ঢাকা মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬

Motobad news

বরিশালে বড়দিনের আনুষ্ঠানিকতা শুরু

বরিশালে বড়দিনের আনুষ্ঠানিকতা শুরু
গুগল নিউজে (Google News) দৈনিক মতবাদে’র খবর পেতে ফলো করুন

যথাযথ ধর্মীয় মর্যাদায় খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শুভ বড়দিনের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়েছে । নানা আয়োজন ও আনন্দ-উৎসবের মধ্যদিয়ে বরিশালেরর খ্রিস্টান সম্প্রদায় দিনটি পালন করবে। বড়দিনের অগের রাতে শুক্রবার এবং উৎসবের দিনের শনিবার ভোরের আলো ফোটার সঙ্গে সঙ্গেই গির্জাগুলোয় কয়েকটি পর্বে বিশেষ প্রার্থনা অনুষ্ঠিত হয়।

বরিশালের অক্সফোর্ড মিশনের ফাদার ফ্রান্সিস অরুণেশ পান্ডে ও ফাদার জন, এ্যাংলিকান চার্চের রেভারেন্ডঅ্যালবার্ট হালদার,ব্যাপ্টিষ্ট মিশনের রেভারেন্ড খোকন রায় এবং ক্যাথলিক গির্জার স্থানীয় পুরোহিতদের পৌরহিত্যে নিজ নিজ চার্চের খ্রিস্টভক্তরা বাইবেল পাঠ ও সমবেত চার্চসংগীত এবং মঙ্গলযজ্ঞের মাধ্যমে যিশুকে ধরাধামে আহ্বান জানিয়ে শান্তি, সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্যের বার্তা যেন সারাবিশ্বে ছড়িয়ে পড়ে যিশুভক্তদের এমোন প্রার্থনায় মুখরিত হয়েছে বরিশালের প্রতিটি গির্জার বিশেষ প্রার্থনানুষ্ঠান। প্রার্থনা শেষে শিশুদের মধ্যে উপহার সামগ্রী বিনিময়ের মাধ্যমেও এ-দিনের আনন্দ বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে সান্তাক্লজ। সব গির্জার আশপাশে রঙিন বাতি জ্বালিয়ে ব্যাপক অলোকসজ্জা করা হয়েছে। ঝলমলে ঝালর ও প্রচুর জরির ঝালর লাগিয়ে গির্জার ভেতরেও এক স্বপ্নিল পরিবেশ সাজিয়ে অনেকেই বেথলেহমের ঐতিহ্যবাহী প্রতিকী গোশালা স্থাপন করেছেন এবং রঙিন কাগজ, ফুল ও ছোট ছোট নানা রঙের চুনিবাল্বের আলোকসজ্জা ছড়িয়ে সাজিয়েছেন অপরূপ ক্রিসমাস ট্রি।

বড়দিন উপলক্ষে খ্রিষ্টান পরিবারগুলোতে কেক তৈরি করার পাশাপাশি ছিল দেশীয় বিভিন্ন পিঠা পায়েস এবং বিশেষ খাবারের আয়োজন।এদিনে গির্জাসহ খ্রিষ্টান পরিবারগুলোও নিজস্ব উদ্যোগে ঘরে ঘরেও ক্রিসমাস ট্রি সাজিয়েন এবং প্রত্যেকেই তৈরিকৃত ঘরে বানানো কেক কেটে ও মোমবাতি জ্বালিয়ে দিনটিকে উৎসবমুখর করে তুলেছেন। দিবসটি উপলক্ষে আজ ছিল সরকারি ছুটির দিন।

