ঢাকা মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬

Motobad news

ইউক্রেনকে নিয়ে আমেরিকা-রাশিয়ার টানাটানি

ইউক্রেনকে নিয়ে আমেরিকা-রাশিয়ার টানাটানি
গুগল নিউজে (Google News) দৈনিক মতবাদে’র খবর পেতে ফলো করুন

ইউক্রেন সীমান্তে প্রচুর পরিমাণে সৈন্য ও অস্ত্র মোতায়েন করেছে রাশিয়া। ইউক্রেনের দাবি, তার পূর্ব সীমান্তে রাশিয়া প্রায় সোয়া এক লাখ সেনা মোতায়েন করেছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। সেই সঙ্গে বিপুল পরিমাণে ভারি অস্ত্র, ট্যাংক, গোলাবারুদ, যুদ্ধবিমান, ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থাসহ সরাসরি যুদ্ধের জন্য যা দরকার সবই উপস্থিত করেছে রাশিয়া। ইউক্রেন আশঙ্কা করছে, যে কোনো সময়ে সামরিক হামলা চালাবেন পুতিন। তাই আমেরিকার শরণাপন্ন হয়েছেন ইউক্রেনের বর্তমান প্রেসিডেন্ট।

আমেরিকা বলছে, ন্যাটো এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ পুরো পশ্চিমা বিশ্ব ইউক্রেনের পাশে আছে। রাশিয়াকে ব্যাপক হুমকি-ধমকি দিচ্ছে নিজেকে এখনও বিশ্বের একক ক্ষমতাধর দাবি করা এই দেশটি।
 
মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন তো আরেকধাপ এগিয়ে গেছেন। সরাসরি জানিয়ে দিয়েছেন যে, রাশিয়া আক্রমণ করলে পুতিনের এবার খবর আছে। তাকে দেখিয়ে দেবেন কত ধানে কত চাল।
সারা বিশ্বএখন মনে করছে এই বুঝি বেঁধে গেলে রাশিয়া আমেরিকার যুদ্ধ, এই বুঝি বেঁধে গেল তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ। কিন্তু বাইডেন পুতিনকে কি যে দেখিয়ে দেবেন তা হয়তো তিনি নিজেও জানেন না। যে পুতিনকে তারা বেলারুশে কিছু করতে পারল না। জর্জিয়াতে যার বিরুদ্ধে পশ্চিমা কেউ টু শব্দটি পর্যন্ত করল না। সিরিয়ায় যে পুতিনের একটা চুলও ছিঁড়তে পারল না। লিবিয়ায় যে পুতিনের বিরুদ্ধে কথা বলার শক্তিটুকু যাদের নেই। কাজাখস্তানে যে পুতিন একাই ঘোড়া ছুটালেন ইচ্ছেমতো কেউ একটা শক্ত বিবৃতি পর্যন্ত দিতে পারল না। তারা এখন হুমকি দিচ্ছে ইউক্রেনে হামলা হলে সেই পুতিনের খবর করে ছাড়বেন। দেখা যাক পুতিনের কী খবর করেন?

আচ্ছা পুতিন কি ইউক্রেন থেকে ক্রিমিয়া অঞ্চল দখল করে নেননি। ইউক্রেনের পূর্বদিকের শিল্পোন্নত ডোনবাস অঞ্চল এখন কি রাশিয়া সমর্থিত বিদ্রোহীদের দখলে না? সেখানে কি এখন যুদ্ধ চলছে না? সেখানে কি প্রতিদিন ইউক্রেনের সৈন্য মারা যাচ্ছে না? ইউক্রেনের বন্দরনগরী ওডেসা রাশিয়ার নৌবহর ঘেরাও করে রাখেনি। ইউক্রেনের উত্তরে বেলারুশের সঙ্গে এক হাজার কিলোমিটার সীমান্ত ধরে রাশিয়া সেনাবাহিনী আর ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েন করেনি? পুরো ইউক্রেনের তিন দিক হাজার হাজার সেনাবাহিনী আর অত্যাধুনিক অস্ত্র দিয়ে ঘিরে রেখেছে রাশিয়া। ওদিকে মলডোভাতেও আছে রুশ সেনা উপস্থিতি। তা হলে আর যুদ্ধের বাকিটা রইল কী?

