ছোটমনি নিবাসে যেতে হলো শিশু মোহাম্মদকে
.jpg)
মা মানসিক ভারসাম্যহীন। এজন্য ভূমিষ্ঠ নবজাতককে ছিন্ন হতে হলো মায়ের আদর-স্নেহ থেকে। সমাজসেবা কার্যালয়ের উদ্যোগে তিনদিনের শিশুকে পাঠানো হলো ছোটমনি নিবাসে। এমন ঘটনা ঘটেছে বরিশালে।
বুধবার (৩১ আগস্ট) বিকেলে শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এই উদ্যোগ নেয়। তবে প্রসূতি ওই মানসিক ভারসাম্যহীন নারী সুস্থ রয়েছেন বলে জানিয়েছেন গাইনী বিভাগের বিভাগীয় প্রধান সহযোগী অধ্যাপক ডাঃ খুরশিদ জাহান। তিনি জানান, দুইদিন আগে তাকে এক নারী উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করান। মানসিক ভারসাম্যহীন নারীর নামও উদ্ধার করা সম্ভর হয়নি। তবে আমরা হাসপাতালে তার সর্বোচ্চ চিকিৎসার ব্যবস্থা করেছি।
গাইনী বিভাগের ইনচার্জ সিনিয়র স্টাফ নার্স মৌসুমী আক্তার জানিয়েছেন, ২৯ আগস্ট বিকেলে এয়ারপোর্টর থানা এলাকার মাধবপাশা গ্রামের ইছাহাক হাওলাদারের স্ত্রী মিনারা বেগম নাম-পরিচয়হীন আনুমানিক ত্রিশ বছর বয়সী ওই নারীকে হাসপাতালে এনে ভর্তি করান। সেই রাতেই অস্ত্রপচারের মাধ্যমে তার এক ছেলে সন্তান ভ‚মিষ্ঠ হয়।
মৌসুমী বলেন, নবজাতক সুস্থ আছেন। দেখতে খুব সুন্দর। খবর পেয়ে অনেকেই এসেছিল সন্তানটি দত্তক নিতে। বিষয়টি আমি হাসপাতালের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাথে আলাপ করলে তারা শিশুটিকে হাসপাতাল সমাজসেবা কার্যালয়ের অফিসার দিলরুবা রইচির কাছে হস্তান্তর করেন।
দিলরুবা রইচি জানান, ওই নাবজাতকের কোন নাম ছিল না। আমি তার নাম রেখেছি মোহাম্মদ। যেহেতু তার মা মানসিকভাবে অসুস্থ। তিনি তার নবজাতকের যত্ন নিতে পারবেন না। এতে অযত্নে হয় সন্তান মারা যাবে নয়তো কেউ হয়তো তাকে নিয়েও যেতে পারেন। এজন্য শিশু মোহাম্মদকে আগৈলঝাড়ার ছোটমনি নিবাসে পাঠানো হয়েছে। এর আগে হাসপাতাল সমাজসেবা কার্যলয়ের পক্ষ থেকে সন্তানটির জন্য দুধ, নতুন জামা, তোয়ালে, ফিটার, ফ্লাক্স, টিস্যু, গামলা ও ওয়ালক্লর্থ উপহার দেওয়া হয়। বিকালে অনুষ্ঠানিকভাবে ছোটমনি নিবাসের স্টাফ সাহিদা খানমের নিকট নবজাতককে হস্তান্তর করা হয়।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত উপ-পরিচালক ডাঃ নজমুল আহসান, শিশু বিভাগের রেজিস্ট্রার ডাঃ ফয়সাল আহম্মেদ, হাসপাতাল সমাজসেবা কার্যালয়ের অফিসার হুমায়ুন কবির প্রমুখ।
এসএমএইচ