দুদকের সহকারী পরিচালক রাজ কুমারের শাস্তির দাবিতে বিএমএ’র স্মরকলিপি

দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) বরিশাল সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক রাজ কুমার সাহার বিচার দাবিতে বিভাগীয় কমিশনার বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করেছেন চিকিৎসকরা।
বুধবার (৭ সেপ্টেম্বর) বেলা সাড়ে ১২টায় নগরীর কাশিপুর বিভাগীয় সদর দপ্তরে বাংলাদেশ মেডিকেল এ্যাসোসিয়েশন (বিএমএ) বরিশাল জেলা কমিটির প্যাডে এই স্মরকলিপি প্রদান করা হয়।
এসময় চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে কোন হয়রানিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হলে বিএমএ বরিশাল শাখা কঠোর কর্মসূচি গ্রহণ করতে বাধ্য হবেন বলে স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়েছে, ‘গত ৬ সেপ্টেম্বর সকালে শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ অধ্যক্ষের কক্ষে বরিশাল দুদকের সহকারী পরিচালক রাজ কুমার সাহা ও তাঁর টিম করোনায় সার্বক্ষণিক চিকিৎসা প্রদানের জন্য শুদ্ধাচার পুরস্কার প্রাপ্ত রেসপিরেটরী মেডিসিন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. মাসুম আহম্মেদ এবং অন্যান্য শিক্ষকবৃন্দের সাথে দুর্ব্যবহার ও
অসৌজন্যমূলক আচরণ করে।
এছাড়া চিকিৎসকদের বায়োমেট্রিক হাজিরার ব্যাপারে অসম্মানজনকভাবে অধ্যক্ষকে কৈফিয়ত তলব করেন। শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ অধ্যক্ষ স্বাস্থ্য শিক্ষা মহাপরিচালকের অনুমতি না পেয়ে বায়োমেট্রিক হাজিরার তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে দিতে না পারায় তাঁর সাথে ঔদ্ধত্যপূর্ন আচরণ করেন এবং বিভিন্ন পজিশনে তাঁর ছবি তোলেন ও মামলার ভয় দেখান।
স্মারকলিপিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, সুনির্দিষ্টভাবে কোন অভিযোগ দাখিল না করে এ ধরনের ভীতিকর পরিবেশ তৈরি করে এবং সাংবাদিকদের ডেকে এনে চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে সংবাদ পরিবেশনে প্ররোচিত করে।
এ ধরনের অনাকাঙ্খিত ঘটনা বরিশালের সকল চিকিৎসককে ক্ষুদ্ধ ও মর্মাহত করেছে। চিকিৎসা সেবাপ্রদান ও মেডিকেল শিক্ষার পরিবেশ বিনষ্ট করেছে।
তাই বাংলাদেশ মেডিকেল এ্যাসোসিয়েশন বরিশাল শাখা এঘটনার তীব্র নিন্দা জানায় এবং ঘটনার মূল হোতা সহকারী পরিচালক রাজ কুমার সাহার দূর্ব্যবহার ও অসদাচরণের ঘটনার তদন্তপূর্বক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য জোর দাবি জানান।
আরও উল্লেখ করা হয়, উদ্ভুত পরিস্থিতিতে বি.এম.এ বরিশাল শাখার জরুরি বর্ধিত সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে কোন হয়রানিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করলে বিএমএ বরিশাল শাখা কঠোর কর্মসূচি গ্রহণ করতে বাধ্য হবে।
স্মারকলিপি প্রদানকালে বিএমএ বরিশাল জেলা শাখার সভাপতি ডা. মো. ইসতিয়াক হোসেন, সাধারণ সম্পাদক ডা. মো. মনিরুজ্জামীন শাহীন, কার্যনির্বাহী সদস্য ডা. এস.এম সারওয়ার, কেন্দ্রীয় কাউন্সিলর ডা. সৌরভ সুতর, সাংগঠনিক সম্পাদক ড. মো. মাসরেফুল ইসলাম সৈকত, সাংস্কৃতিক ও বিনোদন সম্পাদক ডা. শিরীন সাবিহা তন্বী প্রমুখ।
বিএমএ সভাপতি ডা. ইসতিয়াক হোসেন বলেন, দুদকের অভিযান চালানোর অধিকার রয়েছে। অভিযোগ থাকলে অবশ্যই তাঁরা অভিযান করবে। তাই তাদের অভিযান নিয়ে আমাদের কোন আপত্তি নেই। কিন্তু দুদকের সহকারী পরিচালক ও তাঁর টিম চিকিৎসকদের সঙ্গে যে দুর্ব্যবহার করেছে সেটা সকল চিকিৎসকদের জন্য অপমানজনক। তাই আমরা এই ঘটনার বিচার দাবি করছি।
উল্লেখ্য, গত ৬ সেপ্টেম্বর সকালে কর্মস্থলে অনুপস্থিতি, সময় কম দেয়া, সঠিক সময়ে কর্মস্থলে উপস্থিত না হওয়া এবং ব্যক্তিগত চেম্বারে সময় বেশি দেয়াসহ চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগের প্রেক্ষিতে শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ অধ্যক্ষের কার্যালয়ে অভিযান পরিচালনা করে দুদক।
এসময় সকাল সাড়ে ৯টার দিকে কলেজে গিয়ে অধ্যক্ষকে তাঁর কার্যালয়ে অনুপস্থিত পায় দুদক। এমনকি অনুপস্থিত ছিলেন কর্মচারীরাও। তাছাড়া দুদক আসার খবরে সকাল ১০টার পরে কলেজে এসে হাজিরা দেয়া শুরু করেন চিকিৎসকরা।
খবর পেয়ে অধ্যক্ষ মনিরুজ্জামান শাহীন তাঁর কার্যালয়ে ছুটে আসেন। তাঁর কাছে চিকিৎসকদের গত সাত দিনের বায়োমেট্রিক হাজিরার তথ্য চায় দুদকের টিম। সেটা না দেওয়া দুদক এবং অধ্যক্ষের মধ্যে বাকবিতন্ডার সৃষ্টি হয়। এর প্রতিবাদে ওই দিনই বিক্ষোভ করেন চিকিৎসক এবং মেডিকেল কলেজ শিক্ষার্থীরা।
এইচকেআর