বরিশালে অবৈধ ডায়াগনস্টিকের অর্ধেক বন্ধ , দিব্যি চলছে বাকি অর্ধেক

স্বাস্থ্য অধিদফতরের নির্দেশনা উপেক্ষা করে অবৈধ ডায়াগনস্টিক সেন্টারকে চলাচলের সুযোগ করে দিয়েছেন বরিশালের সিভিল সার্জনের কার্যালয়। এতে করে প্রশ্ন উঠেছে এই জেলার অভিযানের সততা নিয়ে। কিছু ডায়াগনস্টিক সেন্টার থেকে দাবী করা হয়েছে, টাকার দরদামে যাদের সাথে সমঝোতা না হয় তাদের বন্ধ করে দেন। যাদের সাথে সমঝোতা হয় তাদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা গ্রহন করে না সিভিল সার্জন।
বরিশালের সিভিল সার্জন ডাঃ মারিয়া হাসান জানিয়েছেন, বরিশাল জেলায় মোট ৩৫টি অনিবন্ধিত ডায়াগনস্টিক সেন্টার রয়েছে। এদের মধ্যে শনিবার ও রোববার ১৭টি ডায়াগনস্টিক সেন্টার বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। বাকি ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোতে সতর্ক করা হয়েছে।
অবৈধ হলেও ১৮টি ডায়াগনস্টিক সেন্টারের বিরুদ্ধে কেন ব্যবস্থা নেওয়া হলো না প্রশ্ন করা হলে ডাঃ মারিয়া হাসান বলেন, মন্ত্রনালয়ের নির্দেশনাটি ছিল ৭২ ঘন্টার। এটি এক ধরণের অভিযানের মতই। এই স্বল্প সময়েও আমরা চেষ্টা করেছি ব্যবস্থা গ্রহনে। যেহেতু অবৈধ ডায়াগনস্টিক সেন্টারের বিরুদ্ধে আমাদের অভিযান সারা বছরই চলে, এজন্য পর্যায়ক্রমে সেগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি আরো বলেন, মন্ত্রনালয়ের নির্দেশনা আপনারা (সাংবাদিক) বুঝতে পারেননি। সেখানে বলা হয়েছে অনিবন্ধিত ক্লিনিক, ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও হাসপাতালের বিরুদ্ধে অভিযান কার্যক্রম চলমান থাকবে।
সিটি করপোরেশন এলাকায় অভিযান পরিচালনা না হওয়ার বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি বলেন, সিটি করপোরেশন এলাকায় বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের অনুমতি সাপেক্ষে জেলা প্রশাসনের ম্যাজিস্ট্রেট নিয়ে অভিযান পরিচালনা করা হবে। অল্প সময়ের মধ্যেই আমরা সিটি এলাকায় অভিযান পরিচালনা করবো।
তবে জেলার বেশ কয়েকটি উপজেলায় একাধিক ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মালিকের সাখে কথা বলে জানা গেছে, মন্ত্রনালয়ের নির্দেশনা মোতাবেক অভিযানের সময়ে সিভিল সার্জন কার্যালয়ের কর্মকর্তাদের খুশি করে অনেক অবৈধ ডায়াগনস্টিক সেন্টার চলছে। যে সকল ডায়াগনস্টিক সেন্টার টাকা দিতে রাজি হননি সেগুলো বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
গৌরনদী উপজেলার একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মালিক জানিয়েছেন, শনিবার তার ডায়াগনস্টিক সেন্টারটি বন্ধ ঘোষণা করেছে। অথচ ওই উপজেলায় আরো কয়েকটি প্যাথলজি-ডায়াগনস্টিক সেন্টার রয়েছে অবৈধ, সেগুলোর বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নিচ্ছে না সিভিল সার্জন।
বানারীপাড়ার আরেক ডায়াগনস্টিক মালিক বলেন, অবৈধ ডায়াগনস্টিক সেন্টার বন্ধ করলে সবগুলো বন্ধ করা উচিত। কিছু করছে আর কিছু অবৈধ ডায়াগনস্টিক সেন্টার চালু রাখার মানে হচ্ছে দুর্নীতি করা হয়েছে।
সচেতন নাগরিক কমিটি বরিশাল জেলার সভাপতি অধ্যাপক শাহ সাজেদা বলেন, অবৈধ ডায়াগনস্টিক সেন্টার বন্ধের যে উদ্যোগ সরকার নিয়েছেন তা যুগোপযোগী সিদ্ধান্ত। এই নির্দেশনা সঠিকভাবে বাস্তবায়ন হবে বলে আমি প্রত্যাশা করি। বরিশাল সিভিল সার্জন যদি জানেন তার জেলায় ৩৫টি অবৈধ ডায়াগনস্টিক সেন্টার রয়েছেন তারমধ্যে ১৭টি বন্ধ করলেন বাকি ১৮টি অবৈধ ডায়াগনস্টিক সেন্টার কেন বন্ধ করলেন না সেটি বোধগম্য নয়। তারপরও আমি আশা করছি, দ্রæত সময়ের মধ্যে তিনি অবৈধ ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলো বন্ধ করতে উদ্যোগী হবেন।
সম্মিলিত সামাজিক জোটের জেলা শাখার সদস্য সচিব এনায়েত হোসেন শিবলু বলেন, ৭২ ঘন্টার মধ্যে অবৈধ ডায়াগনস্টিক সেন্টার বন্ধ করার নির্দেশনা উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা দিয়েছেন। সেখানে বরিশালের সিভিল সার্জন অবৈধ ডায়াগনস্টিক সেন্টার জেনেও কয়েকটিকে বন্ধ করছেন আবার কয়েকটিকে চলাচল করতে দিচ্ছেন, এটি সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে তার শিষ্টাচার বর্হিভ‚ত আচরণ বলে মনে করি। এটিই প্রমান করে স্বাস্থ্যখাতে চরম অব্যবস্থাপনা রয়েছে। একজন সিভিল সার্জন জানা সত্যেও কেন অবৈধ ডায়াগনস্টিক সেন্টার তিনি বন্ধ করবেন না সেখানে অন্য প্রশ্ন আসতেই পারে।
স্বাস্থ্য অধিদফতর বরিশাল বিভাগীয় কার্যালয়ের পরিচালক ডাঃ হুমায়‚ন শাহীন খান বলেন, ছয় জেলায় ৫৯টি অবৈধ ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও ক্লিনিক বন্ধ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া বাকি যেগুলো রয়েছে সেগুলোর মধ্যে পর্যায়ক্রমে ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে। তিনি জানান, বিভাগে নিবন্ধিত ৫৭২ টি ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও ২১১টি ক্লিনিক রয়েছে।
প্রসঙ্গত, রোববারের (২৯ মে) মধ্যে দেশের সকল অবৈধ ডায়াগনস্টিক সেন্টার বন্ধের নির্দেশ দিয়েছিল স্বাস্থ্য অধিদফতর।
এএজে