ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৬ অগাস্ট ২০২৬

Motobad news
শিরোনাম

বাবুগঞ্জে আ.লীগ কর্মীকে কার্যালয়ে আটকে ইউপি চেয়ারম্যানের নির্যাতন

বাবুগঞ্জে আ.লীগ কর্মীকে কার্যালয়ে আটকে ইউপি চেয়ারম্যানের নির্যাতন
গুগল নিউজে (Google News) দৈনিক মতবাদে’র খবর পেতে ফলো করুন

বরিশালের বাবুগঞ্জে এক আওয়ামী লীগ কর্মীকে মারধর করে অফিস রুমে বেধে রাখার অভিযোগ উঠেছে কেদারপুর ইউনিয়ন পরিষদের আলোচিত চেয়ারম্যান নূরে আলম বেপারীর বিরুদ্ধে। 

মঙ্গলবার সন্ধ্যা সোয়া ৬টার দিকে উপজেলার ভ‍ুতেরদিয়া স্টিমারঘাট বাজারে এই ঘটনা ঘটে। এই ঘটনায় গুরুতর আহত আজিজুল ইসলাম বাবুল ফকির উপজেলা আওয়ামী লীগের কর্মী এবং একজন সমাজসেবক। তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। খবর পেয়ে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ঘটনাস্থলে ছুটে গেলে তাকেও অকথ্য ভাষায় গালাগাল দেয় ইউপি চেয়ারম্যান ও তার লোকজন।

হামলার শিকার আজিজুল ইসলাম বাবুল বলেন, ‘সম্প্রতি বাবুগঞ্জের ভ‚তেরদিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির নির্বাচনে চেয়ারম্যান নূরে আলম বেপারীর প্যানেল আমাদের প্যানেলের কাছে পরাজিত হয়। এছাড়া দুই বছর আগে চেয়ারম্যান চাল চুরির অভিযোগে র‌্যাবের হাতে আটক হয়। এরপর চেয়ারম্যানের পদ থেকে বহিস্কার হন তিনি। নূরে আলমের ধারনা এসবের পেছনে আমার হাত রয়েছে।

সেই ক্ষোভে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় চেয়ারম্যান নূরে আলম বেপারী তার সহযোগী শিহাব, নাঈম, মানিক সিকদার এবং জাকিরসহ সন্ত্রাসী বাহিনী নিয়ে আমাকে বেধড়কভাবে মারধর করে। একপর্যায় আমাকে কার্যালয়ের মধ্যে একটি কক্ষে নিয়ে বেধে রাখে।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মাসুম মৃধা বলেন, ‘বাবুল ফকিরের ওপর হামলার খবর শুনে আমি ঘটনাস্থলে ছুটে যাই। সেখানে গিয়ে দেখি সে আহত অবস্থায় পড়ে আছে। তাকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠিয়েছি।

অভিযোগ প্রসঙ্গে বক্তব্য জানতে ইউপি চেয়ারম্যান নূরে আলম বেপারীর ব্যবহৃত মুঠোফোন নম্বরে একাধিকবার ফোন করা হলেও তা বন্ধ পাওয়া গেছে। তবে বাবুগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মাহাবুবুর রহমান বলেন, ‘ঘটনা শুনেছি। ঘটনাস্থলে লোক পাঠানো হয়েছে। ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। তবে এই ঘটনা নিয়ে এলাকায় থমথমে ভাব বিরাজ করছে। যেকোন সময় বড় ধরনের সংঘর্ষের আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন, ‘কেদারপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নূরে আলম বেপারী দীর্ঘদিন ধরেই এলাকায় বিতর্কিত। আইন বিরোধী বিভিন্ন কর্মকান্ড পরিচালনা করতে গিয়ে ইতিপূর্বে একাধিক মামলার আসামিও হয়েছেন তিনি। বিশেষ করে ২০২০ সালে এপ্রিলে নূরে আলম বেপারী চেয়ারম্যান থাকাবস্থায় তার বাড়ি থেকে ১৮৪ বস্তা চাল উদ্ধার করে র‌্যাব। এই ঘটনায় নূরে আলম বেপারী, তার দুই ভাই শাহে আলম, শামছুল আলম এবং চালের ডিলার সেন্টু খাঁকে আসামি করে মামলা করে র‌্যাব। এই ঘটনায় চেয়ারম্যান পদ থেকে সাময়িকভাবে বরখাস্তও হন নূরে আলম বেপারী। এছাড়াও অবৈধভাবে বালু ব্যবসাসহ নানা অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।


এইচকেআর
গুগল নিউজে (Google News) দৈনিক মতবাদে’র খবর পেতে ফলো করুন

সর্বশেষ