মিস্টার দুনিয়া লিডার বললেন, রাশিয়া যদি সরাসরি আক্রমণ করে তা হলে খবর করে ছাড়বেন। অর্থাৎ পুতিন যদি সরাসরি তার সেনাবাহিনী নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ে, ইউক্রেনের ওপর এবং ইউক্রেন দখল করে নেয় তখন তিনি পুতিনকে মহা শাস্তি দেবেন। পুতিন কি এত বোকা নাকি। যে দেশকে ভেতর থেকে অভ্যুত্থান ঘটিয়ে অথবা বিদ্রোহীদের অস্ত্র দিয়ে যে দেশের অনেকাংশ দখল করা সম্ভব। অর্থাৎ যেখানে প্রক্সি যুদ্ধ চালিয়ে সফলতা পাওয়া সম্ভব পুতিন সেখানে নিজ সেনাবাহিনী পাঠিয়ে কনভেনশনাল যুদ্ধে জড়াবেন কেন? মিস্টার দুনিয়া লিডারও এটা জানেন। ভালো করেই জানেন যে পুতিন ইউক্রেনে সরাসরি সেনাবাহিনী পাঠাবে না। বাইডেন আসলে এই হুমকি দিয়ে মূলত রাশিয়াকে ক্ষেপাতে চাইছেন। ইউক্রেনে আরেকটা প্রক্সি যুদ্ধ চাইছেন। নয়ত অন্তত যুদ্ধ যুদ্ধ পরিস্থিতি বজায় রেখে ইউরোপ এবং ন্যাটোকে দৃঢ় করতে চাইছে। ইউরোপ এবং ন্যাটোকে দেখাতে চাইছে যে দেখো রাশিয়া আসলে সেনাবাহিনী পাঠাত কিন্তু আমাদের সামষ্টিক শক্তি দেখে রাশিয়া ভয় পেয়েছে তাই সেনা পাঠায়নি।

এখানে পুতিনেরও যেমন আসল উদ্দেশ্য ইউক্রেনকে দখল করা না, বাইডেনেরও তেমন আসল উদ্দেশ্য ইউক্রেনকে সহযোগিতা করা না। তা না হলে পুতিন তিন দিক দিয়ে ইউক্রেনের মধ্যে সেনা ঢুকিয়ে দিলে তাদের রুখে দেওয়ার মতো কোনো শক্তি বা ক্ষমতা ইউক্রেনের নেই।
আবার বাইডেন যদি সত্যি সত্যি রাশিয়ার সর্বাত্মক আক্রমণের বিরুদ্ধে ইউক্রেনকে বাঁচাতে চাইতেন তা হলে কাঁধ থেকে ছোড়া যায় এমন কিছু ট্যাংক বিধ্বংসী স্বল্পপাল্লার মিসাইল পাঠাতেন না ইউক্রেনে। তিনি ক্ষেপণাস্ত্রব্যবস্থা পাঠাতেন। যুদ্ধবিমান পাঠাতেন। যুদ্ধজাহাজ পাঠাতেন কৃষ্ণ সাগরে। বিমানবাহী রণতরী পাঠাতেন এজিয়ান সাগরে। হাজার হাজার ন্যাটো সেনা মোতায়েন করতেন ইউক্রেনে। কিন্তু সেগুলো করছেন না। ইউক্রেনকে এমন কিছু অস্ত্র দিচ্ছেন যা দিয়ে শুধু গেরিলাযুদ্ধ সম্ভব।রাশিয়ার সর্বাত্মক আক্রমণে ইউক্রেনের সেনাবাহিনী গেরিলা যুদ্ধ করলে তো দেশের অর্ধেক এমনিতেই রাশিয়ার অধীনে চলে যাবে।
আসলে এখানে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধও হচ্ছে না। আর আমেরিকা, ন্যাটো বা ইউরোপ ইউক্রেনকে সাহায্য করতে ছুটেও আসছে না। আসল ঘটনা হচ্ছে ইউক্রেনকে ব্যবহার করে রাশিয়া এবং আমেরিকা নতুন কিছু দরকষাকষি করছে। নতুন কিছু চুক্তি করতে চাইছে। যে চুক্তিগুলো আসলে ইউক্রেনের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত না; তবে ভবিষ্যতের বিশ্বরাজনীতিতে প্রভাব বিস্তার করবে। যেগুলো আগামীর বিশ্বে সামরিক, সাইবার এবং নিরাপত্তাসংক্রান্ত অনেক বিষয়কে সামনে নিয়ে আসবে। আগামীর বিশ্বের ক্ষমতা ভাগাভাগির দরকষাকষি হচ্ছে মূলত রাশিয়া এবং আমেরিকার মধ্যে। যেমনটি হয়েছিলো ১৯৬২ সালে কিউবাকে নিয়ে। তখন আমেরিকা কিউবাকে ঘিরে ফেলেছিল। কিন্তু রাশিয়া কিউবায় পারমাণবিক বোমা বহনকারী মিসাইল পাঠিয়েছিল যা আমেরিকার সবগুলো অঙ্গরাজ্যে আঘাত করতে সক্ষম। তখন মনে হচ্ছিল যে কিউবাতে আমেরিকা এবং রাশিয়ার মধ্যে যুদ্ধ বেঁধে যাবে। কিন্তু আমেরিকার একেবারে ঘরের পেছনে গিয়ে কিউবায় স্থাপন করা সেই রাশিয়ার মিসাইল সরানোর জন্য তখন এ দুই দেশের মধ্যে কিছু গোপন চিঠি চালাচালি হয় তখন এবং কিছু চুক্তি হয়। সেই চুক্তির মধ্যের একটি ছিল আমেরিকা তথা ন্যাটোর পক্ষ থেকে তুরস্কে স্থাপিত পারমানবিক অস্ত্র সরিয়ে নিতে হবে। এবং আমেরিকা তথা ন্যাটো রাশিয়ার উপর কোন ধরণের হুমকি সৃষ্টি করতে পারবে না।


এমবি
গুগল নিউজে (Google News) দৈনিক মতবাদে’র খবর পেতে ফলো করুন