দারিদ্রতাকে জয় করে সুমা রায়ের সাফাল্য

জন্মদাতা পিতার ভিক্ষাবৃত্তিতে চলে সংসার। পরনে ভালো কোন জামা নেই, পেট ভরে দু’বেলা খেতে পায় না তারা। খাবারের অভাবে অনেক দিন খাবার না খেয়ে স্কুলে যেতে হতো সুমা রায়ের।
দারিদ্রতা ও ক্ষুধাকে জয় করে বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলার বারপাইকা গ্রামের অশোক রায়ের মেয়ে সুমা রায় বারপাইকা মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে চলতি এসএসসি পরীক্ষার বিজ্ঞান বিভাগে জিপিএ-৫ পেয়েছে। সুমা রায়ের পিতা-মাতা বুঝেনা জিপিএ-৫ কি জিনিস। তারা বুঝে তার মেয়ে ভালো পাশ করেছে। অশোক রায়ের ২ মেয়ে, ১ ছেলে ও স্ত্রীকে নিয়ে ৫ জনের এই অভাবের সংসারে সুমা রায় ভাই-বোনদের মধ্যে বড়।
সুমা রায় জানায়, তার বাবা-মা ও ভাই-বোন নিয়ে ৫ জনের সংসার। সুমা ভাই-বোনদের মধ্যে বড়। তার পিতা অশোক রায় একজন প্রতিবন্ধী। পিতার ভিক্ষার টাকায় চলে আমাদের সংসার। এছাড়া সরকারি ভাবে কোন সাহায্য সহযোগিতা পাননা তিনি। সুমা আরও জানায়, মানুষের জমিতে কাজ করে লেখাপড়া চালিয়ে এসেছি এতোদিন। কিন্তু কি করো ভালো কলেজে পড়াশুনা করবো সেটাই ভেবে পাচ্ছি না। আমাদের ঘর নেই, পড়ার একটি টেবিল পর্যন্ত ছিল না। আমার ভালো একটি জামাও নেই। ঘরে খাবার থাকতো না। আমি না খেয়ে অনেকদিনই স্কুলে যেতাম। আমার বই কেনার মতো কোন সামর্থ ছিলোনা। সহপাঠিদের কাছ থেকে বই ধার করে নিয়ে পড়াশুনা করতে হতো আমার। বহুকষ্ট হতো তবু লেখাপড়া ছাড়িনি। আমার স্বপ্ন ছিলো লেখাপড়া করে আমি একজন চিকিৎসক হবো। দেশের অসহায় মানুষের সেবা করবো। আজ হয়তো আমার সে আশা পুরণ হবেনা। আমার কলেজে ভর্তি এবং লেখাপড়া করার মতো কোন সামর্থ নেই। এসএসসি পরীক্ষার যেদিন ফল প্রকাশ হয়েছে সেদিনও আমাদের ঘরে কোন খাবার ছিলো না। আমি সকালে অন্যের জমিতে ধানের চারা রোপন করতে গিয়েছি। জমি থেকে সন্ধ্যায় বাড়ি এসে তার পরে শিক্ষকদের কাছে আমার ফলাফল জানতে গিয়েছি। তখন আমি জানতে পারি আমি জিপিএ-৫ পেয়েছি। আমার কাছে তখন কোন টাকা ছিলোনা একটি মিষ্টি কেনার।
সুমা রায়ের মা শিখা রায় বলেন, মোর মাইয়া শুনছি ভালো পাশ করেছে, জিপিএ-৫ কি তা মুই কিছু বুঝিনা। মোগো টাকা পয়সা নাই, মোর মাইয়ারে আর লেহা পড়া করাইতে পারমুনা, এই যেডু লোহাপড়া করছে কতোদিন না খাইয়া স্কুলে গেছে। মোর স্বামী মানুষের বাড়ি বাড়ি গিয়া প্রতিদিন চাই চাই (ভিক্ষা করে) যা আনে হেইয়াই খাই। আবার কোন দিন না খাইয়া থাকি। সুমা রায়ের পিতা অশোক রায় বলেন, মুই এই লেহাপড়া কি তা বুঝিনা। শুনি মাইয়াডা ভালো পাশ করছে। ভালো পাশ কইরা কি হইবে। মুই তো ভিক্ষা করি। ভিক্ষা কইরা খাইতে পারি না; ল্যাহা পড়ার টাহা দিমু কোথার তা।
স্থানীয় সৈকত বাড়ৈ, মলয় ঘটক বলেন, এই পরিবারটি অত্যন্ত গরিব ও দরিদ্র। সুমা রায় একজন প্রতিভাবান শিক্ষার্থী। এব্যাপারে বারপাইকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক পরিমল চন্দ্র রায় বলেন, সুমা রায় একজন মেধাবী ছাত্রী সে দরিদ্র পরিবারের সন্তান। সুমা রায় দরিদ্র পরিবারের সন্তান হওয়াতে তার কাছ থেকে স্কুল নাম মাত্র বেতন নিতো। তবে এই মেধাবী ছাত্রীকে দেশের দানশীল ব্যক্তিরা সহযোগিতা করলে সুমা রায়ের ইচ্ছেনুযায়ী চিকিৎসক হওয়া সম্ভব।
এইচকেআর