে অভিযান শুরু হবে। প্রথম দিনে আমতলার মোড় থেকে বরিশাল-কুয়াকাটা মহাসড়কে দপদপিয়ার পুরানো ফেরিঘাট এবং বরিশাল-ঝালকাঠি আঞ্চলিক মহাসড়কের কালিজিরা ব্রিজ পর্যন্ত উচ্ছেদ অভিযান পরিচালিত হবে। বরিশাল-ঢাকা জাতীয় মহাসড়কের পাশে সড়ক বিভাগের জমি চিহ্নিতকরণ কাজ চলছে। এরপর সেখানেও অভিযান পরিচালিত হবে বলে জানিয়েছেন সড়ক জনপদ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী।
এএজে