চাঁদপাশায় ২২০০ ভোটের বিশাল ব্যবধানে নৌকার জয়

উৎসবমুখর পরিবেশে ২ হাজার ২০০ ভোটের বিশাল ব্যবধানে কিস্তিমাত করেছেন বীর মুক্তিযোদ্ধা দেলোয়ার হোসেন রাঢ়ী। বাবুগঞ্জ উপজেলার চাঁদপাশা ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী বীর মুক্তিযোদ্ধা দেলোয়ার হোসেন রাঢ়ী নৌকা প্রতীকে ৫ হাজার ৭৫৬ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ওয়ার্কার্স পার্টির প্রার্থী আনিছুর রহমান সবুজ হাতুড়ি প্রতীকে পেয়েছেন ৩ হাজার ৫৫৬ ভোট। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বর্তমান চেয়ারম্যান আনিছুর রহমান সবুজের চেয়ে ২ হাজার ২০০ ভোট বেশি পেয়ে চমক দেখিয়েছেন তিনি।
বীর মুক্তিযোদ্ধা দেলোয়ার হোসেন রাঢ়ীর অপর প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী (স্বতন্ত্র) উপজেলা বিএনপির যুগ্ম-সম্পাদক আলমগীর হোসেন স্বপন মোটরসাইকেল প্রতীকে ২ হাজার ১৪৬ ভোট পেয়ে রয়েছেন তৃতীয় অবস্থানে। নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী মোট ৬ প্রার্থীর মধ্যে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের শাহজাহান হাওলাদার হাতপাখা প্রতীকে পেয়েছেন ১ হাজার ৯৪৫ ভোট। এছাড়াও স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নেওয়া অপর ২ জন প্রার্থীর মধ্যে জামায়াত ইসলামের উপজেলা সেক্রেটারি রফিকুল ইসলাম আনারস প্রতীকে ১ হাজার ২৫১ ভোট এবং বিএনপি নেতা কাওসার হোসেন ঘোড়া প্রতীকে ১৪৯ ভোট পেয়েছেন।
রোববার (২৬ ডিসেম্বর) চতুর্থ ধাপে অনুষ্ঠিত চাঁদপাশা ইউনিয়ন পরিষদের ওই নির্বাচনে রাত সাড়ে ৮টার দিকে উপজেলা অডিটোরিয়ামে ফলাফল সংগ্রহ ও পরিবেশন কেন্দ্রে আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনের ফল ঘোষণা করেন রিটার্নিং অফিসার উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মোঃ সাইফুল ইসলাম। এসময় আওয়ামী লীগের প্রার্থী বীর মুক্তিযোদ্ধা দেলোয়ার হোসেন রাঢ়ীকে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত ঘোষণা করে তার হাতে ফলাফলের স্বাক্ষরিত কপি হস্তান্তর করেন রিটার্নিং অফিসার।
এসময় সেখানে বাবুগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান কাজী ইমদাদুল হক দুলাল, উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি এস.এম খালেদ হোসেন স্বপন, সাধারণ সম্পাদক ও রহমতপুর ইউপি চেয়ারম্যান মৃধা মুহঃ আক্তার-উজ-জামান মিলন, ফলাফল সংগ্রহ ও পরিবেশন কেন্দ্রের সমন্বয়কারী বিআরডিবি কর্মকর্তা মোঃ ওবায়দুল্লাহ, উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা সাদিকুর রহমান সুরুজ, জাতীয় পার্টির সভাপতি মকিতুর রহমান কিসলু, সাবেক মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান রিফাত জাহান তাপসী প্রমুখসহ আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
প্রথমবারের মতো ইভিএম পদ্ধতিতে অনুষ্ঠিত চাঁদপাশা ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে ২৩ হাজার ১৭৭ জন ভোটারের মধ্যে ১৪ হাজার ৮৪৩ জন ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন। এরমধ্যে ৪০টি ভোট বাতিল হয়। ভোট প্রদানের শতকরা হার ৬৪.০৪%। তবে কয়েকটি কেন্দ্রে ইভিএম মেশিনে যান্ত্রিক গোলযোগ এবং বয়স্ক ভোটারদের ফিঙ্গারপ্রিন্ট ম্যাচ না করায় ১১টি ভোটকেন্দ্রে প্রায় কয়েকশো ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেননি বলে অভিযোগ করেছেন।
এমবি