আদালতের রায় থাকতেও জমিতে ঘর তুলতে বাধা

জমি সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে এক ব্যাক্তিকে হত্যার হুমকী ও চাঁদা দাবির অভিযোগ উঠেছে। চাঁদা না পেয়ে আদালতের রায় থাকা সত্যেও জমিতে ঘর তুলতে পারছেন না মো. মিন্টু হাওলাদার নামের ব্যক্তি। ঘটনাটি ঘটেছে বরিশাল সদর উপজেলার চরকাউয়া ইউনিয়নের নয়ানী ১ নম্বর ওয়ার্ডে। ভুক্তভোগী মিন্টু ওই এলাকার মৃত. আফছের হাওলাদারের ছেলে।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, ২০১৫ সালে নাসির হাওলাদারের নিকট থেকে সাব কবলা সূত্রে জমির মালিক বিদ্যমান থেকে ও বাকী সম্পত্তি পৈত্রিক ওয়ারিশ সূত্রে রেকর্ড সংশোধন পূর্বক মালিক হন মিন্টু হাওলাদার। ওই জমির নিয়মিত খাজনা পরিষদ ও বিভিন্ন প্রজাতির গাছপালা রোপন করে ভোগ দখল করে আসছেন তিনি। জমির কিছু অংশে তার বসত বাড়ি। কিন্তু তার ভোগদখলিয় ওই জমি দখলের চেষ্টা করেন চরকাউয়া নয়ানী এলাকার মৃত আবুল কাশেম হাওলাদারের ছেলে নোমান হাওলাদার হেলাল।
তিনি অবৈধভাবে জমি দখল নিতে ২০১৬ সালের ১৫ মার্চ সহকারী জজ আদালতে একটি দেওয়ানী মামলা দায়ের করেন। যার নম্বর ৪৫/২০১৬। মামলা পরবর্তীতে ১৫২/১৮ অন্তভূক্ত হয়ে ২০২২ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি সহকারী জজ আদালত মোঃ মিন্টু হাওলাদারের পক্ষে রায় প্রদান করেন।
মিন্টু হাওলাদার বলেন, ‘রায় পাওয়ার পর আমি আমার সম্পত্তিতে চলতি বছরের ১৭ ফেব্রুয়ারি একটি ভবন র্নিমাণের কাজ শুরু করি। তখন নোমান হাওলাদার ও চরপত্তনিয়া এলাকার হাবিব মোল্লার ছেলে রিয়াজ মোল্লা (২৫) আমার কাছে এক লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। সাত দিনের মধ্যে চাঁদার টাকা না দিলে কাজ বন্ধ করে দেওয়ার হুশিয়ারী দেন তারা।
তিনি বলেন, ‘পরবর্তীতে ১৯ ফেব্রুয়ারি শনিবার সকাল ১০টার দিকে ভবন র্নিমাণের জন্য গাছপালা কাটা শুরু করলে নোমান হাওলাদার, রিয়াজ মোল্লা, মোসাঃ খাদিজা আক্তার হীরা, রহিমা ওরফে জেসমিনসহ অজ্ঞাত ৪-৫ জন লোক নির্মাণ শ্রমিকদের হুমকী দিয়ে পাঠিয়ে দেয়। এসময় তারা আমার স্ত্রীকেও অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে। আমি এ ঘটনার প্রতিবাদ করলে তারা লোহার রড দিয়ে আমাকে পিটিয়ে গুরুতর আহত করে। এসময় আমার পকেটে থাকা নগদ ১০ হাজার ৫০০শত টাকা এবং স্বর্ণের চেইন নিয়ে যায় বলে অভিযোগ মিন্টু হাওলাদারের।
তিনি বলেন, ঘটনার পরে স্থানীয়রা আমাকে উদ্ধার করে প্রাথমিক চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন। এই ঘটনায় আমি বাদী হয়ে বরিশাল মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে গত ২৭ ফেব্রুয়ারি ও গত ১০ মার্চ পৃথক দুটি মামলা দায়ের করেছি।
মিন্টু অভিযোগ করেন, ‘আমি সাত বছর মামলা চালিয়ে আমার পক্ষে রায় পেয়েছি। কিন্তু যখনি জমিতে ঘর তুলতে যাচ্ছি তখনই সন্ত্রাসীদের বাধার মুখে পড়ছি। তারা কাজ বন্ধ করে দিচ্ছে। আমার কাছে তারা মোটা অংকের চাঁদা দাবি করছে। আমি তাদের দাবি না মানায় আমাকে গুম-খুনের হুমকি দিচ্ছে।
তিনি বলেন, আমি বন্দর থানা কমিউনিটি পুলিশিং ফোরামের একজন সদস্য। থানায় ওপেন হাউজ ডে’তে আমি তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ দেয়ার পর থেকেই তারা আমার ওপর নির্যাতনের মাত্রা আরও বাড়িয়ে দেয়। আমি এখন জীবন নিয়ে শঙ্কায় ভুগছি। তাই প্রশাসনের সহযোগিতা চেয়েছেন তিনি।
এসএম