জানা যায়,বরিশালের যিশুভক্তরা খ্রিস্টের আগমনী বার্তা প্রচারের উদ্দেশ্যে বিগত ২০ ডিসেম্বর থেকে বরিশালের কাশীপুর খ্রিস্টান কলোনী,কাউনিয়ায়া খিস্টান পাড়া,মতাশা খ্রিস্টান কলোনী,কলেজ রো খিস্টান পাড়া,নবগ্রাম গোলপুকুর পাড় খ্রিস্টান কলোনী,সাগরদী খ্রিস্টান পাড়া,ব্যাপ্টিষ্ট মিশন উইলিয়াম পাড়া,কাথলিক খ্রিস্টান পাড়াসহ এখানকার খ্রিস্টান অধ্যুষিত পাড়ায় পাড়ায় শিশু-কিশোর যুবক-যুবতী ও বৃদ্ধরা একত্রিত হয়ে বাড়ি বাড়ি গিয়ে কীর্তন ও হাউজ ক্যারল করে খ্রিস্ট আগমনের আনন্দ প্রকাশ ও খ্রিস্টের প্রেম ভাগাভাগি করেছেন খ্রিস্টভক্তরা। এ ছাড়া বরিশাল বিভাগীয় জেলা শহরের বাইরেও বড়দিনের সবচেয়ে বড় উৎসবের আয়োজন করা হয়েছে জেলার বাকেরগঞ্জ উপজেলার পাদ্রীশিবপুরের পথ-প্রদর্শিকা কুমারী মারিয়া গির্জায় ।

একইভাবে গৌরনদী উপজেলা সদরের ক্যাথলিক মিশন এবং আগৈলঝাড়া উপজেলার খ্রিস্টভক্ত অধ্যুষিত যোবারপাড়,সুবিকারপাড়,কাঠিরা,নাগিরপাড়,ধানডোবা এবং পয়সারহাট এলাকায়ও বড়দিনের জাঁকজমকপূর্ণ নানা উৎসব আয়োজনের মাধ্যমে এ অঞ্চলের খ্রিস্টান সম্প্রদায় তাদের সর্ববৃহৎ বড়দিন পালন করেছেন। এদিকে যিশু খ্রিস্টের জন্মদিনের (বড়দিন) উৎসব ঘিরে যাতে কোনও ধরনের নাশকতা না ঘটে এবং  বড়দিনের সার্বিক অনুষ্ঠান নির্বিঘ্ন,শান্তিপূর্ণ এবং উৎসবমুখর করতে নগরীর সবগুলো গির্জা এবং খিস্টান পাড়াগুলো বাড়তি ও কঠোর নিরাপত্তার ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এ বিষয় বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার

মো.শাহাবুদ্দিন খান জানান,বড়দিন উৎসব ঘিরে শহরের গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্বি করা হয়েছে। পুলিশের পেট্রোলিং এবং চেকপোস্টের কার্যক্রম বাড়ানোসহ নিয়মিত পুলিশের সঙ্গে সাদা পোষাকের গোয়েন্দা টিমও কাজ করছে। উল্লেখ্য, এই দিনে প্যালেস্টাইনের বেথলেহম নগরীতে জন্মগ্রহণ করেন খ্রিস্টধর্মের প্রবর্তক যিশুখ্রিস্ট। খ্রিষ্টান ধর্মাবলম্বীরা বিশ্বাস করে, যীশু পৃথিবীতে এসে পাপীকে নিরঙ্কুশ ক্ষমার আলিঙ্গনে আবদ্ধ করেছেন; মৃতকে জীবনদান করেছেন; অবহেলিত ও অবাঞ্চিতকে মানবিক মূল্য দিয়েছেন, পাপময়তার বন্দীদশা থেকে মানুষকে মুক্ত করেছেন। আমাদের দেশে ও সমাজে এই মুক্তি ও আনন্দের আজ ভীষণ প্রয়োজন। পৃথিবীতে শান্তির বাণী ছড়িয়ে দিয়ে, মানব জাতিকে সত্য ও ন্যায়ের পথে পরিচালিত করতেই মর্তের মাটিতে যিশুখ্রিস্টের আগমন ঘটেছিল।

 


এইচকেআর
গুগল নিউজে (Google News) দৈনিক মতবাদে’র খবর পেতে ফলো করুন