ঢাকা মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬

Motobad news

রাশিয়ার বিজয় দিবসে ইউক্রেনে হামলা বাড়ানোর পূর্বাভাস

রাশিয়ার বিজয় দিবসে ইউক্রেনে হামলা বাড়ানোর পূর্বাভাস
গুগল নিউজে (Google News) দৈনিক মতবাদে’র খবর পেতে ফলো করুন

ইউক্রেনের পশ্চিমাঞ্চলের শহর ইভানো-ফ্রাঙ্কিভস্ক। রুশ মিসাইল হামলার আশঙ্কায় শহরের বাসিন্দাদের জনসমাগম স্থান এড়িয়ে চলার নির্দেশনা দিয়েছেন শহরের মেয়র। বলেছেন, সম্ভব হলে অন্যত্র চলে যান।

এদিকে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনার পর মারিউপোলের আজোভস্টাল স্টিল মিল এলাকায় আটকে পড়াদের সরে যেতে ‘নিরাপদ করিডোর’ স্থাপনে রাজি হয়েছেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। জাতিসংঘের বিশেষ একটি দল এই কার্যক্রমে যুক্ত হচ্ছে।

ইভানো-ফ্রাঙ্কিভস্ক শহরের মেয়র রুসলান মার্টিসিনকিভ নাগরিকদের উদ্দেশে বলেছেন, ‘আমাদের কাছে নির্দিষ্ট তথ্য আছে। শত্রুরা দুর্ভাগ্যবশত আরও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালাতে চাইছে। এ কারণে ৭, ৮ এবং ৯ তারিখে প্রার্থনাসহ কোনো পাবলিক ইভেন্ট হবে না।

‘আপনার নিরাপত্তার জন্য আমি অনুরোধ করছি, এই তিন দিন বাড়িতে থাকুন অথবা আপনি যদি সক্ষম হন তবে শহরের বাইরে থাকুন।’

ইউক্রেন সরকার আগে থেকেই এই আশঙ্কা করে আসছে। কিয়েভের ধারণা ৯ মে’র আগে হামলা বাড়াতে পারে রাশিয়া। ঐতিহাসিকভাবে এই দিনটির একটি আলাদা বিশেষত্ব আছে রাশানদের কাছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে নাৎসি জার্মানির বিরুদ্ধে এ দিনেই জয় পেয়েছিল তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়ন। ৯ মে রাশিয়ার বিজয় দিবস।

এদিকে জাতিসংঘের একটি নতুন দল মারিউপোলের আজোভস্টাল স্টিলওয়ার্কের দিকে যাচ্ছে। সেখানে ইউক্রেনীয় এবং রাশিয়ান বাহিনীর মধ্যে ব্যাপক লড়াই চলছে। এই অঞ্চলের বেসামরিক লোকদের নিরাপদে সরিয়ে নেবে দলটি।

জাতিসংঘের মানবিক প্রধান মার্টিন গ্রিফিথস বলেন, একটি দল শুক্রবার সকালের মধ্যে আজোভস্টালে পৌঁছাবে। আশা করি সেই অন্ধকার নরকে আটতে থাকা বেসামরিক নাগরিকদের তারা নিরাপদে সরে আসায় সাহায্য করবে।’

জাতিসংঘ এবং রেডক্রস মঙ্গলবার জানায়, ইউক্রেনের কৌশলগত দক্ষিণ বন্দর শহরের আজোভস্টাল প্ল্যান্টের টানেল থেকে ১০১জন বেসামরিক লোককে সরিয়ে নিয়েছে তাদের একটি স্বেচ্ছাসেবী দল।

পূর্ব ইউক্রেনের শহর ক্রামতোর্স্কে গোলাবর্ষণ অব্যহত রেখেছে পুতিন বাহিনী। আল-জাজিরার প্রতিবেদক চার্লস স্ট্র্যাটফোর্ড সেখানকার আবাসিক এলাকা থেকে খবর সংগ্রহ করছেন। তিনি জানিয়েছেন, ক্রামতোর্স্কে গোলার আঘাতে অন্তত ২৫ জন আহত হয়েছেন।

‘এটি অবিশ্বাস্য, এতোটা ব্যাপক হামলার পরও সেখানে কেউ প্রাণ হারাননি। এখানে শত শত ফ্ল্যাট আছে, যেগুলোর জানালা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। গাছগুলো উপড়ে গেছে। যে স্থানে বিস্ফোরণ হয়েছে সেখানে ১০-১৫ ফুট গভীর গর্ত সৃষ্টি হয়েছে। প্রচণ্ড শক্তিশালী বিস্ফোরণে এমনটা ঘটেছে।’

স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, গোলা যে ভবনে আঘাত হেনেছে, সেটি নির্মাণাধীন ছিল। সেখানে কোনো লোক ছিল না। ফলে সেখানে কেউ হতাহত হওয়ার ঘটনাও ঘটেনি।

ন্যাটো প্রধান জেনস স্টলটেনবার্গ বলছেন, সুইডেন চাইলে বাল্টিক সাগরে উপস্থিতি বাড়াবে জোট।

সুইডিশ পাবলিক ব্রডকাস্টার এসভিটিকে দেয়া সাক্ষাৎকারে ন্যাটো প্রধান বলেন, ‘ন্যাটো তখনই সুইডেন সীমান্ত ও বালস্টিক সাগরে তাদের উপস্থিতি বাড়াবে যখন সুইডেনের জোটে যোগদানের প্রক্রিয়া শুরু হবে।

‘গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো সুইডেন আবেদন করেছে। তারা ন্যাটোতে যুক্ত হতে চাচ্ছে। এক্ষেত্রে সুইডেনের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে ন্যাটোর বাধ্যবাধকতা রয়েছে। এ জন্য সুইডেনের চারপাশে এবং বাল্টিক সাগরে ন্যাটো সেনা উপস্থিতি বাড়ানো হতে পারে।’

ন্যাটোতে যোগদানের ইচ্ছার কারণে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের রোষে পড়েছে ইউক্রেন। বাড়ির কাছে ন্যাটোর উপস্থিতিকে কোনোভাবেই মেনে নিতে রাজি নয় মস্কো। সুইডেন এবং ফিনল্যান্ডের সঙ্গেও রাশিয়ার সীমান্ত রয়েছে। আর এ দুটি দেশই এখন ন্যাটোতে যেতে আগ্রহ দেখাচ্ছে। যদিও দেশ দুটিকে পরিণতি সম্পর্কে আগেই সতর্ক করেছে মস্কো।


এসএমএইচ
গুগল নিউজে (Google News) দৈনিক মতবাদে’র খবর পেতে ফলো করুন