ঢাকা শুক্রবার, ০৮ মে ২০২৬

Motobad news

বরিশালে সাউথ ইবনে সিনা ডায়াগনস্টিক সেন্টারে রোগী প্রতারনা লাগামহীন!

বরিশালে সাউথ ইবনে সিনা ডায়াগনস্টিক সেন্টারে রোগী প্রতারনা লাগামহীন!
গুগল নিউজে (Google News) দৈনিক মতবাদে’র খবর পেতে ফলো করুন

ঢাকার স্বনামধন্য ডায়গণস্টিক সেন্টার ইবনেসিনার  নাম নকল করে রোগী প্রতারণায় শীর্ষে রয়েছে বরিশাল নগরীর কাকলীর মোড়স্থ সাউথ ইবনেসিনা ডায়গণস্টিক সেন্টার। দালাল চক্রের মাধ্যমে দুর-দুরান্তের রোগীকে হাতানো হচ্ছে হরহামেশাই।গেল ২ দিনে রোগী প্রতারনার বেশকিছু অভিযোগ আসে সংবাদমাধ্যমের কাছে।অভিযোগগুলোর সত্যতাও পাওয়া যায়। এনিয়ে খোদ বরিশাল ডায়গণস্টিক মালিক সংগঠনও বিব্রত। একরাশ ক্ষোভ প্রকাশ করে ক্লিনিক ও ডায়গণস্টিক ওনার্স এসোসিয়েশনের সভাপতি কাজি মফিজুল ইসলাম কামাল বলেন, অভিযোগতো আসতেই আছে। গেল বুধবার  মহিপুর এলাকার রোগী হামিদ প্রতারিত হয়ে আমার কাছে আসলে  মালিক পক্ষকে বলে চার হাজার টাকা আদায় করে দেই। এরপর আজকেও আবার একই অভিযোগ পেলাম। এভাবেতো চলতে পারেনা।আসলে তারা এখনও ক্লিনিক ও ডায়গণস্টিক ওনার্স এসোসিয়েশনের সদস্য হয়নি।সবে আবেদন জমা দিয়েছে। আমরা লিখিত অভিযোগ পেলে অবশ্যই সাংগাঠনিক ব্যবস্থা নেবো। তবে রোগী প্রতারণার আতুরঘর সাউথ ইবনেসিনা ডায়গণস্টিক সেন্টারটির মালিক পক্ষের সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলে প্রতিষ্ঠানটির ডেস্ক থেকে কোন প্রকার সহযোগীতা করা হয়নি। একপর্যায়ে ভারপ্রাপ্ত এমডি পরিচয় দিয়ে শাওন নামের এক ব্যক্তি বলেন, এই প্রতিষ্ঠানের মালিক আপনাদের সাংবাদিকও আছে। এসময় তাকে বলা হয় আপনার প্রতিষ্ঠান থেকে প্রতারিত হওয়ার পর ভুক্তভুগী রোগীকে টাকা ফেরত দেয়া হয়েছে আপনাদের সংগঠনের সভাপতির মাধ্যমে। 

এনিয়ে উক্ত এমডি আরো বলেন, আজকেওতো সভাপতির সাথে আমরা একত্রে দাওয়াত খাইছি বলে এড়িয়ে যান। এদিকে গতকাল শনিবার(১২ মার্চ) ভুক্তভুগী, লাকুটিয়ার বাসিন্দা মুনসুর আলী রাড়ী বলেন, আমি আজ বেলভিউর বিপরীতে দাড়ানো ছিলাম এসময় একজন এসে আমাকে ফুসলিয়ে নিয়ে যায় ইবনেসিনায়। এরপর গিয়ে দেখি আমি যে ডাক্তার দেখাবো সে ডাক্তার নেই। কিন্তু ইতিমধ্যে আমার থেকে টাকা-পয়সা নেয়া হয়ে গেছে। প্রতারণার এখানেই শেষ নয় মহিপুর থেকে আসা বৃদ্ধ হামিদ মিয়া তার স্ত্রীকে নিয়ে ডাক্তার দেখাতে এসে একইভাবে প্রতারিত হয় সাউথ ইবনেসিনা ডায়গণস্টিকের মাধ্যমে। কিভাবে রোগী বাগানো হয় এনিয়ে সরেজমিন সূত্রে জানা গেছে, রিকশাচালক ও পথচারীবেশে ওতপেতে থেকে ঐ ল্যাবের দালালরা রোগীর বেশভুষা বুঝে উপকার করার ছলে গায়ে পরে আলাপ আলোচনা শুরু করে মিথ্যা তথ্য দিয়ে বাগিয়ে নিয়ে যায় রোগীকে। বিশেষ করে গ্রাম-গঞ্জ থেকে আসা রোগী ও স্বজনদেরকে টার্গেট করা হয়। নগরীতে ডায়গণস্টিক সেন্টারগুলোতে রোগী প্রতারণা বন্ধের ব্যাপারে কি ধরণের পদক্ষেপ নেয়া হবে জানতে চাইলে বরিশাল বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক, ডা:হুমায়ুন শাহিন খান বলেন লিখিত অভিযোগ পেলে আমরা ব্যবস্থা নিতে পারি। এছাড়া তেমন কিছু করার নেই। তবে আমরা এসকল অভিযোগগুলোর ব্যাপারে নোট রাখছি কিছুদিনের মধ্যে হয়তো দাপ্তরিক পদক্ষেপ নেবো। আর সবচেয়ে ভালো হয় প্রতারিত হওয়া রোগী যদি আইনি পদক্ষেপ নেয়।এ বিষয়ে উপ পুলিশ কমিশনার (দক্ষিন) বলেন নগরীতে দালাল ভিত্তিক এ সকল ল্যাবগুলোর একটা তালিকা করা হচ্ছে।তবে ডায়গণস্টিক মালিকপক্ষ ও কিছু নেতাদের তদবিরে আমাদের বিব্রত হতে হয়।কঠোর এ্যকশন নিতে পারি না।কেউ অভিযোগ দিলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


উল্লেখ্য গত বছরের ২১ আগষ্ট মেয়াদ উত্তীর্ণ রিএজেন্ট ব্যবহার করার অপরাধে এই সাউথ ইবনে সিনা ডায়াগনস্টিক কে ৩০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড করেছিল বরিশাল জেলা প্রশাসন


এসএম
গুগল নিউজে (Google News) দৈনিক মতবাদে’র খবর পেতে ফলো করুন