ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৬ অগাস্ট ২০২৬

Motobad news
শিরোনাম

বাকেরগঞ্জে ভুল চিকিৎসায় খামারির ৬ ছাগলের মৃত্যুর অভিযোগ

বাকেরগঞ্জে ভুল চিকিৎসায় খামারির ৬ ছাগলের মৃত্যুর অভিযোগ
গুগল নিউজে (Google News) দৈনিক মতবাদে’র খবর পেতে ফলো করুন

বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলা পশু হাসপাতালের উপ-সহকারী হাবিবুর রহমানের অপচিকিৎসায় এক খামারী ৬টি ছাগলের মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। 

অফিসে অনিয়মের অভিযোগ দিলে ক্ষিপ্ত হয়ে মেডিকেলে সেবা নিতে আসা ছাগলের খামারিকে ইচ্ছাকৃতভাবে অপচিকিৎসা দিয়ে ৬ টি ছাগল হত্যা করেছে বলে অভিযোগ করেন ওই ছাড়লের খামার মালিক শাহজামাল হাওলাদার।

অভিযোগ সুত্রে জানাযায়, বাকেরগঞ্জের রঙ্গশ্রী ইউনিয়নের শ্যামপুর গ্রামের মৃত্যু দলিল উদ্দিন হাওলাদারের ছেলে মো. শাহজামাল হাওলাদারের খামারে উন্নত জাতের ২৫ টি ছাগল পালন করে আসছিলেন। যার আনুমানিক মূল্য ৫ থেকে ৬ লক্ষ টাকা। তার খামারের ছাগলের কোন অসুখ বিসুখ হলে বাকেরগঞ্জের পশু হাসপাতালের উপ-সহকারী হাবিবুর রহমান চিকিৎসা করতেন। খামারে নিয়ে গিয়ে চিকিৎসা দিলে প্রতিবার তাকে জাতায়াত ফি ও চিকিৎসা বাবদ দিতে হতো ১৫০০ থেকে ২০০ হাজার টাকা। সম্প্রতি তাকে কিছু টাকা কম দিলে তিনি ওই খামারির সাথে খারাপ আচরণ করেন। 

এছাড়াও ছাগলের ভেকসিনের জন্য টাকা দিলে তিনি ৬-৭ মাস ঘুরিয়ে ভেকসিন না দেওয়ায় ঊর্ধত্বন কর্মকর্তাদের অবহিত করলে উপসহকারী হাবিবুর রহমান ক্ষিপ্ত হয়। 

পরবর্তীতে গেল ৭-৮দিন পূর্বে আমাকে একটা ভেকসিন দিয়ে উপরস্থ কর্মকর্তাদে না জানাতে অনুরোধ করেন। 
শাহজামাল হাওলাদার আরো বলেন,  সরল বিশ্বাসে তার দেয়া ভেকসিন ছাগলকে দিলে সেই রাতেই ৪টি ছাগল মারা যায় এবং দুটি ছাগল অসুস্থ হয়। পরে আমি বাকেরগঞ্জ উপজেলা পশু হাসপাতালের চিকিৎসার জন্য নিয়ে গেলে ডাক্তার রাসেল আহামেদ আমার ছাগলের চিকিৎসা দেন  বর্তমানে আমার ১৯টি ছাগল মুমূর্ষু অবস্থায় রয়েছে। 

এবিষয়ে উপসহকারী হাবিবুর রহমানকে জানালে তিনি আমাকে বলেন, তোমার ছাগলের ভাইরাস হয়েছে তুমি সব ছাগল বিক্রি করে আবার নতুন করে ছাগল কেন। তোমার খামারের একটি ছাগলও বাঁচবেনা। সেই রাতেই আমার আরো দুটি ছাগল মারা যায়। 
আমার ছাগলকে পরিকল্পিত ভাবে অপচিকিৎসা দিয়ে হত্যা করেছেন আমি এর বিচার চাই। 

এবিষয়ে অভিযুক্ত উপ সহকারী হাবিবুর রহমানের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি তাকে  ভালো ভেকসিন দিয়েছি তবে টাকা নেয়ার ব্যাপারটি এরিয়ে যান। 

এবিষয়ে (ভারপ্রাপ্ত)  উপজেলার  প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা ডাক্তার রাসেল আহমেদ জানান, আমি নিজেও তার একাধিক ছাগলের চিকিৎসা দিয়েছি ছাগলগুলোই ভাইরাসে আক্রান্ত হতে পারে বলে জানিয়েছেন। এবং উপসহকারী হাবিবুর রহমানের অনিয়মের বিষয় আমরা লিখিত অভিযোগ পেলে তদান্ত পূর্বক ব্যাবস্থা গ্রহণ করা হবে।

ইউনিয়ন আলীগ সাধারণ সম্পাদক মো. নজরুল ইসলাম খোকন বলেন, সচ্ছলতার আশায় নিজেই উদ্যোক্তা হয়ে জমি বন্দক  ও ধার দেনা করে কিনেছিলেন ২৫ টি ছাগল। গড়েছিলেন সপ্নের খামার। অপচিকিৎসায় নিমেষেই সাহজামালের খামারটি শেষ। আমিএর সুষ্ঠ তদন্তের মাধ্যমে দোষী ব্যক্তির শাস্তির জোর দাবি জানাচ্ছি।

এ বিষয়ে ভুক্তভোগী গণমাধ্যমকে জানায়, উপসহকারী হাবিবুর রহমানকে অভিযুক্ত করে বাকেরগঞ্জ থানায় একটি লিখিত অভিযোগের প্রস্তুতি চলছে।
 


এএজে
গুগল নিউজে (Google News) দৈনিক মতবাদে’র খবর পেতে ফলো করুন

সর্বশেষ