ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৬ অগাস্ট ২০২৬

Motobad news
শিরোনাম

বাবুগঞ্জে অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের মানববন্ধন

বাবুগঞ্জে অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের মানববন্ধন
গুগল নিউজে (Google News) দৈনিক মতবাদে’র খবর পেতে ফলো করুন

বরিশালের বাবুগঞ্জের কেদারপুর ইউনিয়নের ফরিদগঞ্জ বহুমুখী ফাযিল মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের হাতের লেখায় বানান ভুল ঠিক করে না দেওয়ার অভিযোগ এনে সহকারী শিক্ষক মোশাররফ হোসেনকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছেন ওই প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ মো. ফরিদুল আলম।

বানান ভুল করার অভিযোগে দেওয়া অধ্যক্ষের কারণ দর্শানোর নোটিশে ১৩টি বানান ভুল ধরা পরেছে।  বিষয়টি নিয়ে সচেতন সমাজে বিরুপ প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। 

এদিকে সহকারী শিক্ষককে দেওয়া নোটিশকে অধ্যক্ষের ব্যক্তিগত আক্রোশের বহিঃপ্রকাশ বলে আখ্যা দিয়ে প্রতিবাদ জানিয়েছে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। 

মঙ্গলবার (৩০আগস্ট) সকালে অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ এনে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করেছেন প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা। এসময় তাঁরা ওই ভুলে ভরা নোটিশ প্রত্যাহার না করা পর্যন্ত ক্লাস বর্জনের ঘোষণা দেয়। 

শিক্ষার্থীরা বলেন, উগ্র মেজাজের অধ্যক্ষ কখনই আমাদের অভিযোগ শুনতে চায় না। অযথা শারিরীক নির্যাতন চালায়, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নে ও পড়াশোনা করার পরিবেশ তৈরিতে তাঁর কোন ভুমিকা নেই । তিনি শুধু আমাদের কাছ থেকে কিভাবে অর্থ আদায় করবে সেই অজুহাত খোঁজেন। বিক্ষোভ মিছিলে অধ্যক্ষকে দূর্নীতিবাজ, রাজাকার বলে মানববন্ধনে স্লোগান দেয় শিক্ষার্থীরা।

উক্ত প্রতিষ্ঠানের সহকারী শিক্ষক সাইদুজ্জামান ফকির বলেন, ৩৮ বছর ধরে মোশাররফ হোসেন স্যার শিক্ষকতায় আছেন। তাকে যে কারনে শোকজ করা হয়েছে তা মোটেই ঠিক নয়। শিক্ষার্থীদের বাড়ির কাজে বানান ভুল ঠিক না করার অজুহাতে শোকজ হতে পারে সেটা আগে জানা ছিলো না।

প্রভাষক জাহিদুল হক বলেন, অধ্যক্ষ স্যার শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সাথে গরু-ছাগলের আচার-আচরণ করে। যা মোটেই কাম্য নয়। 

উপাধ্যক্ষ মো. আব্দুল হাকিম বলেন, সকালে শিক্ষার্থীরা ক্লাসে না এসে মাদ্রাসার সামনে গিয়ে মানববন্ধন ও মিছিল করে। আমি ও অন্য শিক্ষকরা তাদের ক্লাসে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করেও ব্যার্থ হয়েছি। 

সহাকরী শিক্ষক মোশাররফ হোসেন বলেন, আমাকে ক্লাস চলাকালীন নোটিশ দেওয়ায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে এর প্রভাব পরে। আমি এই প্রতিষ্ঠানে ৩৮ বছর শিক্ষাকতা করে আসছি। আজ পর্যন্ত কোন অভিযোগে অভিযুক্ত হয়নি। মূলত অধ্যক্ষ ফরিদুল আলম স্যার কিছু দিন আগে এজেন্ডা না লিখে রেজুলেশন বহিতে স্বাক্ষর নিয়েছেন।  বিষয়টি নিয়ে প্রতিবাদ জানানোর কারনে তাঁর ব্যক্তিগত আক্রোশের শিকার হয়েছি। 

অধ্যক্ষ মো. ফরিদুল আলম এর বক্তব্য জানতে মাদ্রাসায় গিয়ে তাকে পাওয়া যায় নি। তাঁর মুঠোফোনে একাধীকবার কল করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।


এইচকেআর
গুগল নিউজে (Google News) দৈনিক মতবাদে’র খবর পেতে ফলো করুন

সর্বশেষ