একটি ডিমের উৎপাদন খরচ ৯.৭৯ টাকা

সরকার কর্তৃক ভোক্তা পর্যায়ে ডিম ও ব্রয়লার মুরগীর মূল্য নির্ধারন করে দেওয়ার দাবিতে বরিশালে সংবাদ সম্মেলন করেছে বাংলাদেশ পোল্ট্রি খামার রক্ষা জাতীয় পরিষদ বরিশাল বিভাগীয় শাখা।
রোববার সকাল ১১ টায় বরিশাল প্রেসক্লাবে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সংগঠনের সভাপতি মো. আব্দুর রহিম গাজী। তিনি বলেন, পোল্ট্রি সেক্টর বাংলাদেশের ২য় বৃহত্তম কর্মসংস্থান খাত। বরিশাল বিভাগে চার লক্ষ কর্মজিবী মানুষ এই খাতে জড়িত। বর্তমানে এই খাতের প্রতিটি মানুষ এক আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছে।
বৈশ্বিক করোনা মহামারির দুই বছরে এই সেক্টরের প্রতিটি মানুষ ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছ এবং বহু খামার তখন ঝড়ে গেছে। পরবর্তিতে আবার যখন ঘুরে দাঁড়াচ্ছিল তখন আবার ইউক্রেন-রাশিয়ার যুদ্ধের কারণে এই সেক্টরে প্রতিটি খাদ্যপন্যের মূল্য হুঁ হুঁ করে বৃদ্ধি পেতে থাকে। আর ফিডমিল গুলো এই সুযোগে তাদের প্রস্তুতকৃত খাদ্যের দাম অধিক বৃদ্ধি করতে থাকে।
বিগত দুই থেকে আড়াই মাসের মধ্যে খাদ্যের দাম চারবার বৃদ্ধি করা হয়েছে। তাই যখন আমরা ১৬০০ টাকা বস্তায় খাবার কিনেছি তখন একটি ডিম ৫ থেকে ৭ টাকার বিক্রি করেও খামারী টিকে রয়েছে। এখন এক বস্তা খাবারের মূল্য বর্তমানে ২৭০০ থেকে তিন হাজার টাকা, আর ব্রয়লারের তিন হাজার থেকে ৩২০০ টাকা করা হয়েছে। এর সাথে সাথে ভ্যাকসিনসহ সকল প্রকার ওষুধের মূল্য বৃদ্ধির কারণে বর্তমানে একটি ডিমের উৎপাদন খরচ পরে প্রায় ৯ দশমিক ৭৯ টাকা এবং ব্রয়লার মুরগির প্রতি কেজি পরে ১৪০ থেকে ১৪৫ টাকা।
তিনি আরো বলেন, ঢাকার বাজারের ওপর ভিত্তি করে স্থানীয় আরৎদাররা চাহিদার ভিত্তিতে বাজার মূল্য নির্ধারন করে থাকেন। এর সাথে এখানকার খামারীদের কোন হাত নেই। বাজার মূল্য নির্ধারনের সময় ডিম ও ব্রয়লারের উৎপাদন খরচের প্রতি কোনরূপ লক্ষ্য করা হয় না। বাজার মূল্য নির্ধারনে ব্যাপারে বাংলাদেশের কিছু কর্পোরেট কোম্পানী ও বিদেশী কিছু মাল্টি ন্যাশনাল কোম্পানী কর্মাশিয়াল ফার্মিংএ আসায় বাজারটি তাদের হাতে চলে গেছে। কারণ মোট উৎপাদনের প্রায় ২৫ শতাংশ তাদের হাতে। তারা চাচ্ছে ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক খামারীগুলো ঝরে গেলে তারা বজারটি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে। ভোক্তা পর্যায়ে যে ডিমের মূল্য ১২-১৩ টাকা, সেখানে সেই ডিম খামারী পর্যায়ে সর্বোচ্চ ৯ দশমিক ৫০ টাকা। মাঝখানে আড়ৎদার, ফরিয়া, মুদি দোকানদার ২ দশমিক ৫০-৩ টাকা পর্যন্ত ব্যবসা করে।
তিনি বলেন, কর্পোরেট কোম্পানীগুলোর ডিমের উৎপাদন খরচ অনেক কম। কারণ বাচ্চা তাদের নিজস্ব হ্যাচারীতে উৎপাদন করে, খাদ্যের সমস্ত কাঁচামাল তারা বৃহৎ আকারে আমদানী করে এবং নিজস্ব ফিড মিলে খাদ্য উৎপাদন করে কর্মাশিয়াল ফার্মে ব্যবহার করে। তাই তাদের উৎপাদিত পণ্যের মূল্যের সাথে প্রান্তিক খামারীদের উৎপাদিত পণ্যের মূল্যের অনেক পার্থক্য থাকে। তাই প্রান্তিক খামারীরা তাদের কাছে অসহায়।
তিনি আরো বলেন, পোল্ট্রি খাত একটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ খাত। প্রান্তিক খামারিরা বছরের পর বছর লোকসান গুনতে শুনতে সর্বসসাপ্ত হয়ে ঝরে যাচ্ছে। ইতিমধ্যে ৪০ শতাংশ খামার বন্ধ হয়ে গেছে। এইভাবে লোকসান দিতে থাকলে অচিরেই সকল প্রান্তিক খামার বন্ধ হয়ে যাবে আর লক্ষ লক্ষ মানুষ বেকার হয়ে পরবে।
এসময় সংবাদ সম্মলেনের মাধ্যমে সরকারের কাছে চার দফা দাবি তুলে ধরেন তারা। দাবি গুলো হলো- ডিম ও ব্রয়লার মরগীর দাম সরকারের পক্ষ থেকে ভিন্ন ভিন্নভাবে খামারী, আড়ৎদার, ভোক্তা পর্যায়ে মূল্য নির্ধারন করা, সংশ্লিষ্ট প্রাণীসম্পদ মন্ত্রণালয়, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, ভোক্তা অধিকার, খামারী প্রতিনিধি, ফিডমিল প্রতিনিধি, হ্যাচারী মালিক প্রতিনিধিদের নিয়ে একটি জাতীয় কমিটি গঠন করে ১৫ দিন বা ১ মাস অন্তর পোল্ট্রি পণ্যের মূল্য নির্ধারন করা, কৃষি খাতে যেভাবে সরকার সার, ওষুধ, বিদ্যুৎ ইত্যাদিতে ভর্তুকীসহ প্রনোদনা প্রদান করেন তদরুপ পোল্ট্রি খামারীদেরও বাচ্চার মূল্য ও খাদ্যের মূল্যে ভর্তুকী প্রদান করলে ডিমের মূল্য সহনীয় পর্যায়ে রাখা এবং পোল্ট্রি খাদ্যের মূল্য সহনীয় পর্যায় আনার জন্য সরকারের তরফ থেকে জাতীয় কমিটির নির্ভর যোগ্য তদারকি করা।
সংবাদ সম্মেলনে আরো উপস্থিত ছিলেন, মো. সেলিম সরদার, সাবেক কাউন্সিলর ফরিদ উদ্দিন, এনায়েত হোসেন প্রমুখ।
এএজে