কড়াপুর ইউনিয়নে দু’জনকে কুপিয়ে জখম

বরিশাল সদর উপজেলার রায়পাশা কড়াপুর ইউনিয়নের শিবপাশা গ্রামে একটি হিন্দু পরিবারের ওপর সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা ঘটেছে। এসময় ওই পরিবারে বিমল চন্দ্র (৫০) ও তার কলেজ পড়ুয়া ছেলে রবিন চন্দ্র (২০) কুপিয়ে জখম করা হয়। একই সময়ে বিমলের স্ত্রী আলো রানী দাসকে পিটিয়ে ও শরীরের বিভিন্ন অংশে কামড়ে থেতলে দেওয়া হয়।
আহতরা বর্তমানে শের ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন। সোমবার সকাল ৯টার দিকে শিবপাশা গ্রামের বসত ভিটা ধোপা বাড়ীতে এ ঘটনা ঘটে। এদিকে আহত পরিবারকে চাপে রাখতে হামলাকারীরা নিজেদের আহত দেখিয়ে মেডিকেলে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিচ্ছে।
সরেজমিনে হামলাকারীদের মেডিকেলে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নেওয়ার কোন অবস্থা দেখা যায়নি। আহতরা জানিয়েছেন, একই বাড়ীর আলকাস হোসেন ওরফে আক্কাস তাদের বসত বাড়ির জমি দখল করে নেওয়ার চক্রান্ত হিসেবে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে আহত করে। এসময় আক্কাসের দুই ছেলে সোহেল ও রাসেল মারামারিতে অংশ নেয়। মেডিকেল সূত্রে জানা যায়, আহত বিমলের পিঠে ও তার সন্তান রবিনের বাম হাতে কোপানো হয়েছে।
অপর দিকে অভিযুক্ত আলকাস জানিয়েছেন, সকাল বেলা বাড়ীর উঠানে তার ছেলেরা ফুটবল খেলতে গেলে বিমল’র পরিবার বাধা দিলে মারামারির ঘটনা ঘটে। তবে স্থানীয়রা জানিয়েছেন, মারামারির সূত্রপাত ফুটবল খেলা হলেও জমি জমার বিরোধের কারনেই ওই হিন্দু পরিবারকে কুপিয়ে পিটিয়ে আহত করা হয়েছে। আহত নারী আলো রানী দাস জানিয়েছেন, দীর্ঘদিন যাবৎ তাদের বসত ভিটা ও পুকুরের জমি দখল করে নেওয়ার পায়তারা করছে আলকাস ওরফে আক্কাস ও তার ছেলেরা। ভয়ভীতির মধ্যে রাখা হয় তার পরিবারকে। ঘটনার দিন সকালে তাদের পরিবারকে উদ্দেশ্য করে আলকাসের ছেলেরা বাড়ি ছাড়ার হুমকি দিয়ে গালাগালি করতে থাকে।
এর প্রতিবাদ করায় তার স্বামী ও ছেলেকে কুপিয়ে জখম করে। অবস্থাদৃষ্টে স্বামী সন্তারে জীবন বাঁচাতে গেলে পিটিয়ে এবং তার শরীরের বিভিন্ন অংশে কামড় দিয়ে থেতলে দেওয়া হয় বলে জানিয়েছে আলো রানী। খবর পেয়ে এয়ারপোর্ট থানা পুলিশ ঘটনা স্থলে টহল দিলে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়। তবে লিখিত অভিযোগ পেলে আসামিদের গ্রেফতার করা হবে বলে জানিয়েছেন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্ত কমলেশ চন্দ্র হালদার।
এইচকেআর