ঢাকা শুক্রবার, ০৮ মে ২০২৬

Motobad news

সাদিয়ার লাশ ‍উদ্ধার: বিচার চেয়ে সংবাদ সম্মেলন বাবার

সাদিয়ার লাশ ‍উদ্ধার: বিচার চেয়ে সংবাদ সম্মেলন বাবার
গুগল নিউজে (Google News) দৈনিক মতবাদে’র খবর পেতে ফলো করুন

৭ই মার্চ বরিশালের বৈদ্যপাড়া সড়কের একটি ভাড়া বাসা থেকে সাদিয়া সাথি(২৪)নামের বিসিএস পরিক্ষার্থীর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। ঘটনার পর থেকেই সাদিয়ার স্বামী বরিশাল জেলা ডিবির কনস্টেবল মাইনুল ইসলাম পলাতক রয়েছেন। এ ঘটনায় প্রথম থেকেই নিহত সাদিয়ার পরিবার স্বামী কনস্টেবল মাইনুল ইসলামকে অভিযুক্ত করে শাস্তি দাবী করে আসছেন। ৮ই মার্চ বরিশাল মেট্রপলিটন কোতয়ালী থানায় সাদিয়ার বাবা মাইনুল ইসলামকে আসামী করে একটি এজাহার দায়ের করেন। ঘটনার ৭দিন পার হলেও ওই এজাহার নথীভুক্ত করেনি পুলিশ।

নিহত সাদিয়ার বাবা বাবুগঞ্জ উপজেলার কেদারপুর ইউনিয়নের বাসিন্দা সিরাজুল হক মৃধা পুলিশ কনস্টেবল মাইনুলের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হস্তক্ষেপ কামনা করে সংবাদ সম্মেলন করেন।
  
রবিবার (১৩ই মার্চ) সকাল ১১টায় বাবুগঞ্জ উপজেলা প্রেসক্লাব হল রুমে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘আপনারা আবগত আছেন যে, ৭ই মার্চ আমার মেধাবী কন্যা সাদিয়া সাথির নিথর দেহ বৈদ্য পাড়ার একটি ভাড়া বাসা থেকে ঝুলন্ত অবস্থায় উদ্ধার করেছে পুলিশ। সাদিয়ার স্বামী বরিশাল জেলা পুলিশের কনস্টেবল প্রতারক মাইনুল ইসলাম সে দিন থেকেই পলাতক রয়েছে। আমাদের পরিবারের কারো সাথে সে যোগাযোগ করেনি। আপনারা সাদিয়ার ডায়েরি ঘেটে জানতে পেরেছেন পুলিশ কনস্টেবল মাইনুল ইসলাম একজন প্রতারক। সে কনস্টেবল হয়েও এসআই পরিচয়ে আমার মেয়েটিকে মিথ্যা বলে বিয়ে করেছে। তার আগেও একটি বিয়ে ছিলো ,দুটি সন্তানও রয়েছে। সব কিছুই সে গোপন করেছে। যখন তার প্রতারনার কথা সাদিয়া জানতে পারে তখন থেকেই মাইনুল অগ্নিরুপ ধারণ করে। দিনের পর দিন অত্যাচার করে আমার মেয়েটিকে। এছাড়াও সে আমার মেয়েকে চাকুরি দেয়ার কথা বলে স্বর্ণালংকার ও ১৩ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে(যাহার ৮লক্ষ টাকা ফেরত দিলেও বাকি ৫ লক্ষ টাকা ফেরত দেয়নি)। যার কিছুটা মৃত্যুর আগে সাদিয়া ডায়েরিতে লিখে গিয়েছে। আমি মনে করি আমার মেয়েকে প্রতারক মাইনুল হত্যা করে ঝুলিয়ে রেখে আত্মহত্যার কথা প্রচার করেছে। ঘটনার দিন সবাইকে মাইনুল নিজেই ফোন করে সাদিয়ার মৃত্যুর কথা জানিয়েছিলো। যদি মাইনুল সেখানে না থাকতো তাহলে কিভাবে জানলো সাদিয়া মৃত্যু হয়েছে। এঘটনায় মাইনুলকে অভিযুক্ত করে আমরা মেট্রপলিটন কোতয়ালী থানায় একটি এজাহার দায়ের করেছি। কিন্ত দূঃখের বিষয় মাইনুল পুলিস সদস্য হওয়ায় এজাহারটি ৭ দিন অতিবাহিত হলেও এখনো নথিভুক্ত করা হয়নি। এমনকি পুলিশ এখনও মাইনুলকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের জন্যও প্রকাশ্যে আনেনি। অথচ আমরা জানতে পেরেছি পুলিশ হাসপাতালে মাইনুলকে আত্মগোপনে রাখা হয়েছে। ঘটনার এতদিনেও  পুলিশের কোন লোক আমাদের খবর নেয়নি। আমার মেয়ে হারিয়েছি ।  মেয়ের এ ধরনের মৃত্যু কতটা কষ্টের তা আপনাদের বোঝাতে পারবো না। আমি পুলিশ-প্রশাসনের উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষন করে ন্যায় বিচার কামনা করছি। আমি ও আমার পরিবার সাদিয়া হত্যার বিচার চাই, প্রতারক ও হত্যাকারি মাইনুলের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি।  সর্বপরি সাদিয়া হত্যায় জড়িত প্রতারক বরিশাল জেলা ডিবি পুলিশের কনস্টেবল মাইনুলের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবী করে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করছি’। 

এসময় তিনি সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বলেন, কোতায়ালী থানার ওসি আমাকে গত ৫দিন যাবৎ বিভিন্ন অজুহাতে ঘুরাচ্ছেন। অথচ মামলাটি নথীভুক্ত করছেন না। ##


এসএম
গুগল নিউজে (Google News) দৈনিক মতবাদে’র খবর পেতে ফলো করুন