ইউপি চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে কারখানা নদীর বালু চুরি, প্রশাসন নিরব

বাকেরগঞ্জ ও বাউফলের মধ্যবর্তি কারখানা নদীর চর কবাই পয়েন্টে প্রকাশ্যেই চলছে বালু চুরির মহোৎসব। উপজেলা প্রশাসনের দেয়া সীমানার মধ্যে ঢুকে প্রতিদিন সকাল থেকে রাত ড্রেজার দিয়ে বালু কেটে বিক্রি করছে প্রভাবশালীরা।
অভিযোগ উঠেছে বাকেরগঞ্জ উপজেলার কবাই ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জহিরুল হক তালুকদার বাদল এর নেতৃত্বে কারখানা নদীতে ড্রেজার দিয়ে বালু কাটা হচ্ছে। কিন্তু উপজেলা প্রশাসন রহস্যজনক কারণে নিরব দর্শকের ভূমিকা পালন করছে।
যদিও বাকেরগঞ্জ উপজেলা প্রশাসন বলছে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন বন্ধে তাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। ইতিপূর্বে ড্রেজার পুড়িয়ে দেয়ার পাশাপাশি কয়েকজনকে সাজাও দেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) আবুজর মো. ইজাজুল হক। সুনির্দিষ্ট তথ্য প্রমাণ পেলে পুনরায় অভিযান করা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।
তবে সম্প্রতি সহকারী কমিশনারকে সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদকের মাধ্যমে মুঠোফোনে কারখানা নদীতে অবৈধভাবে ড্রেজিংয়ের বিষয়টি অবহিত করা হলেও গত পাঁচ দিনেও তিনি কোন প্রকার ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি। ফলে কারখানা নদীতে অবৈধ বালু ট্রেডিং থামছে না। এ অবৈধ ড্রেজিংয়ের ফলে কারখানা নদীর তীরে ভাঙন ক্রমশই বাড়ছে। হুমকির মুখে পড়েছে নদীর তীরবর্তী মানুষেরা।
গত ১৬ আগস্ট দুপুর ২টার দিকে সরেজমিনে দেখা গেছে, বাকেরগঞ্জ উপজেলার কবাই ইউনিয়নের কবাই বাজার এবং লক্ষ্মীপাশা ফেরীঘাটের মাঝামাঝি স্থানে চরকবাই সংলগ্ন কারখানা নদী থেকে বালু উত্তোলন করে বাল্কহেড এর মাধ্যমে অন্যত্র নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। প্রকাশ্যে ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলন করা হলেও কেউ বাধা দিচ্ছে না।
ঘটনাস্থলে দাঁড়িয়েই বিষয়টি বাকেরগঞ্জ উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) কে অবগত করা হয়। এসময় তিনি সুনির্দিষ্টভাবে তথ্য জানালে ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন বলে জানান। কিছুক্ষণ পরে পুনরায় তাকে তথ্য জানানোর জন্য ফোন করা হলেও তা রিসিভ করেননি।
বরিশাল জেলা প্রশাসন কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ‘বাকেরগঞ্জ উপজেলাধীন কবাই নদীর দুর্গাপাশায় বালুমহল ইজারা প্রদান করা হয়েছে। বাকেরগঞ্জের আরিফুর রহমান কবির নামের একজন ইজারাদার ওই বালু মহলের ইজারা পেয়েছেন। কিন্তু দুর্গাপাশা বালু মহল থেকে বালু উত্তোলন না করে পার্শ্ববর্তী চর কবাইতে অবৈধভাবে ড্রেজিংয়ের মাধ্যমে বালু উত্তোলন করছেন।
অভিযোগ উঠেছে কবাই ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জহিরুল হক তালুকদার বাদল এর নেতৃত্বে কারখানা নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। আর এতে সহযোগী হিসেবে রয়েছেন দুধাল ইউনিয়ন পরিষদের মেম্বর আব্দুর রশিদ।
সরেজমিনে বাকেরগঞ্জ ডিসি রোড খেয়াঘাট বা বকাই বাজারের একাধিক ব্যবসায়ী জানিয়েছে, ‘সম্প্রতি বাকেরগঞ্জ উপজেলা প্রশাসন কারখানা নদীতে অবৈধ ড্রেজার বিরোধী অভিযান পরিচালনা করে। এসময় সেখান থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের অপরাধে আটক করা হয়। এমনকি পরবর্তীতে তাদের ভ্রাম্যমান আদালতে সাজাও দেয়া হয়েছে।
তাছাড়া উপজেলা সহকারী কমিশনারের উপস্থিতিতে কারখানা নদীতে সীমানা নির্ধারণ করে নিশানা দিয়ে আসেন। এর আগে একটি ড্রেজার আটকের পরে পুড়িয়েও দেয়া হয়। কিন্তু পরবর্তীতে উপজেলা প্রশাসনের তদারকির অভাবে পুনরায় সেখানে অবৈধভাবে ড্রেজিং কার্যক্রম চলছে।
বাজারের ব্যবসায়ীরা বলেন, ‘কবাই ইউপি চেয়ারম্যান চর কাবাইতে ড্রেজিং ব্যবসার সাথে জড়িত। চর কবাই থেকে বালু কেটে লেবুখালীতে একটি সরকারি সংস্থার কাছে বিক্রি করা হচ্ছে। যে কারণে একটি ড্রেজার পুড়িয়ে দেয়ার পরে পিরোজপুর ও মুন্সিগঞ্জ থেকে ড্রেজার এনে পুনরায় অবৈধভাবে ড্রেজিং করা হচ্ছে। ক্ষমতাসীন দলের ইউপি চেয়ারম্যান ড্রেজিং ব্যবসার সাথে জড়িত থাকায় স্থানীয় কেউ প্রতিবাদ করার সাহস পচ্ছে না। সেই সাথে প্রশাসনের নিরবতার কারণে নদী ভাঙনের তীব্রতা আরও বাড়ছে বলে অভিযোগ ব্যবসায়ীদের। এরি মধ্যে অবৈধ ড্রেজিংয়ের কারণে লক্ষীপাশা ফেরীঘাট সংলগ্ন একটি রাস্তা কারখানা নদীতে বিলিন হয়েছে। এর ফলে বিকল্প রাস্তা হয়ে যেতে হচ্ছে ডিসি রোড খেয়াঘাটে।
অভিযোগ প্রসঙ্গে বালুমহলের ইজারাদার আরিফুর রহমান কবিরের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলেও তিনি ব্যস্ততা দেখিয়ে ফোনের সংযোগ কেটে দেন। তাছাড়া কবাই ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জহিরুল হক তালুকদার বাদলের মুঠোফোন নম্বরে একাধিকবার কল করার একপর্যায় ফোন রিসিভ করেন। তবে অপরপ্রান্ত থেকে দাবি করা হয় চেয়ারম্যান নেই। তিনি ফোন রেখে গেছেন। আসলে ফোন দিতে বলবো।
উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আবুজর মো. ইজাজুল হক বক্তব্য জানতে তার কার্যালয়ে গেলেও পাওয়া যায়নি। তবে তিনি মুঠোফোনে বলেন, ‘ইতিপূর্বে আমরা অভিযান চালিয়েছি। তবে কোথায় ড্রেজিং করে বালু কাটা হচ্ছে সেটা নির্দিষ্টভাবে জানা গেলে পুনরায় অভিযান চালানো হবে।
কেআর